০২:১৭ এম
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নথি জাল করে স্বামীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দেনমোহরের মামলা করার কারণে বাদীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আইনজীবী আব্দুর রশিদকে প্রথমবারের মতো সতর্ক করে ক্ষমা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (চৌকি) আদালতের বিচারক এসএম গালিব হাসান এই দণ্ডাদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইড় আমবাড়ী গ্রামের হামিদুর হকের মেয়ে মোছা. নুরহাত জাহান লিজার (১৮) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী রাখালবুরুজ ইউনিয়নের রাখালবুরুজ মিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. তৌফিক হাসানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরই একপর্যায়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলায় কাবিননামা ও জন্মসনদ জাল করে দাখিল করা হয়। বাদীর স্বামী তৌফিক হাসান জাল কাগজপত্র দাখিল করার অভিযোগ তোলেন।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক আটক
মঙ্গলবার আদালতে হাজিরা দিতে আসার সময় বাদী কাবিননামা দাখিল করেন। কিন্তু আদালতে দাখিল করা কাবিননামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কাবিননামায় কোনো কাজির সই নেই এবং একইভাবে কাবিননামার ১৫ নম্বর কলামে উভয়পক্ষের মধ্যে তাৎক্ষণিক দেনমোহর অংকে ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কথায় দুই হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় বিতর্কিত বক্তব্য থাকার কারণে এবং কাজীর সই না থাকার কারণে আদালতের কাছে প্রাথমিক দৃষ্টিতে কাবিননামাটি জাল বলে প্রমাণিত হয়।
জাল কাগজপত্র দাখিল করে মামলা করার কারণে গোবিন্দগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সদ্য যোগদানকারী আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণামূলক কাজে যুক্ত না হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে, তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ক্ষমা করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি খারিজ করা হয় এবং মামলার আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০), মোছা. টপি বেগম (৪৫)-এর বিরুদ্ধে ইস্যুকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রিকল করা হয়। মিথ্যা জন্ম সনদ এবং ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে আদালতে মিথ্যা মামলা করার কারণে মামলার বাদী মোছা. নুরহাত জাহান লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে গাইবান্ধায় পাঠানো হয়।
গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন মন্তব্য করেন, "আশা করছি এই রায়ের পর ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস পাবে না।"
আরও পড়ুন: কালকিনিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বয়ঃসন্ধিকাল বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন