শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১০ পি.এম
দক্ষিণ জাপান থেকে শুরু করে তাইওয়ান হয়ে ফিলিপাইনের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্র অঞ্চলে চীনের ৫০টিরও বেশি সরকারি ও নৌবাহিনীর জাহাজ চলাচল করছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন তাইওয়ানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তিনি উল্লেখ করেছেন, এই কার্যক্রম থেকে উদ্ভূত হুমকি স্পষ্ট। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে থাকে। এই পরিস্থিতিতে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজগুলোর চলাচলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও মানচিত্র প্রকাশের উদ্যোগ জোরদার করেছে তাইওয়ান।
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ বলেছেন, “আমরা তাদের তৎপরতার ওপর সতর্ক নজর রাখছি। তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের জন্য একই সঙ্গে যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।”
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ওই মানচিত্রে চীনের ৫৩টি জাহাজের অবস্থান চিত্রিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি ছিল নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। এই জাহাজগুলোর মধ্যে চীনের বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মানচিত্র অনুযায়ী, লিয়াওনিং ও এর সাথে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো ফিলিপাইনের পূর্বে অবস্থান করছিল। এছাড়া, তাইওয়ানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কয়েকটি জাহাজের দল এবং জাপানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে আরো তিনটি দলও ছিল। গত মে মাসে জোসেফ উ এক্সে একই ধরনের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাং জিয়াওগ্যাং বলেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’-এর প্রশিক্ষণ একটি নিয়মিত বার্ষিক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে দূর সমুদ্রে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
তিনি দাবি করেন, এই মহড়া কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না। ফিলিপাইন ও জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
চীনা যুদ্ধজাহাজের চলাচল
বুধবার জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কাছে সরু ওসুমি প্রণালি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের সময় তারা চীনের তিনটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজের চলাচল পর্যবেক্ষণ করেছে। চলতি মাসের শুরুতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছিল, লিয়াওনিং একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এই মহড়া কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। তাইওয়ানের প্রতি জাপানের সমর্থনে অসন্তুষ্ট বেইজিং। অন্যদিকে, দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের বিরোধও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার তাইপেতে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু। তিনি বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা আমরা সমর্থন করি না।”
তাইওয়ানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিপাইন সাগরে সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পর চীনের বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’ ও এর সাথে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো জাপানের দিকে উত্তরমুখী যাত্রা চালিয়ে যায় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “যদি জাহাজগুলো উত্তর দিকে এগোতে থাকে, তাহলে তা জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরো চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত দেবে।”
প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথ খোলা রেখেছে চীন। তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথ কখনোই পুরোপুরি বন্ধ করেনি চীন। তবে বেইজিং বলছে, তারা সামরিক পদক্ষেপের বদলে শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।
মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী এই আশঙ্কা মাথায় রেখে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রস্তুতি নিচ্ছে যে, আগামী বছরের শুরুতেই চীন তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার রোনাল্ড ক্লার্ক মঙ্গলবার হাওয়াইয়ের একটি ফোরামে এ কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্লার্কের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, নিজেদের প্রতিরক্ষা ও হামলা প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে তাইওয়ান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজার পুনর্মিলনী ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দির প্রাঙ্গণে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবীর কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কুমার কুণ্ডু ও উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি মানবেন্দ্র সাহা প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বন্ধন। দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের পুনর্মিলনী আয়োজনের মাধ্যমে পূজার আনন্দ ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : ব্যবসায়ী নেতারা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন, যা স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা, যা বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য আরও তিন বছর সময় দিয়েছে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে দ্রুত পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাসস’কে জানিয়েছেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ব্যবসায়ীদের জন্য প্রত্যাশিত ছিল। তিনি বর্তমান সরকারের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যারা ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, "হাতে সময় সীমিত। তাই এখনই পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।"
