০২:৪৫ পি.এম
যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার মঙ্গলবার দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষিত দেশের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন।
এই পরিকল্পনায় উল্লেখিত রয়েছে ড্রোন এবং স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব।
রাশিয়া এবং অন্যান্য দিক থেকে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিয়ে স্টারমারের লেবার সরকারের কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর আসছে এই ঘোষণা। লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?
প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা (ডিআইপি) নিয়ে বিরোধের কারণে চলতি মাসের শুরুতে দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে একজন, জন হিলি, বলেছেন যে, এই পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যকে ‘আরও কম নিরাপদ’ করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এই পদত্যাগগুলো স্টারমারের নেতৃত্বের দুর্বলতা নির্দেশ করে। গত সোমবার তিনি ঘোষণা করেন যে, লেবার পার্টির সংসদ সদস্যরা প্রবীণ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি সমর্থন দেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ছেন।
৫৬ বছর বয়সী সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম যদি লেবার পার্টির নেতৃত্বে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না পান, তবে তিনি আগামী জুলাইয়ের মাঝা মাঝি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
স্টারমার আশা করছেন যে, ১০ বছরের এই প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। সোমবার রাতের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ পরিকল্পনাকে ‘পরিবর্তন আনতে সক্ষম বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: বর্জন ভেঙে কেন নির্বাচনে ভোট দিলাম: ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকের অভিজ্ঞতা
তিনি আরো বলেন, ‘এটি দীর্ঘমেয়াদে আমাদের দেশকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে।’ যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী চার বছরে ড্রোন এবং স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ৫০০ কোটির বেশি পাউন্ড (৬৬০ কোটি ডলার) ব্যয় করা হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ অর্থ থেকে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় মাইন শনাক্তকারী ড্রোন, ছোট আকারের ‘কোয়াডকপ্টার’ কৌশলগত ড্রোন এবং কম খরচের একমুখী হামলার ‘কামিকাজে’ ড্রোনসহ বিভিন্ন সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে।
ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এবং স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধযন্ত্রের ব্যবহার কতটা বেড়ে গেছে তা স্পষ্ট করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য ইউক্রেন প্রতি মাসে প্রায় দুই লক্ষ ড্রোন ব্যবহার করছে। অপরদিকে, ইরান সংঘাতের চরম পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০০টি আক্রমণাত্মক ড্রোন উৎক্ষেপণ করে।
আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প
স্টারমার অঙ্গীকার করেছেন যে, আগামী বছর থেকে প্রতিরক্ষা ব্যয় দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ২০২৯ সালে সম্ভাব্য পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়ী হলে তা ৩ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০৩৫ সালে তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে রয়েছে।
এই প্রতিশ্রুতি তখন এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ন্যাটো মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর এবং নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।
সোমবার স্টারমার ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে’র সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ১১ জুন হিলি পদত্যাগ করার পর তার পদত্যাগপত্রে জানান যে, ডিআইপি অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৬৮ শতাংশে উন্নীত হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সহযোগী জানিয়েছেন যে, পরিকল্পনায় প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩ শতাংশে উন্নীত করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস এ পরিকল্পনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করেছেন। ফলে মোট বরাদ্দ ১৩৫০ কোটি পাউন্ড থেকে বেড়ে ১৪৫০ কোটি পাউন্ডে উন্নীত হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন
কিন্তু এই অর্থও সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগে নির্ধারিত ২ হাজার ৮০০ কোটি পাউন্ডের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস গত মাসে হিলির পদত্যাগের পর বলেন, তখনকার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে ‘স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন’ বলে তিনি সমালোচনা করেন।
তিনি জানান যে, এটি ভবিষ্যৎ যুদ্ধের পরিবর্তে ‘গত যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে, সোমবার সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ২০৩০-এর দশকের শুরু থেকে যুক্তরাজ্য তাদের পুরানো ছয়টি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজের পরিবর্তে অন্তত ছয়টি ‘হাইব্রিড’ যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করবে।
এসব জাহাজে মানবচালিত এবং চালকবিহীনÑ উভয় ধরনের সক্ষমতার সমন্বয় থাকবে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করা হচ্ছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন