ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কোরিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ, ঋণ সহায়তার বাইরে


কোরিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ, ঋণ সহায়তার বাইরে

ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ও রিপাবলিক অব কোরিয়া বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অবকাঠামো, উদ্ভাবনী অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতার উপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

এই অঙ্গীকারটি কোরিয়ায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সরকারি সফরের দ্বিতীয় কার্যদিবসে (মঙ্গলবার) আরও জোরালো হয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সফরকালে তিনি কোরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কেইএক্সআইএম, কেআইসি এবং বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আরও পড়ুন: ওয়েল্ডিং মেশিনের আড়ালে দেশে আনা ১১৪ বিদেশি বন্যপ্রাণী, আটক ১

বাংলাদেশ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের পরবর্তী পর্যায়ের রূপান্তরে কোরিয়া একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম।

ইডিসিএফ সহযোগিতা ও অগ্রাধিকার প্রকল্পসমূহ:

কেইএক্সআইএম’র চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোয়াং কিয়ন-এর সঙ্গে বৈঠকে দুই পক্ষ ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) কাঠামোগত চুক্তি পর্যালোচনা করে। এছাড়া অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ অংশ, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ নিয়ে আলোচনা হয়।

কেইএক্সআইএম জানায়, বর্তমানে ইডিসিএফের অগ্রাধিকারগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কোরিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশ পক্ষ ইডিসিএফ-এর অবশিষ্ট তহবিল ব্যবহারের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো ও টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো উদীয়মান খাতগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

আরও পড়ুন: শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

কৌশলগত অর্থনৈতিক সংলাপ:

রিপাবলিক অব কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ভাইস মিনিস্টার চ্যাং হুর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বাংলাদেশ-কোরিয়া সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানান।

এ সময় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নত উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ তুলে ধরে বাংলাদেশ।

এছাড়া, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর সহায়তায় পরিচালিত ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি)’ উদ্যোগের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে কোরিয়া যে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে, বাংলাদেশ তার প্রশংসা করেছে।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর ঢাকায় বিএনপির শোভাযাত্রা, নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী কোরিয়াকে এই উদ্যোগের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যমান সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

কোরীয় পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন, ভবিষ্যতে ইডিসিএফ সহযোগিতা এবং আইজিএনডিতে আরও সম্পৃক্ততার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে।

কোরিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণ:

কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক অন্যান্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরামের অভিভাবক পরিষদ পুনর্গঠন, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সভরেন ফান্ড’- যার সম্ভাব্য আকার ১ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে- তা বিনিয়োগের একটি মাধ্যম হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি কোরীয় তহবিল ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগ ও কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন সমন্বয়ের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তর:

বাংলাদেশ ও কোরিয়ার সহযোগিতার একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিহ্নিত হয়েছে। বাংলাদেশের এআই-বিষয়ক লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে কোরিয়া সরকারের এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগের গভীর মিল রয়েছে।

এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের দাফন সম্পন্ন, গার্ড অব অনার না দেওয়ায় ক্ষোভ

বাংলাদেশ নিজেকে একটি আঞ্চলিক এআই ও ডেটা-সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছে। ‘ফিউরিওসা এআই’-এর সাথে আলোচনায় বাংলাদেশের উচ্চমূল্য সংযোজনকারী এআই ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক এআই-যুক্ত অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

কোরীয় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ:

জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, উন্নত উৎপাদনশিল্প, নগর উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে কোরীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।

স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে বৈঠকে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নগর উন্নয়ন, পর্যটন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছাদ ও বৃহৎ পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নির্বাচিত নগর উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে।

আরও পড়ুন: সঞ্চয় বাড়াতে চান? বিনিয়োগের আগে বিবেচনায় রাখুন ৫ বিষয়

স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি শুধু প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) ঠিকাদারি কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো নিয়ে কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখতেও উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

ইয়ংওয়ানের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগবিষয়ক এক ব্যবসায়িক বৈঠকে বাংলাদেশ হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে। পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোরিয়ার সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার জন্য দেশটির কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পথে:

আলোচনায় ঐতিহ্যগত উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-কোরিয়া সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ কর্মসূচিতে কোরীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সংস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে স্বাগত জানানো হয়।

উভয় পক্ষই এই আলোচনাগুলোকে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প, বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক লাভজনক ফলাফলে রূপান্তর করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও জলবায়ু সহিষ্ণু খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃষিকে টিকিয়ে রাখা এবং উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়াতে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির বিকল্প নেই।"

‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ উপলক্ষে (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী এ মেলা, যা ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে বাঁচলে কৃষক, বাঁচবে দেশ।" তিনি উল্লেখ করেন, সনাতন কৃষিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় শুধু উৎপাদনশীলতা বাড়াবে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখবে। তরুণ প্রজন্মকে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষিতে আকৃষ্ট করাও সম্ভব হবে।

তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে কৃষি। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই উন্নয়নে কৃষি এবং কৃষকের অবদান অপরিসীম। এ কারণে কৃষকের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, উৎপাদন ব্যয় কমানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশেও এটি ইতিবাচক অবদান রাখবে।

মেলায় আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শস্য সংরক্ষণ, দুগ্ধ ও পোলট্রি উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে জনগণ। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষিবীমা এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ ছাড়া তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কৃষক তার শ্রমের ন্যায্য প্রতিদান পাবেন, উৎপাদন হবে অধিকতর লাভজনক এবং গ্রামীণ অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর। কৃষক ও কৃষির সমৃদ্ধির মধ্য দিয়েই সরকার স্বনির্ভর, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিল্পাঞ্চলে চলমান সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


শিল্পাঞ্চলে চলমান সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিল্পাঞ্চলে চলমান সহিংসতা ও অশান্তির বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইনের খসড়া পর্যালোচনা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘শ্রমিক নয়, এমন কিছু ব্যক্তি আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং কোথাও কোথাও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। কিছু ইন্ডাস্ট্রির মালিকও রয়েছেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তারা এর সঙ্গে জড়িত। অশান্তি সৃষ্টি করতে তাদের একটা রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তারা দেশে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।’

এ বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হয়তো কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা করছে। আর সেটা এখানে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আমরা কঠোর হাতে সেটা দমনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।’

শ্রমিকদের যেকোনো ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করার জন্য সরকার প্রস্তুত জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যেকোনো ন্যায্য দাবি-দাওয়ার পক্ষে আমরা সবসময় কথা শুনতে রাজি। এজন্য নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে, তারা সেখানে যাবে। মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সবাই স্বীকার করেছেন, এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়। বিভিন্নভাবে একটা রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির জন্য কেউ কেউ সুযোগ নিচ্ছে, শ্রমিকদের ব্যবহারের সুযোগ নিচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠন করা। সেটা যথেষ্ট সময়ের আগে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বোর্ড গঠনের জন্য শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধির নাম দিতে কিছুটা সময় নিয়েছিল। তা না হলে আরও দু’সপ্তাহ আগেই বোর্ড গঠন করতে পারতাম।’

মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ এবং অন্যান্য যারা রয়েছেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান সবার বক্তব্য শুনবেন। অতীতে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর যে মজুরি নির্ধারণ হতো, তার মধ্যে কী হারে বৃদ্ধি হয়েছিল, সেটাকে পাঁচ দিয়ে ভাগ করবেন, তারপরে তিন দিয়ে গুণ করবেন। ইকোনমিক ভ্যালু কীভাবে হয়েছে, কীভাবে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি হয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক সঙ্গতি, মালিকপক্ষের যুক্তি, শ্রমিকপক্ষের যুক্তি মিলে একটা যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে।’

মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা মজুরি বোর্ড দেখবে। তবে আমরা বলেছি, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যেন সেটা ঘোষণা হয়। যাতে শ্রমিকদের জানুয়ারি থেকে এটা কার্যকর হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা প্রস্তাব, পিএসসি সংস্কার ও সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা প্রস্তাব, পিএসসি সংস্কার ও সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা দাবি

জুলাই সনদের আলোকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পেশ করেছে ১৩ দফা প্রস্তাব, যা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের দাবি করে। সংগঠনটি সরকারি নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।

বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডাকসু ভবনের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনের সময় ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, "ছাত্র-জনতার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা।" তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে এবং গণভোটে ৬৯ শতাংশ মানুষের রায় ও রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিচার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করা হচ্ছে।" প্রশ্নফাঁস, মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক নম্বর বৃদ্ধি, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের বাদ দেওয়া এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের সংস্কৃতি রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি মন্তব্য করেন, "সরকারি চাকরিকে কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত কর্মীদের পুরস্কৃত করার সুযোগ নয়।" এটি রাষ্ট্রের সেবা করার দায়িত্ব। তাই নিয়োগ হতে হবে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে। তিনি বলেন, "কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা তার পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যেন নিয়োগে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।"

পিএসসির সংস্কার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোডভিত্তিক লিখিত খাতা মূল্যায়ন, কম্পিটেন্সি বেইজড ইন্টারভিউ, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা জোরদার এবং ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি নিয়োগব্যবস্থাকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, "এসব উদ্যোগ বহাল রাখার পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত পদায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।"

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে এক হাজার ২০০ জনের বেশি প্রার্থীকে নিয়োগপত্র না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, "রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীদের বাদ দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্য সৃষ্টি সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতার সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থি।"

সংবাদ সম্মেলনে পেশকৃত ১৩ দফা প্রস্তাবের মূল দিকসমূহ

১. পিএসসি সংস্কার: জুলাই সনদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার এবং চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন করা।

২. পিএসসির আওতা সম্প্রসারণ: নবম ও দশম গ্রেডসহ সব সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া পিএসসির অধীনে সম্পন্ন করা এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আর্থিক হস্তক্ষেপ বন্ধ রাখা।

৩. নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ: লিখিত পরীক্ষার কোডভিত্তিক মূল্যায়ন, ১০০ নম্বরের ভাইভা, ডিজিটালি প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ ও ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি বহাল রাখা। শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ করে সমন্বিত বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা এবং ১২ মাসের মধ্যে পদায়ন সম্পন্ন করা।

৪. সহজ ও নিরপেক্ষ ভেরিফিকেশন: পুলিশ ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড লিখিতভাবে প্রকাশ, এনআইডি ও অফিশিয়াল অপরাধ রেকর্ডের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। নেতিবাচক তথ্য থাকলে প্রার্থীকে লিখিতভাবে জানানো এবং আপিলের সুযোগ প্রদান করা।

৫. ভাইভায় স্বচ্ছতা: অসংগতি রোধে ভাইভার অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা এবং লিখিত পরীক্ষায় এগিয়ে থাকা প্রার্থীর নম্বর ভাইভায় ইচ্ছাকৃতভাবে কম-বেশি করার প্রবণতা বন্ধ করা।

৬. আইন সংস্কার: সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ৮, ১৯ ও ২০ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন করে রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে মেধা, সততা ও পেশাদারিত্বকে চাকরির মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজির হোছাইন জুয়েল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক সুমন সরকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খানসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীন আকস্মিক দিক পরিবর্তনকারী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


চীন আকস্মিক দিক পরিবর্তনকারী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল

চীন পিপলস লিবারেশন আর্মার্ড/এয়ার ফোর্সের একটি এইচকিউ-৯বি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দুটি লক্ষ্যবস্তু ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে। এই পরীক্ষার সফলতা চীনের প্রধান দূরপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা প্রকাশ করে।

পরীক্ষার সময় একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তার নির্ধারিত গতিপথ পরিবর্তন করে হঠাৎ খাড়াভাবে নিচের দিকে নেমে আসে। এর ফলে আত্মরক্ষার দায়িত্বে থাকা ইউনিটটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে হয়। অপ্রত্যাশিত ও জটিল গতিপথের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে চীনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর যে সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, এই মহড়া তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। লক্ষ্যবস্তুর এ ধরনের দিক পরিবর্তনের কারণে দ্রুত হুমকি চিহ্নিতকরণ ও আঘাত হানার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।

এই পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ছিল গতিপথ পরিবর্তনকারী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা। সাধারণ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সেটিকে আকাশেই ধ্বংস করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। গতিপথ পরিবর্তনকারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দেয়, কারণ এদের পরবর্তী দিক অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রথাগত গণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যায়।

এই মহড়াটি পরিচালনা করে পিএলএ বিমান বাহিনীর ‘শেনওয়েই মিসাইল ব্যাটালিয়ন’। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যাটালিয়নের কর্মীরা জানান, কোন ধরনের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে হবে সে বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। হামলার মুখে থাকা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হঠাৎ করে দিক পরিবর্তন করে দ্রুত নিচে নেমে এলে ইউনিটটি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। ব্যাটালিয়নের সদস্যরা জোর দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র এক বা দুই সেকেন্ড দেরি হলেও ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেত।

বর্তমান বিশ্বে গতিপথ পরিবর্তনে সক্ষম পুনর্প্রবেশকারী যান এবং উন্নত ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি দেশ এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরিতে বিনিয়োগ করছে, যা উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। চীন নিজেও ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিলসহ বেশ কিছু উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা প্রতিরক্ষা বেষ্টনী ভেদ করতে সক্ষম। ফলে মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনকারী এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের সক্ষমতা চীনের সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় বড় ধরনের সুবিধা দেবে।

চীনের বিস্তৃত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এইচকিউ-৯বি। সম্প্রতি চীন নতুন প্রযুক্তির উচ্চ স্তরের বিধ্বংসী ব্যবস্থা যুক্ত করেছে—যার মধ্যে অন্যতম হলো এইচকিউ-১৯ এবং এইচকিউ-২৯। এর মধ্যে এইচকিউ-২৯ হলো রাশিয়ার বাইরে একমাত্র সড়ক-পরিবহনযোগ্য ব্যবস্থা, যা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ধ্বংস করতে সক্ষম।

এইচকিউ-৯ ব্যবস্থার ধারাবাহিক আধুনিকীকরণ দেখে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন প্রজন্মের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ও সফটওয়্যার যুক্ত করে ভবিষ্যতে এটিকে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিল ধ্বংসের উপযোগী করে গড়ে তোলা হতে পারে। হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিলগুলো অত্যাধিক গতির সাথে দিক পরিবর্তনের ক্ষমতার সমন্বয় ঘটায়, যা রাডার ট্র্যাকিং জটিল করে তোলে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমিয়ে দেয়। তবে গতিপথ পরিবর্তনকারী ব্যালাস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে পারলেই যে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিল সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা যাবে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%