ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সবদিক থেকে ফেভারিট বাংলাদেশ, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয় লক্ষ্য


সবদিক থেকে ফেভারিট বাংলাদেশ, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয় লক্ষ্য

বাংলাদেশের লক্ষ্য ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়, যা প্রায় ১৪ বছরের ব্যবধানে আবারও অর্জনের চেষ্টা। ২০০৩ সালে একবার বাংলাদেশ এই শিরোপা জিতেছিল। এরপর ৯টি আসরে অংশ নিলেও তারা আর সাফ জিততে পারেনি। তবে এবারের আসরে বাংলাদেশের শিরোপা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা অনেক বেশি। হামজা-শমিতদের আগমনে ফুটবলের নতুন জাগরণ হয়েছে, যা ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের হাতে আবারও সাফের শিরোপা দেখাচ্ছে। আগামী ৫-১৭ নভেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাফের ১৫তম আসরে বাংলাদেশকে সবার চেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। এবারের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে ছয়টি দল। এর আগে, ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আসরে মোট ৮টি দল খেলেছিল। এর মধ্যে কুয়েত ও লেবানন ছিল আমন্ত্রিত দল। ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং রানার্সআপ হয়েছিল কুয়েত। এবার দলের সংখ্যা কমেছে এবং শক্তিশালী নেপালও খেলছে না। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা সাফে অংশ নিতে পারেনি। অন্যদিকে, ভারত তাদের সিনিয়র জাতীয় দল পাঠাচ্ছে না, বরং অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে টুর্নামেন্টে পাঠাবে। আসন্ন সাফে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। অভিজ্ঞতা, শক্তি, এবং সামর্থ্য—সব দিক বিচার করলে এই ছয়টি দলের মধ্যে বাংলাদেশই ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ, সুকি, ইতোফুসা, ফাহামিদুল ইসলামদের মতো অভিজ্ঞ এবং প্রতিভাবান প্রবাসী খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্তির ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শ্রীলঙ্কা দলেও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও ইংল্যান্ডের ক্লাবের হয়ে খেলেন। তাদের একাদশে ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়। শ্রীলঙ্কার দলটি পারফরম্যান্সেও দুর্দান্ত। অন্যদিকে, বর্তমান পাকিস্তান দলটিও প্রতিশ্রুতিশীল। তাদেরও বেশ কিছু খেলোয়াড় ইউরোপের লিগে নিয়মিত খেলছেন। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের তুলনায় ভুটান কিংবা মালদ্বীপ দলে অত বেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় নেই। সব মিলিয়ে ছয়টি দলের মধ্যে মানসম্পন্ন প্রবাসী ফুটবলারে সেরা বাংলাদেশ। আসন্ন সাফে বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এই বিষয়ে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে আটটি সাফে খেলা বিপ্লব ভট্টাচার্য একমত। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক বিপ্লবের মতে, এবার সাফের শিরোপা জেতার সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে, সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। বিপ্লব বলেন, “অনেক কারণেই এবার আমরা সবার চেয়ে এগিয়ে। প্রথমত, আমরা ঘরের মাঠে খেলব। তাছাড়া ভারতের জাতীয় দল আসছে না। তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেলবে। নেপাল খেলবে না। আমার মনে হয়, বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো দল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। যদিও অন্যদের খাটো করে দেখছি না। তবে পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অনেকটাই চাপমুক্ত থাকবে। হামজাদের অন্তর্ভুক্তিতে আমাদের যে বর্তমান দল, আমরা ফাইনাল খেলা ডিজার্ভ করি।”

২০০৩ সালের সাফজয়ী স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদও মনে করেন, আসন্ন আসরে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবল দল বাংলাদেশ। দলে বিশ্বমানের ফুটবলাররা যোগ দিয়েছেন। শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে পিছনে সাফের অন্য দলগুলো। আলফাজ বলেন, “অন্যদের চেয়ে আমরা অবশ্যই এগিয়ে আছি। এ দলটির সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা উচিত। যদি শিরোপা জিততে না পারে দলটি, তাহলে সেটি হবে বড় ধরনের ব্যর্থতা।” আলফাজের মতে, সাফের শিরোপা জয় নির্ভর করছে কোচ থমাস ডুলির পরিকল্পনা, কৌশল এবং দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। একাদশ সাজানো থেকে শুরু করে সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন কোচ। আলফাজ বলেন, “কীভাবে খেললে শিরোপা জেতা যাবে, সেই টার্গেট করতে হবে কোচকেই। খেলোয়াড়রা তো তাদের সেরা পারফরম্যান্সটাই দেবে। প্রত্যাশা করি, দলটি সাফের শিরোপা জিতুক।”

আরও পড়ুন: ভারতে বিমসটেক অ্যাথলেটিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিতুন

সব দলের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও আলফাজ আহমেদ মনে করেন, সাফে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হবে আক্রমণভাগকে। কারণ দুর্বল আক্রমণভাগ নিয়েই বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে। বিশেষ করে ‘নাম্বার নাইন’ পজিশন নিয়ে কোচ বেশি চিন্তিত। আলফাজ আহমেদের মতে, আক্রমণভাগের দুর্বলতার খবর পুরোনো। তবে এখানে যারা খেলছেন, তারা বেশ প্রতিশ্রুতিশীল। এই জায়গায় ভালো করতে হবে। স্কোয়াডে যারা আছেন, যে কেউই গোল করতে পারেন। অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে যদি টাইমিংয়ে খেলোয়াড় থাকেন, তাহলে গোল হবেই। সেখানে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন সুকি, ফারহানরা। উইং থেকে ভালো মানের বল পাওয়া গেলে স্কোর করার সামর্থ্য রয়েছে তাদের। অন্যদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ফিফা আয়োজিত আসিয়ান কাপে খেলেছে। এই টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে খেলে ১৩ গোল হজম করে কোচ থমাস ডুলির দল। এই ভরাডুবির পরপরই সাফ চ্যালেঞ্জে নামছে বাংলাদেশ। সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব মনে করেন, আসিয়ান কাপে শুধু যে গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল তা নয়, বরং পুরো দল ভয়ানক বাজে খেলেছে। যদি সাফে মানসিক সাপোর্ট ও উৎসাহ দেওয়া যায় খেলোয়াড়দের, তাহলে আস্থা ফিরে পাবেন গোলরক্ষকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ জেলহত্যা দিবস, ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার নেতার হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২০ এম


আজ জেলহত্যা দিবস, ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার নেতার হত্যা

আজ ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। এই দিনটি জাতির ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর, তাঁর ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ৫১ বছর আগে বন্দি অবস্থায় জাতীয় এই চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা জেলহত্যা মামলা নামে পরিচিত।

জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনায় ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২১ বছর ধরে মামলার তদন্ত স্থগিত ছিল। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৯ বছর পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করে। আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা আট এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তিনজন।

সাজাপ্রাপ্ত ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনই অধরা রয়েছে। একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায়ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। দেশে ফেরার পর ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি ধরা পড়েন এবং ওই মাসেই তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘দরকার হলে আমাকে ডিন থেকে বাদ দিয়ে দেন, আমি এসবের মধ্যে নেই’: অধ্যাপক কাউছারের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ এম


‘দরকার হলে আমাকে ডিন থেকে বাদ দিয়ে দেন, আমি এসবের মধ্যে নেই’: অধ্যাপক কাউছারের প্রতিবাদ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছারকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এই দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, দাপ্তরিক কাজের জন্য ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অধ্যাপক কাউছারকে রুটিন দায়িত্ব প্রদান করেন। মঙ্গলবার একটি ই-মেইল বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার এই দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাকে জিজ্ঞাসা করে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। উনি (উপাচার্য) নিজে থেকে একটা ই-মেইল লিখলেই কি আমি এই দায়িত্ব পালন করব? আমি উনাকে মোবাইলে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছি, প্রত্যাখ্যান করেছি। আমি উনাকে বলেছি, দরকার হলে আমাকে ডিন থেকে বাদ দিয়ে দেন। আমি এসবে নেই।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেমিট্যান্সে ১৪.৭% বৃদ্ধি, চার মাসে এসেছে ১১,৬৮৭ মিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ এম


রেমিট্যান্সে ১৪.৭% বৃদ্ধি, চার মাসে এসেছে ১১,৬৮৭ মিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (১ জুলাই থেকে ১ নভেম্বর) দেশে প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ১৯২ মিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে।

এদিকে চলতি বছরের ১ নভেম্বর, প্রবাসীরা দেশে ২২২ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৪৩ মিলিয়ন ডলার। এর মানে, এক বছরের ব্যবধানে একদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সাথে, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখতে এবং বহিঃখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদিবাসী শব্দের ব্যবহার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২২ এম


আদিবাসী শব্দের ব্যবহার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি আলোচনা

‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহার পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে শব্দটির ভুল প্রয়োগ ঘটছে, অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগণের পরিচয় ‘সেটেলার’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বিভিন্ন সভা, সেমিনার, পোস্টার ও দেয়াললিখনে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবি উঠছে। দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবিও জোরালোভাবে তোলা হচ্ছে।

পাহাড়ে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ নির্যাতিত হচ্ছেন—এমন চিত্র অনলাইনে প্রকাশ করা হচ্ছে। ২৭ বছর আগে কল্পনা চাকমার নিখোঁজের ঘটনা সামনে এনে শান্তিবাহিনীর হাতে পাহাড়ে ৩০ হাজার বাঙালির হত্যার বিষয়টি আড়াল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কল্পনা চাকমার নামে দেয়ালচিত্রও দেখা যায়। অন্যদিকে, শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য হয়েও মুসলিম হওয়ার কারণে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হওয়ার পর তার হত্যার বিচার দাবিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের তেমন সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথিত আদিবাসীদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে।

১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির আওতায় ২৩৮টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ পাহাড়ে এখনো বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলেছে। পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক জনগণ বাঙালি হলেও শান্তিচুক্তিতে তাদের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচিত হয়নি। চুক্তির প্রায় তিন দশক পরও পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

পাহাড়ে খ্রিষ্টান মিশনারিদের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন উপায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ উঠছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে পূর্ব তিমুরের মতো নতুন খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা চলছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। মিশনারিদের কার্যক্রম পাহাড়ের সমস্যাকে আরো উসকে দিচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মিশনারিদের সহযোগিতায় আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। এ প্রচারণায় দেশের কিছু বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তির সমর্থনও দেখা যাচ্ছে। ফলে অনেক নাগরিক অজ্ঞতাবশত পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে সম্বোধন করছেন। অথচ এ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ‘আদিবাসী’ শব্দটি নিছক একটি পরিচয়বাচক শব্দ নয়; এর পেছনে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। তাই এর যথেচ্ছ ব্যবহার এবং স্বীকৃতির দাবির সম্ভাব্য প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আদিবাসী কারা

ইংরেজি Aboriginal শব্দের বাংলা অর্থ আদিবাসী। উত্তর আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং নিউজিল্যান্ডের মাওরিরা ঐতিহাসিকভাবে সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডের আদি অধিবাসী হিসেবে পরিচিত। রেড ইন্ডিয়ানরা এশীয় বংশোদ্ভূত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, তারা প্রায় ১০ হাজার বছর আগে উত্তর আমেরিকায় পৌঁছেছিল। প্রায় ৫০০ বছর আগে ইউরোপীয়রা সেখানে গিয়ে তাদের ভূমি দখল করে। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের বসবাসের ইতিহাস এক লাখ বছরেরও বেশি পুরোনো বলে জানা যায়। একইভাবে ইউরোপীয়দের আগমনের আগে থেকেই নিউজিল্যান্ডে মাওরিদের বসবাস ছিল।

ঐতিহাসিকভাবে কোনো ভূখণ্ডের আদি বাসিন্দা জনগোষ্ঠীকে সে অঞ্চলের আদিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচয় নির্ধারণে শুধু বসবাসের সময়কাল নয়, ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, আত্মপরিচয় ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অবস্থানও বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর পূর্বপুরুষেরা তিব্বত, লুসাই পাহাড়, চীন, কাচিন, রাখাইন ও বার্মাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন সময়ে এ দেশে এসেছেন বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। যুদ্ধ-বিগ্রহসহ নানা কারণে তারা এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন। কয়েকশ বছর ধরে কোনো অঞ্চলে বসবাস করলেই একটি জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনার বিষয়। যেমন : আজকের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ২০০ বছর পর কক্সবাজারের কোনো অঞ্চলের আদিবাসী হওয়ার দাবি করলে সেটি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবেÑসে প্রশ্নও সামনে আসে।

ঐতিহাসিক, নৃ-তাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পরিচয় নির্ধারণে আরো গবেষণা প্রয়োজন। কোনো জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় ও সংস্কৃতির স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।

আদিবাসী স্বীকৃতির তাৎপর্য

জাতিসংঘের আদিবাসী জনগণের অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভূমি ও সম্পদের অধিকার, নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সামরিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনগণের অধিকার এবং সম্মতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

এসব অধিকার ও তার প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিকে তাই আবেগের পরিবর্তে ঐতিহাসিক, সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার, ভাষা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার বিষয়টিও উপেক্ষা করা যাবে না।

আমাদের করণীয়

পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বৈষম্যহীন আইন ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—উভয় জনগণের অধিকার নিশ্চিত না করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন, সীমাবদ্ধতা ও প্রভাব নতুন করে পর্যালোচনা করা জরুরি। চুক্তিতে আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্বের ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।

পাহাড়ে ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস থাকলেও শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে। ফলে চুক্তির আওতার বাইরে থাকা অন্যান্য জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। চুক্তির সময় আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন ও ভূমিকা নিয়েও নতুন করে পর্যালোচনা প্রয়োজন।

অনেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিকে বেলফোর ঘোষণার সঙ্গে তুলনা করেন। তাদের মতে, বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছিল। একইভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পরিণতি নিয়েও কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে এ ধরনের আশঙ্কার পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকা জরুরি।

চুক্তির প্রায় তিন দশক পরও পাহাড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হয়নি। তাই বর্তমান বাস্তবতায় চুক্তির প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সব জনগণের স্বার্থ রক্ষায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাহাড়ের সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বরদাশত করা যাবে না।

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%