মোহাম্মদ হাতেম আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যেসব শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে, সেগুলোই বহাল থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন করে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা যুক্ত না হলেও বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোর স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
এলডিসি উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে এফটিএ সম্পাদনের ওপর জোর দেন তিনি। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে এফটিএ করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এফটিএ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশকেও দ্রুত এ ধরনের চুক্তি সম্পাদনে এগিয়ে যেতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, এফটিএ সম্পাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্জিত বিভিন্ন মানদণ্ড ও সক্ষমতা ধরে রেখে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য কৌশল বাস্তবায়ন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ তিন বছর পর আবারও ফুটবল ফিরছে আর্জেন্টিনার লা প্লাতার ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও উনিকো ত্রিকাম্পেওনেস দেল মুন্দো-দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে। আগামী ২৯ নভেম্বর আর্জেন্টিনা ও জার্মানির নারী ফুটবল দলের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেডিয়ামটি খুলে দেওয়া হবে। ২০২৭ ব্রাজিল নারী বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাঠে নামবে দুই দল।
বুয়েনেস এইরেস প্রদেশের রাজধানী লা প্লাতায় অবস্থিত স্টেডিয়ামটি সংস্কারকাজের জন্য ২০২৩ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে সেখানে কোনো ধরনের ক্রীড়া আয়োজন হয়নি। যদিও সংস্কারকাজ এখনো চলমান, আর্জেন্টিনা-জার্মানি ম্যাচের মাধ্যমে আবারও প্রাণ ফিরে আসবে এই ফুটবল ভেন্যুতে।
স্টেডিয়ামের পরিচালক এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অনুষ্ঠান ও প্রটোকল কমিটির সভাপতি ফার্নান্দো ইসলাস কাসারেস জানিয়েছেন, সংস্কারকাজের প্রায় ২৫ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তার প্রত্যাশা, ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে স্টেডিয়ামটি।
কাসারেস বলেন, "সংস্কারকাজের এক-চতুর্থাংশ শেষ হয়েছে।" তাদের বিশ্বাস, ২০৩০ বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুর মর্যাদা পাবে এই স্টেডিয়াম।
মাঠের লড়াইয়েও ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে আর্জেন্টিনা ও জার্মানির নারী দল দুবার মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৩ সালে। এরপর ২০০৭ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লড়েছিল দল দুটি। আগামী ২৯ নভেম্বরের ম্যাচটি হবে তাদের তৃতীয় মুখোমুখি হওয়া।
বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। ফলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ম্যাচ আর্জেন্টিনার জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার কোচ হেরমান পোর্তানোভাও ম্যাচটিকে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন।
তার মতে, "জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ নিজেদের সামর্থ্য যাচাই এবং প্রতিযোগিতামূলক মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।" একই সঙ্গে সংস্কারের পর স্টেডিয়ামটির পুনরায় উদ্বোধনের দিনে উপস্থিত থাকতে পারাকেও বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তিনি।
অন্যদিকে জার্মানির নারী দলের কোচ ক্রিশ্চিয়ান ভুকের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক। তিনি মনে করেন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন ম্যাচ খেললে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দলের উন্নতিতে কাজে আসবে বলেও আশাবাদী তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের সামরিক শক্তি ও আধিপত্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন করে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, এ ধরনের সংঘাত ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত ফলাফল না এনে বরং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে তৃতীয় দফায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর ফলে দেশটির অভ্যন্তরে পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান আরো শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মাহদি নিকসেফাত মোতলাঘ ও কিয়াভাশ কালহোরের বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তখনই তৈরি হয়, যখন একটি যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে সেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াকে অপরিহার্য মনে করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার বিষয়টিকে আরো বড় সামরিক অভিযানের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যুদ্ধের ব্যয় যত বাড়ে, কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জনের পথ তত কঠিন হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতেও এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন সংঘাতে জড়িয়েছে, সেটি এখন মার্কিন ক্ষমতা ও প্রভাবের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর প্রকাশিত আটলান্টিকের প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের এমন একটি ধারণার কথা উঠে এসেছে যে, অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরান অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন করে হামলা চালানো হলে দেশটির সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে। তবে ইরানে আবার হামলা চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং নতুন করে চাপ প্রয়োগ করলে এবার চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে—এমন প্রত্যাশা আবারও সামনে এসেছে।
