০৭:৩৩ পি.এম
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ক্যানসার ইউনিটের বর্জ্য শোধনাগার বা এসটিপি স্থাপনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, অনুমোদিত প্রাক্কলনের শর্তাবলী না মেনে এবং সরকারি ক্রয়বিধি উপেক্ষা করে এই প্রকল্পে কাজ করা হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদফতরের তথ্যমতে, ক্যানসার ইউনিটের জীবাণুযুক্ত বর্জ্য যাতে সরাসরি ড্রেনে বা পরিবেশে না মেশে, সে কারণে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এসটিপি স্থাপনের প্রাক্কলন অনুমোদিত হয়। এই প্রকল্পের জন্য ট্যাংকটি সংযুক্ত আরব আমিরাত বা থাইল্যান্ড থেকে আনার পরিকল্পনা ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, ওই বছরের মার্চে নিয়মের লঙ্ঘন করে দরপত্রের তালিকায় ভারতের নাম যুক্ত করা হয় এবং পরে সেখান থেকেই ট্যাংক আনা হয়। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে এসটিপি আমদানি ও স্থাপনের কার্যাদেশ পায় ঢাকার ইলিপস ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও বাবর অ্যাসোসিয়েট। ২০২৫ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি বর্জ্য শোধনের তিনটি ট্যাংক এনে নির্মাণাধীন ক্যানসার ইউনিটের পাশে স্থাপন করে। গণপূর্ত অধিদফতরের রাজশাহী জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওম প্রকাশ নন্দী নিশ্চিত করেছেন, সরবরাহ করা ট্যাংকগুলো ভারত থেকে এসেছে।
আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইলিপস ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির আহমেদ দাবি করেছেন, দরপত্রে উল্লেখ করা দেশ থেকেই ট্যাংক আনা হয়েছে। তবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা থাইল্যান্ড কোন দেশ থেকে ট্যাংক আনা হয়েছে, সেটি নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তিনি জানান, সব নিয়ম মেনে কাজ করলেও তাদের বিল আটকে দেয়া হয়েছে। গণপূর্তের কর্মকর্তারা তাকে প্যাডে এসটিপি ভারত থেকে আনা হয়েছে লিখে দিতে বলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়া লিখলে তো আমার কাগজপত্র দিতে হবে। আমার তো ইন্ডিয়ার কাগজ নেই।’
এদিকে, স্থাপিত ট্যাংকের সক্ষমতা নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। শর্ত অনুযায়ী তিনটি ট্যাংকের মোট সক্ষমতা দৈনিক ৩০০ কিলোলিটার বা কেএলডি হওয়ার কথা থাকলেও, এগুলো ২৪০ কেএলডি কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ২৪০ কেএলডি হলে তা চাহিদার চেয়ে ২০ শতাংশ কম।
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওম প্রকাশ নন্দী জানান, সক্ষমতা ২৪০ কেএলডি হলে সেটির তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই শেষে বিল পরিশোধ করা হবে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক এসটিপি সাইট পরিদর্শন করেছে। তারা ট্যাংকে উৎপাদন-সংক্রান্ত কোনো তথ্য না পেয়ে ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, শর্ত না মানলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করবে না এবং অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটের লিফট স্থাপনেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। দুই বছর আগে জাপানের ফুজিটেক কোম্পানির লিফটের বদলে সাধারণ লিফট বসানো হলে সেটি গ্রহণ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রযুক্তি হস্তান্তর চায় বাংলাদেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন