ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঘোষণার আট বছরেও সুন্দরবনে দস্যুতা অব্যাহত, আতঙ্কে বনজীবীরা


ঘোষণার আট বছরেও সুন্দরবনে দস্যুতা অব্যাহত, আতঙ্কে বনজীবীরা

আজ সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার আট বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পরও বন ও জলদস্যুদের কার্যক্রম থেমে থাকেনি। এখনো বনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যাওয়া জেলেরা এবং বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে বিভিন্ন দস্যু বাহিনী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে বর্তমানে অন্তত ১১টি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীতে শতাধিক সদস্য সক্রিয় রয়েছে।

সম্প্রতি কোস্ট গার্ড ও এসআরবি-৬-এর ধারাবাহিক অভিযানে জিম্মি জেলেদের উদ্ধার, বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ এবং দস্যুদের আস্তানার সন্ধান পাওয়ার ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একদিকে যেমন দস্যু দমনের অভিযান চলছে, অন্যদিকে জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং বনের সম্পদ লুটের ঘটনার মতো ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

এক সময় জলদস্যু ও বনদস্যুদের আতঙ্কে সুন্দরবনে মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ কিংবা গোলপাতা কাটতে যাওয়া ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণের দাবিতে বনজীবীরা অতিষ্ঠ ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৩২টি দস্যু বাহিনীর ৩২৮ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের কাছ থেকে ৪৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২২ হাজার ৫০৪টি গোলাবারুদ জমা নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর আরো ছয়টি দস্যু বাহিনীর ৫৪ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ওই দিনই সুন্দরবনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখনও সুন্দরবন কিংবা বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকা নিরাপদ হয়নি।

আরও পড়ুন: নির্মল বায়ু ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক নীতির ওপর গুরুত্ব দেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

এখনো জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হরিণ শিকার, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা এবং বনজসম্পদ লুটের মতো ঘটনা ঘটছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযান, দস্যুদের আত্মসমর্পণ এবং নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। ফলে দস্যুমুক্ত ঘোষণার আট বছরে সুন্দরবনের সামনে অর্জন ও সংকট—দুই বাস্তবতাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুন্দরবনের নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ড, এসআরবি-৬, নৌ পুলিশ ও বন বিভাগের সদস্যরা কাজ করছেন।

১১ দস্যু বাহিনীর শতাধিক সদস্য সক্রিয়

বর্তমানে সুন্দরবনে ১১টি দস্যু বাহিনীর তত্পরতা রয়েছে। বাহিনীগুলো হলো করিম শরীফ বাহিনী, কাজল মুন্না বাহিনী, দয়াল বাহিনী, ছাত্তার বাহিনী, মামা-ভাগ্নে বা সুলতান বাহিনী, মিঠু বাহিনী, বাম্বা বাহিনী, মজিদ বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী, ভাই ভাই বাহিনী ও দাদা ভাই বাহিনী। এসব বাহিনীতে শতাধিক সক্রিয় সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলোর কার্যক্রমের ওপর নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিশেষ অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে কিশোরদের স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, গ্রেফতার ৪

দুই বিশেষ অভিযানে ৪১ দস্যু আটক

সুন্দরবনের সব বনদস্যুর বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানের মূল লক্ষ্য সক্রিয় দস্যু বাহিনী নির্মূল করা এবং সাধারণ জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৪১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৫৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৫ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩৫৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১১৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৫২ জন জেলে, দুই পর্যটক ও একজন রিসোর্ট মালিককে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

৫১ দস্যুর আত্মসমর্পণ, এসআরবি-৬-এর অভিযানে ৭৪ আত্মসমর্পণ

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মোঃ নাসির মিয়া

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে কোণঠাসা হয়ে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী, নানা ভাই বাহিনী ও মজনু বাহিনীর মোট ৫১ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাঁরা ৪৮টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৮১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৮৭ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দেন। অন্যদিকে এসআরবি-৬-এর তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত অভিযানের মুখে গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর—এই দুই মাসে ছয়টি জলদস্যু বাহিনীর ৭৪ জন সদস্য দুই ধাপে আত্মসমর্পণ করেছেন। একই সময়ে চলা অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ৭৩টি অস্ত্র, ৮৫২ রাউন্ড গোলাবারুদ এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহূত অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘোষণার পরও কেন ফিরছে দস্যুতা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে দস্যুতা নির্মূল করা সম্ভব নয়। দস্যুদের আত্মসমর্পণের পর পুনর্বাসন, তাঁদের অপরাধে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি, দস্যুদের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ, নতুন দস্যু বাহিনীর উত্থান ঠেকানো এবং অস্ত্র ও অর্থের উত্স শনাক্ত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

আত্মসমর্পণ করলে সহায়তা, না হলে কঠোর ব্যবস্থা

আরও পড়ুন: কচুয়ায় লন্ডন প্রবাসীর বাড়ির গাছ ও পুকুরের মাছ লুটে নিলো স্বেচ্ছাসেবকদলের সহ-সভাপতি

এসআরবি-৬ (খুলনা)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, দস্যু দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দস্যুরা আত্মসমর্পণ করলে তাঁদের সহায়তা দেওয়ার জন্য বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। অন্যথায় অন্ধকারের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না এলে এবং দস্যুতায় জড়িত থাকলে তাঁদের আরো কঠোর আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, বনজীবী, স্থানীয় জনগণ, বন বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিভিন্ন সংস্থা ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই পারে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান অভিযান, নজরদারি ও পেশাদার তৎপরতা এ লক্ষ্য অর্জনের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সুন্দরবন আরো নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ থাকবে বনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা এবং দেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ।

আরও পড়ুন: রাসিকের এ্যাসফল্ট প্লান্ট পরিদর্শনে প্রশাসক রিটন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ এম


পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজ গ্রেপ্তার

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কার্যক্রম ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে।

রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে শনিবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে তার সংশ্লিষ্টতা, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র এবং খুনিদের সঙ্গে যোগসাজসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তার জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
আব্দুল কাদেরের পোস্ট

লংমার্চ থেকে ফিরে আমিরে জামায়াত সংসদে সরকারের পক্ষে সাফাই গাইবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ এম


লংমার্চ থেকে ফিরে আমিরে জামায়াত সংসদে সরকারের পক্ষে সাফাই গাইবেন

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, আজ জামায়াতের লংমার্চের সময় একটি বাস দুর্ঘটনায় একজন পথচারী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, দলের অনেক নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। লংমার্চের কারণে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় জনসাধারণের ভোগান্তির চিত্রও মিডিয়ায় ফুটে উঠেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

পোস্টে আব্দুল কাদের উল্লেখ করেছেন, তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, অনেকেই পদযাত্রার সময় কৌশল হিসেবে বারবার পাঞ্জাবী পরিবর্তন করেছেন এবং হেলমেটের আশ্রয়ও নিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "এতো এতো কসরত, ভোগান্তি আর প্রাণহানির প্রয়োজন আছে কী?" তিনি মন্তব্য করেছেন যে, লংমার্চ থেকে ফিরে আমিরে জামায়াত সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষে সাফাই গাইবেন।

তিনি আরও বলেন, যদি জামায়াত নির্বাচন পরবর্তীতে বা আগামী স্থানীয় নির্বাচন উপলক্ষে তাদের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে চাঙ্গা করতে চায়, তাহলে তারা দলীয় ব্যানারে ভিন্ন নামে ভিন্ন কর্মসূচি দিতে পারে। এর ফলে লংমার্চ নামক সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্মসূচিটিও ব্যাহত হবে না, জনমানুষের ভোগান্তি হবে না এবং প্রাণহানীও ঘটবে না।

তিনি আরো যোগ করেন, তবে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন দেনদরবারে কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারে, কিন্তু সেটা ছুটির দিনে ঢাকায় একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।

আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমিরে জামায়াত বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে জনসেবায় আলোচনায় দুই বিএনপি নেতা সোহেল-রুবেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. সানি

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ এম


বাকেরগঞ্জে জনসেবায় আলোচনায় দুই বিএনপি নেতা সোহেল-রুবেল

নেয়ামতিতে ৫০টি ও কবাইয়ে ৩০টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, মসজিদ-মাদ্রাসায় বালু ভরাট, অসহায় পরিবারের ঘর নির্মাণ-১৪ ইউনিয়নেই এমন জনপ্রতিনিধি চান এলাকাবাসী।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় না থেকে নিজ অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আলোচনায় এসেছেন দুই বিএনপি নেতা। তাঁরা হলেন নেয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজী এবং কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান রুবেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগেই তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তাঁদের এমন উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজী নিজ অর্থায়নে প্রায় ৫০টি বাড়ির চলাচলের রাস্তা ও কাঁচা রাস্তা নির্মাণ এবং সংস্কার করেছেন। এ ছাড়া প্রায় ২০ থেকে ২৫টি বাড়ির রাস্তা বালু দিয়ে ভরাট ও ইট বিছিয়ে চলাচলের উপযোগী করেছেন। বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় বালু ভরাটের পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠও বালু দিয়ে ভরাট করে দিয়েছেন, যাতে শিশুরা খেলাধুলার সুযোগ পায়।

অন্যদিকে, কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান রুবেল নিজ অর্থায়নে প্রায় ৩০টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি পাঁচ থেকে সাতটি দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ পরিবারকে নিজ খরচে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলেও জানান স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক নেতা নির্বাচনের আগে রাস্তা, ঘাট ও কালভার্ট নির্মাণসহ নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে সোহেল ফরাজী ও কামরুল হাসান রুবেলের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে তাঁরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বাকেরগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়নেই যদি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণকারী নেতৃত্ব গড়ে ওঠে, তাহলে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।

তাঁদের মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেওয়া প্রশংসনীয়। তবে এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ও জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের সেবায় প্রকৌশলী হতে চায় কালকিনির মেধাবী শিক্ষার্থী সূর্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাওন বল, মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ এম


দেশের সেবায় প্রকৌশলী হতে চায় কালকিনির মেধাবী শিক্ষার্থী সূর্য

মেধা, অধ্যবসায় ও স্বপ্নকে পুঁজি করে এগিয়ে চলেছে মাদারীপুরের কালকিনির কৃতী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ সূর্য। উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ-প্লাস) অর্জন করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে সে। এবার তার স্বপ্ন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তির সুযোগ পেয়ে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং দেশের উন্নয়ন ও সেবায় অবদান রাখা।

শাহরিয়ার আহমেদ সূর্য কালকিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. ইউনুছ আলী হাওলাদারের একমাত্র সন্তান। ঢাকার তেজগাঁওয়ের সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জন করেছে সে। তার এমন অসাধারণ সাফল্যে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে।

জানা যায়, সূর্য কালকিনির ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিল। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ, নিয়মিত অধ্যবসায় ও ভালো ফলাফলের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে আসছে সে।

সূর্যের শিক্ষাজীবনের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের পাশাপাশি মামা খায়রুল আলম সুজনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রনেতা। ঢাকায় পড়াশোনার সময় ভাগনের লেখাপড়ার খোঁজখবর রাখা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া ও উৎসাহ জোগানোর মাধ্যমে তিনি পাশে ছিলেন।

সূর্যের মা শিক্ষিকা জিয়াসমিন আহমেদ জুই ছেলের এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে, সূর্য যেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন সৎ, যোগ্য ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে শাহরিয়ার আহমেদ সূর্য জানায়, দেশের সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য। সে বুয়েটে পড়াশোনা করে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হতে চায়। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায়।

তার এই সাফল্যে পরিবার ও এলাকাবাসী গর্বিত। সূর্যের হাত ধরে ভবিষ্যতে দেশ একজন দক্ষ, সৎ ও দেশপ্রেমিক প্রকৌশলী পাবে-এমন প্রত্যাশা করছেন তার পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%