লেখকদের মতে, এই ধারণার মধ্যে পুরোনো একটি ভুল হিসাব রয়েছে। সেটি হলো, কোনো প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে ফেলতে পারলেই তার আচরণ নিজেদের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু সামরিক ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করেও কোনো দেশ প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। ইরানের ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা উপেক্ষা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে ‘নিয়ন্ত্রণযোগ্য শত্রু’ ধারণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কোনো প্রভাবশালী শক্তির জন্য একটি পরিচিত প্রতিপক্ষ অনেক সময় সামরিক জোট সংগঠিত করা, বিদেশে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা এবং নিরাপত্তার নামে মিত্রদের পাশে রাখার যুক্তি হিসেবে কাজ করে। তবে এ ক্ষেত্রে শত্রুর হুমকি, তার সঙ্গে সংঘাতের ব্যয় এবং সংঘাতের সমাপ্তি—সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রত্যাশা থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতিতেও ইরানকে এমন একটি প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, ইরান এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে দেশটির সঙ্গে সংঘাত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার একই সঙ্গে দেশটিকে এতটাই দুর্বল মনে করা হয় যে, তারা সংঘাতের নিয়ম বা গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে না।
এ প্রসঙ্গে জার্মান আইনবিদ ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক কার্ল স্মিটের সুরক্ষা ও আনুগত্যবিষয়ক তত্ত্বের উল্লেখযোগ্য। কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র যখন অন্যদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নেয়, তখন সেই নিরাপত্তার হুমকি নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক আনুগত্য তৈরিতেও তার ভূমিকা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। কিন্তু কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে যদি মিত্রদের নিরাপত্তাই আরও ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে সেই নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
সামরিকভাবে কোনো দেশকে ধ্বংস করার সক্ষমতা থাকা আর সংঘাতের পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা এক বিষয় নয়। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি অক্ষুণ্ন থাকলেও সংকট নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হওয়ার কথা ছিল বলে মনে করেন লেখকেরা। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাত করতে সক্ষম হলেও দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূল একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়নি। ইরানের ক্ষেত্রেও সামরিক হামলার মাধ্যমে সরকারকে দুর্বল করা এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটানোর মধ্যে বড় ধরনের বাধা রয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো, জাতীয় পরিচয়ের বিভিন্ন ভিত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা দেশটিকে টিকে থাকার সক্ষমতা দিয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা সামরিক কমান্ডারকে সরিয়ে দিলেই পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যাবে, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। কোনো সরকার দুর্বল হয়ে পড়লেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।
২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এই বাস্তবতাকে ভিন্ন মাত্রায় সামনে এনেছে। এসব হামলায় ইরানের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যে রাজনৈতিক ফল চেয়েছিল, অর্থাৎ ইরানকে তাদের নির্ধারিত ভবিষ্যৎ মেনে নিতে বাধ্য করা, তা এখনো অর্জিত হয়নি।
ট্রাম্প প্রথমদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ছয় মাস পরও যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছে, যেখানে একদিকে চাপ বাড়ানোর চিন্তা চলছে, অন্যদিকে সম্মানজনকভাবে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথও খোঁজা হচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে সংঘাতের সমাপ্তি কীভাবে হবে, সেই হিসাবও বদলে যায়। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ইরানকে পিছু হটতে বাধ্য করার সঙ্গে যুক্ত করেন, তাহলে ইরানের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার স্বীকার করে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো তার কাছে পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি তখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মিত্রদের আস্থার সঙ্গেও জড়িয়ে যায়।
তৃতীয় দফা হামলার ঝুঁকি কেন বাড়ছে
যুদ্ধের সমাপ্তি মানেই যে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের অবসান ঘটবে, বিষয়টি এমন নয়। বরং বিপদ তৈরি হচ্ছে যুদ্ধের সমাপ্তিকে কীভাবে দেখা হচ্ছে, তা নিয়ে। ওয়াশিংটন যদি মনে করে, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া অন্য কোনো ফলাফল গ্রহণযোগ্য নয়, তাহলে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য পথগুলো নিজেরাই সংকুচিত করবে।
এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় দফায় বড় ধরনের হামলাকে আগের দুই দফা অভিযানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।
প্রতিবারই এমন হামলার পক্ষে একই ধরনের যুক্তি দেওয়া হয়—এবারের চাপই হবে চূড়ান্ত। কিন্তু প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল না এলে আগের হামলাগুলোকে সঠিক প্রমাণ করতে আরও চাপ প্রয়োগের দাবি ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হতে পারে। কারণ কোনো নেতা যদি সংঘাত থেকে সরে আসাকে পরাজয় হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে সেই পরাজয় এড়াতে তিনি উল্টো যুদ্ধে আরো বেশি জড়িয়ে পড়তে পারেন।
অন্যদিকে ইরানও সংঘাতের শুরুতে যেমন অবস্থায় ছিল, এখন আর তেমন নেই। হামলার অভিজ্ঞতা দেশটির হুমকি মোকাবিলার কৌশল এবং রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। সামরিক কমান্ডারদের পরিবর্তে নতুন নেতৃত্ব তৈরি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং প্রতিপক্ষের ওপর বিভিন্ন উপায়ে ক্ষতির চাপ তৈরি করার সক্ষমতা ইরানকে অভিযোজনের সুযোগ দিয়েছে।
তবে যুদ্ধের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে ইরান সব ধরনের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত। সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো টিকে থাকলেও দেশটির জনগণ অর্থনৈতিক চাপ, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং সম্পদের সংকটে ভুগতে পারে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের সামরিক কৌশল পরিবর্তন করতে পারে। তাই অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের যেকোনো হামলা ব্যর্থ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে বাড়ছে যুক্তি
ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, যুদ্ধ সহ্য করার সক্ষমতা থাকলেও তা ভবিষ্যতে নতুন করে হামলা শুরু হওয়া ঠেকাতে পারছে না। ইরান হয়তো প্রতিপক্ষকে সহজে বিজয়ী হতে দেবে না, কিন্তু বারবার হামলা, পুনর্গঠন এবং নতুন করে সামরিক হুমকির চক্রের মধ্যে আটকে থাকার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
যদি যুদ্ধবিরতির পরও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকে এবং নতুন করে হামলার আশঙ্কা থেকে যায়, তাহলে ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রমও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। রাষ্ট্র ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করলেও প্রতিপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের নীতিনির্ধারকেরা যদি মনে করেন, প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা দিয়ে যুদ্ধের ব্যয় বাড়ানো গেলেও নতুন হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি আরো শক্তিশালী হতে পারে।
এ ধরনের বিতর্কের লক্ষণ ইতিমধ্যে ইরানের অভ্যন্তরে দেখা যাচ্ছে। ২০ অক্টোবর কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসে প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের কয়েকজন কট্টরপন্থি রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও বিশ্লেষক পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরোধিতা থেকে সরে আসা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দাবি তুলছেন।
তবে ইরান সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশে পারমাণবিক নীতির পরিবর্তনের পক্ষে আলোচনা বাড়ছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় দফার সামরিক হামলাও যদি ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলো আরো শক্তিশালী যুক্তি পাবে। তাদের মতে, শুধু সাময়িকভাবে বোমা হামলা বন্ধ হওয়া ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। তাই নতুন করে হামলা ঠেকানোর উপায় হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রস্তাব সামনে আসতে পারে।
তবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের রাজনৈতিক আগ্রহ, এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি—এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। ফলে ইরান চাইলেই সহজে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে, এমন ধারণার ভিত্তি নেই। বরং এ পথে এগোনোর চেষ্টা নতুন করে সামরিক হামলার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
ইসরাইলের হিসাব ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থ
এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সরকার ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আবার বাড়তে শুরু করলে নতুন করে হামলার দাবি উঠতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু ইসরাইলের নিরাপত্তার হিসাব বিবেচনা করলেই চলবে না। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্রদের নিরাপত্তা, যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় এবং সংঘাতের অবসান ঘটানোর সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে। ইরানের প্রতিটি পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে নতুন মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের কারণ হিসেবে দেখলে সংঘাতের চক্র আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সংঘাত এড়াতে প্রয়োজন স্থায়ী সমঝোতা
নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে হলে উভয় পক্ষের হিসাব-নিকাশে পরিবর্তন আনা জরুরি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর যাচাইযোগ্য সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি দেশটির ওপর নতুন করে হামলার ঝুঁকি কমানোর বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বাস্তব সুযোগও তৈরি করতে হবে।
শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতির আশ্বাস দিয়ে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চিন্তা থেকে সরিয়ে রাখা কঠিন হবে। বরং দেশটির জন্য একটি কার্যকর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করা গেলে পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থার পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি দুর্বল হতে পারে।
নিজেদের বৈশ্বিক ক্ষমতা ও আধিপত্য ধরে রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ব্যর্থ যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বজুড়ে নিজেদের অবস্থান হারানোর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। ইরানের আত্মসমর্পণকেই যদি মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজের ক্ষমতাকে ক্রমবর্ধমান ব্যয়বহুল সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলবে।
তৃতীয় দফায় যুদ্ধ শুরু হলে ওয়াশিংটন হয়তো আবারও প্রমাণ করতে চাইবে যে, ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু তেহরান যদি বারবার হামলার অভিজ্ঞতা থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে ভবিষ্যতে নিজেদের ওপর হামলার ব্যয় স্থায়ীভাবে বাড়াতে হবে, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের তাগিদ আরও জোরালো হতে পারে।
অর্থাৎ, নিজেদের বৈশ্বিক আধিপত্য রক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক ঝুঁকি নিতে পারে, তা শেষ পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে পারে। যে পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকানোর যুক্তিতে এত সামরিক অভিযান, সেই অভিযানই উল্টো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের পথে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