ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আইআরজিসির দাবি, হরমুজে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক


আইআরজিসির দাবি, হরমুজে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী দাবি করেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। আটক করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্যাংকার দুটি অনুমোদনহীন পথে প্রণালি ছাড়ার চেষ্টা করছিল এবং তাদের নেভিগেশন ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছিল।

আইআরজিসির গণমাধ্যম শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, আটককৃত ট্যাংকার দুটি তাদের নেভিগেশন ও পজিশনিং সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছিল। এছাড়া, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় তারা ‘অননুমোদিত পথ’ দিয়ে হরমুজ প্রণালি ত্যাগের চেষ্টা করছিল।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বারবার বেতার সংকেতের মাধ্যমে সতর্ক করা হলেও ট্যাংকার দুটি তা উপেক্ষা করে চলে যায়। একপর্যায়ে তারা একটি ‘বিপজ্জনক এলাকায়’ প্রবেশ করে এবং কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। পরে আইআরজিসির নৌবাহিনী তাদের থামিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ, তালেবানের চৌকি ধ্বংসের দাবি

তবে আটক ট্যাংকারগুলোর সঙ্গে কী ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একই সঙ্গে, আটক ট্যাংকার দুটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী এবং সেগুলোর গন্তব্য সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি আইআরজিসির পক্ষ থেকে।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরবি

আরও পড়ুন: সিরিয়ায় আকস্মিক বন্যায় ৫ জনের মৃত্যু, ৫ জন নিখোঁজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে মুসলিম গরু ব্যবসায়ীদের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের হামলা, উল্টো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেই মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


ভারতে মুসলিম গরু ব্যবসায়ীদের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের হামলা, উল্টো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেই মামলা

ভারতে মুসলিমদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা নতুন কিছু নয়, যা গরু জবাই, গরুর গোশত খাওয়া অথবা গবাদিপশু পরিবহনের অভিযোগে ঘটে থাকে। মুসলিমরা উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতার শিকার হন, কখনো গরু পাচারের সন্দেহে, কখনো মাংস বহনের অভিযোগে, আবার কখনো গবাদিপশুর ব্যবসার কারণে। হামলাকারীরা অনেক সময় নিজেদের ‘গোরক্ষক’ পরিচয় দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেন।

মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায় মহিষ পরিবহনের সময় দুই মুসলিম ব্যবসায়ী ও এক গাড়িচালককে আটক করে মারধর করেছে একদল লোক। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় হিন্দোরিয়া থানার অধীন হারদুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, দুই ব্যবসায়ীর হাত-পা বেঁধে একটি মাঠের মধ্যে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং লাঠি দিয়ে তাদের মারধর করা হচ্ছে। হামলাকারীরা তাদের ঘিরে রেখেও আঘাত করতে দেখা যায়।

নির্যাতনের শিকার দুই ব্যবসায়ী হলেন আবিদ কুরেশি ও হাসান কুরেশি, যারা স্থানীয় মহিষ ব্যবসায়ী। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়িতে মহিষ নিয়ে যাওয়ার সময় একদল লোক তাদের পথ আটকে দেয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের আবিদ জানান, মহিষগুলো চুরি করা নয়, তা প্রমাণ করতে হামলাকারীদের কেনার রসিদ দেখিয়েছিলেন তারা। কিন্তু হামলাকারীরা তাদের কথা শোনেনি। আবিদ বলেন, "তারা আমাদের কথা শোনেনি। আমরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াদৌড়ি শুরু করি, কিন্তু তারা আমাদের ধরে ফেলে। মহিষগুলো যে চুরি করা নয়—বারবার একথা বলা সত্ত্বেও তারা আমাদের বেধড়ক মারধর করে। পরে পুলিশ এলে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাই।"

আবিদের মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। আহত তিনজনের মধ্যে দুজন দামোহের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অপরজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জবলপুরে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনায় দুটি মামলা করেছে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা-সংক্রান্ত ধারায় দুই ব্যবসায়ী, গাড়িচালক ও গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। অপরদিকে, হামলার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম মাকতুবকে দামোহের পুলিশ সুপার আনন্দ কালাদাগি বলেন, "মুসলিম ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।"

পুলিশ সুপার আরও জানান, "একটি ছোট ভ্যানে এক বা দুটি প্রাণী পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও তাতে সাত থেকে আটটির বেশি মহিষ নেওয়া হচ্ছিল। এ ছাড়া প্রাণীগুলোকে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।"

হিন্দোরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র গুজ্জরও দুজনকে গ্রেপ্তার এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করছে পুলিশ।

মধ্যপ্রদেশের দামোহের এই ঘটনা ভারতে গবাদিপশু পরিবহন ও ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতার আরেকটি উদাহরণ। এর আগে গরু জবাই কিংবা গবাদিপশু পাচারের সন্দেহে মুসলিম ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী ও সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে দামোহের ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে পুলিশ। ফলে হামলার বিচার এবং ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও এর তদন্ত—এসব বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এমএমআর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় রোটারি হেলথ ফেয়ারে পাঁচ শতাধিক মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


খুলনায় রোটারি হেলথ ফেয়ারে পাঁচ শতাধিক মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

খুলনায় ‘রোটারি হেলথ ফেয়ার সিজন-৪’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগণের কাছে বিনামূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। এই দিনব্যাপী স্বাস্থ্য মেলায় পাঁচ শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধসহ বিভিন্ন সহায়তা গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগরীর ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি স্কুল মাঠে এই স্বাস্থ্যমেলার আয়োজন করা হয়। উদ্বোধন করেন রোটারি পাবলিক ইমেজের রিপসা টিমের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান লুবনা আফরোজ। পরে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা আয়োজনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ রোটারি বর্ষে প্রথমবারের মতো এই মানবিক উদ্যোগের সূচনা হয়। পরপর তিনটি সফল আয়োজনের পর এবার চতুর্থবারের মতো এই স্বাস্থ্যমেলার আয়োজন করা হলো। এটি রোটারি ক্লাব অব কসমোপলিটন খুলনার অন্যতম স্বাক্ষরধর্মী প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।

এবারের আয়োজনে খুলনার ১৪টি, ঢাকার ৪টি, যশোরের ১টি এবং বাগেরহাটের ১টি ক্লাবসহ মোট ২০টি রোটারি ক্লাব সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে।

স্বাস্থ্যমেলায় সাধারণ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, শিশু ও নারীস্বাস্থ্য, অর্থোপেডিক, চক্ষু ও দন্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া ইসিজিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাও করা হয়। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী মেলায় স্থাপিত মিনি ফার্মেসি থেকে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। শারীরিকভাবে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার ও চশমা বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির শৈশবের ক্লাবে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


মেসির শৈশবের ক্লাবে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে কি লিওনেল মেসি শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে ফিরে আসছেন? তার জন্মশহর রোসারিওর ক্লাবটি তাকে নিজেদের দলে ফিরিয়ে আনার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলে, তবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতেই মেসিকে দলে পাওয়ার আশা করছে তারা। তবে ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির কারণে এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গনসালো কালভিজিওনির উদ্ধৃতি দিয়ে গোল ডটকমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মেসি নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে ফেরার সম্ভাবনার এতটা কাছে আগে কখনো ছিলেন না। ক্লাব কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

শৈশবে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের বয়সভিত্তিক দলে ফুটবল শুরু করেছিলেন মেসি। ২০০০ সালের গ্রীষ্মে মাত্র ১৩ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনে চলে যান তিনি। এরপর বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়ায় যোগ দেন এবং সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তবে পেশাদার ক্যারিয়ারে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের মূল দলের হয়ে কখনো খেলেননি মেসি। তাই শৈশবের ক্লাবে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে মেসির বর্তমান চুক্তি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ রয়েছেন। তাই নির্ধারিত সময়ের আগে ক্লাব ছাড়ার বিষয়ে মেসি কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে মেসি কিংবা তার বর্তমান ক্লাবের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শৈশবের ঠিকানায় তার ফেরা বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা জানতে ফুটবলভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাখির সংঘর্ষ রোধে দেশের সব বিমানবন্দরে বেবিচকের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


পাখির সংঘর্ষ রোধে দেশের সব বিমানবন্দরে বেবিচকের উদ্যোগ

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দেশের সব বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানোর জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে আধুনিক পাখি তাড়ানোর সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং বন্যপ্রাণীজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সংস্থাটি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব চালু বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত পাখি নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত জনবল এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং বিমান চলাচলের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

বেবিচক-এর সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানান, বিদ্যমান সরঞ্জাম ও জনবল সংকট দূর করার পাশাপাশি পাখিজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি টেকসই ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দেশের আটটি বিমানবন্দরে পাখি তাড়ানোর বন্দুকের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে মোট ২৬টি বন্দুকের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই হিসাব অনুযায়ী, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয়টি বন্দুক প্রয়োজন। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রয়োজন চারটি করে। রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরে প্রয়োজন দুটি করে বন্দুক।

বর্তমানে বেবিচক-এর কাছে ১১টি পাখি তাড়ানোর বন্দুক রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র দুটি সচল। সিলেট ও বরিশাল বিমানবন্দরে একটি করে বন্দুক ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।

বন্দুকগুলোর লাইসেন্স নবায়ন এবং পরবর্তী সময়ে নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

নূর-ই-আলম বলেন, সচল সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা গেলে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও উড়োজাহাজ চলাচলের এলাকায় পাখি তাড়ানো সহজ হবে। বিশেষ করে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি পাখি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে জনবল বাড়ানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে বেবিচক। নিয়মিত নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম কার্যকর রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে পাখি তাড়ানোর জন্য মোট ৬৪ জন কর্মী প্রয়োজন। বর্তমানে এ কাজে অনুমোদিত পদ রয়েছে ১০টি, যার মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন।

নূর-ই-আলম বলেন, বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ জনবলের চাহিদা পূরণে বেবিচক-এর জনবল কাঠামো (টিওঅ্যান্ডই) পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে ১১ জন করে পাখি তাড়ানোর কর্মী প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরে প্রয়োজন হবে পাঁচজন করে।

এর ফলে বিশেষ করে প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে দিন-রাত পাখি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর বিমানবন্দরে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পাখি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

বেবিচক নিজস্ব সরঞ্জাম ও জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিমানবাহিনীর এ সহায়তায় বর্তমানে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পর্যায়ক্রমে আধুনিক পাখি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি ব্যবস্থা (বিসিএমএস) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বেবিচক-এর।

নূর-ই-আলম বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে এ ধরনের একটি কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যান্য বিমানবন্দরে একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে এটিকে নমুনা হিসেবে কাজে লাগানো হবে।

নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল ও পাখি তাড়ানোর সরঞ্জাম যুক্ত হলে বিমানবন্দরের পরিচালন এলাকায় পাখিজনিত ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া পাখি নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ, লাইসেন্স এবং সেগুলোর নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পাখি তাড়ানোর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতেও উদ্যোগ নিয়েছে বেবিচক।

আগে নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নামে এসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হতো। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলি বা অবসরে গেলে লাইসেন্স নিয়ে জটিলতা তৈরি হতো। সম্প্রতি বিধিগত ছাড়ের মাধ্যমে ব্যক্তির পরিবর্তে নির্দিষ্ট পদ বা দপ্তরের নামে লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এতে পাখি নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামের লাইসেন্স নবায়ন, নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সেগুলোর ব্যবহার অব্যাহত রাখা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুধু সরঞ্জাম ও জনবল বাড়িয়ে পাখির আঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়- এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরগুলোর আশপাশের পরিবেশ উন্নয়নেও জোর দিয়েছে বেবিচক।

বিমানবন্দর এলাকায় উড়োজাহাজ চলাচলের স্থানের আশপাশে পাখির আনাগোনা কমাতে অতিরিক্ত গাছপালা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আবর্জনা ফেলা ও মজুতের স্থানগুলো সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে যেসব স্থানে খাবারের উচ্ছিষ্ট জমে পাখির সমাগম ঘটে, সেগুলো অপসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নূর-ই-আলম বলেন, বিমানবন্দরের সীমানার বাইরেও বন্যপ্রাণীজনিত ঝুঁকি রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

এর আগে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত গবেষণায় ঢাকায় ১১৫ থেকে ১২০ প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশে ছিল ৬৬ থেকে ৬৭ প্রজাতির পাখি।

বিমানবন্দরের ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ১২৯টি স্থানে পরিচালিত ওই গবেষণায় ৩ হাজার ৮৮৬টি হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ৭৫৩টি তাজা শাকসবজি ও কৃষিপণ্যের বাজার, ৬৬৩টি কসাইখানা এবং ১ হাজার ৩৩৫টি বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া যায়।

গবেষণার এসব তথ্য উড়োজাহাজ চলাচলের এলাকার আশপাশে পাখির উপস্থিতি কমাতে সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

পাখির আঘাত ও বন্যপ্রাণীজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাতের নেতৃত্বে এ কমিটি কাজ করবে।

নূর-ই-আলম জানান, আগামী নভেম্বর ২০২৬-এ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিমানবন্দরগুলোতে বন্যপ্রাণীজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে এ কমিটি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী সরঞ্জাম সংগ্রহ, জনবল নিয়োগ ও বন্যপ্রাণীজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য মোট ব্যয় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত প্রস্তুতি শুরু করেছে বেবিচক।

বেবিচক-এর সর্বশেষ বিমানবন্দরভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিমানবন্দরগুলোতে উড়োজাহাজের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষের ২১২টি ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ২৩৯টি।

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাখির আঘাতের ঘটনা ঘটেছে ১৬৮টি। ২০২৫ সালের পুরো বছরে এ সংখ্যা ছিল ১৫৭টি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে চলতি বছর ১২টি ঘটনা ঘটেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪০টি। সিলেটে চলতি বছর আটটি এবং গত বছর ১৩টি ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজারে চলতি বছর একটি ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ঘটেছিল দুটি। রাজশাহীতে উভয় সময়েই ১০টি করে ঘটনা ঘটেছে। সৈয়দপুরে চলতি বছর ১৩টি ঘটনা ঘটেছে, যা ২০২৫ সালে ছিল ১৭টি। যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরে উভয় সময়েই পাখির আঘাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ফ্লাইটের সময়সূচি ব্যাহত হওয়া এবং কখনো কখনো জরুরি অবতরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে পাখির সঙ্গে সংঘর্ষ। তাই বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বন্যপ্রাণীজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সামনে শীত মৌসুম। এ সময় পাখির চলাচল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকি কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%