ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আজ জেলহত্যা দিবস, ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার নেতার হত্যা


আজ জেলহত্যা দিবস, ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার নেতার হত্যা

আজ ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। এই দিনটি জাতির ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর, তাঁর ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ৫১ বছর আগে বন্দি অবস্থায় জাতীয় এই চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা জেলহত্যা মামলা নামে পরিচিত।

জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনায় ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২১ বছর ধরে মামলার তদন্ত স্থগিত ছিল। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৯ বছর পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করে। আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা আট এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তিনজন।

আরও পড়ুন: নিরাপত্তার কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতার প্রদর্শনী স্থগিত

সাজাপ্রাপ্ত ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনই অধরা রয়েছে। একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায়ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। দেশে ফেরার পর ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি ধরা পড়েন এবং ওই মাসেই তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘দরকার হলে আমাকে ডিন থেকে বাদ দিয়ে দেন, আমি এসবের মধ্যে নেই’: অধ্যাপক কাউছারের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ এম


‘দরকার হলে আমাকে ডিন থেকে বাদ দিয়ে দেন, আমি এসবের মধ্যে নেই’: অধ্যাপক কাউছারের প্রতিবাদ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছারকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এই দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, দাপ্তরিক কাজের জন্য ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অধ্যাপক কাউছারকে রুটিন দায়িত্ব প্রদান করেন। মঙ্গলবার একটি ই-মেইল বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার এই দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাকে জিজ্ঞাসা করে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। উনি (উপাচার্য) নিজে থেকে একটা ই-মেইল লিখলেই কি আমি এই দায়িত্ব পালন করব? আমি উনাকে মোবাইলে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছি, প্রত্যাখ্যান করেছি। আমি উনাকে বলেছি, দরকার হলে আমাকে ডিন থেকে বাদ দিয়ে দেন। আমি এসবে নেই।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেমিট্যান্সে ১৪.৭% বৃদ্ধি, চার মাসে এসেছে ১১,৬৮৭ মিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ এম


রেমিট্যান্সে ১৪.৭% বৃদ্ধি, চার মাসে এসেছে ১১,৬৮৭ মিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (১ জুলাই থেকে ১ নভেম্বর) দেশে প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ১৯২ মিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে।

এদিকে চলতি বছরের ১ নভেম্বর, প্রবাসীরা দেশে ২২২ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৪৩ মিলিয়ন ডলার। এর মানে, এক বছরের ব্যবধানে একদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সাথে, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখতে এবং বহিঃখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদিবাসী শব্দের ব্যবহার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২২ এম


আদিবাসী শব্দের ব্যবহার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি আলোচনা

‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহার পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে শব্দটির ভুল প্রয়োগ ঘটছে, অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগণের পরিচয় ‘সেটেলার’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বিভিন্ন সভা, সেমিনার, পোস্টার ও দেয়াললিখনে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবি উঠছে। দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবিও জোরালোভাবে তোলা হচ্ছে।

পাহাড়ে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ নির্যাতিত হচ্ছেন—এমন চিত্র অনলাইনে প্রকাশ করা হচ্ছে। ২৭ বছর আগে কল্পনা চাকমার নিখোঁজের ঘটনা সামনে এনে শান্তিবাহিনীর হাতে পাহাড়ে ৩০ হাজার বাঙালির হত্যার বিষয়টি আড়াল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কল্পনা চাকমার নামে দেয়ালচিত্রও দেখা যায়। অন্যদিকে, শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য হয়েও মুসলিম হওয়ার কারণে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হওয়ার পর তার হত্যার বিচার দাবিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের তেমন সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথিত আদিবাসীদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে।

১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির আওতায় ২৩৮টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ পাহাড়ে এখনো বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলেছে। পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক জনগণ বাঙালি হলেও শান্তিচুক্তিতে তাদের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচিত হয়নি। চুক্তির প্রায় তিন দশক পরও পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

পাহাড়ে খ্রিষ্টান মিশনারিদের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন উপায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ উঠছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে পূর্ব তিমুরের মতো নতুন খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা চলছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। মিশনারিদের কার্যক্রম পাহাড়ের সমস্যাকে আরো উসকে দিচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মিশনারিদের সহযোগিতায় আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। এ প্রচারণায় দেশের কিছু বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তির সমর্থনও দেখা যাচ্ছে। ফলে অনেক নাগরিক অজ্ঞতাবশত পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে সম্বোধন করছেন। অথচ এ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ‘আদিবাসী’ শব্দটি নিছক একটি পরিচয়বাচক শব্দ নয়; এর পেছনে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। তাই এর যথেচ্ছ ব্যবহার এবং স্বীকৃতির দাবির সম্ভাব্য প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আদিবাসী কারা

ইংরেজি Aboriginal শব্দের বাংলা অর্থ আদিবাসী। উত্তর আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং নিউজিল্যান্ডের মাওরিরা ঐতিহাসিকভাবে সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডের আদি অধিবাসী হিসেবে পরিচিত। রেড ইন্ডিয়ানরা এশীয় বংশোদ্ভূত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, তারা প্রায় ১০ হাজার বছর আগে উত্তর আমেরিকায় পৌঁছেছিল। প্রায় ৫০০ বছর আগে ইউরোপীয়রা সেখানে গিয়ে তাদের ভূমি দখল করে। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের বসবাসের ইতিহাস এক লাখ বছরেরও বেশি পুরোনো বলে জানা যায়। একইভাবে ইউরোপীয়দের আগমনের আগে থেকেই নিউজিল্যান্ডে মাওরিদের বসবাস ছিল।

ঐতিহাসিকভাবে কোনো ভূখণ্ডের আদি বাসিন্দা জনগোষ্ঠীকে সে অঞ্চলের আদিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচয় নির্ধারণে শুধু বসবাসের সময়কাল নয়, ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, আত্মপরিচয় ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অবস্থানও বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর পূর্বপুরুষেরা তিব্বত, লুসাই পাহাড়, চীন, কাচিন, রাখাইন ও বার্মাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন সময়ে এ দেশে এসেছেন বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। যুদ্ধ-বিগ্রহসহ নানা কারণে তারা এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন। কয়েকশ বছর ধরে কোনো অঞ্চলে বসবাস করলেই একটি জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনার বিষয়। যেমন : আজকের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ২০০ বছর পর কক্সবাজারের কোনো অঞ্চলের আদিবাসী হওয়ার দাবি করলে সেটি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবেÑসে প্রশ্নও সামনে আসে।

ঐতিহাসিক, নৃ-তাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পরিচয় নির্ধারণে আরো গবেষণা প্রয়োজন। কোনো জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় ও সংস্কৃতির স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।

আদিবাসী স্বীকৃতির তাৎপর্য

জাতিসংঘের আদিবাসী জনগণের অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভূমি ও সম্পদের অধিকার, নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সামরিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনগণের অধিকার এবং সম্মতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

এসব অধিকার ও তার প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিকে তাই আবেগের পরিবর্তে ঐতিহাসিক, সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার, ভাষা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার বিষয়টিও উপেক্ষা করা যাবে না।

আমাদের করণীয়

পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বৈষম্যহীন আইন ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—উভয় জনগণের অধিকার নিশ্চিত না করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন, সীমাবদ্ধতা ও প্রভাব নতুন করে পর্যালোচনা করা জরুরি। চুক্তিতে আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্বের ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।

পাহাড়ে ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস থাকলেও শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে। ফলে চুক্তির আওতার বাইরে থাকা অন্যান্য জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। চুক্তির সময় আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন ও ভূমিকা নিয়েও নতুন করে পর্যালোচনা প্রয়োজন।

অনেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিকে বেলফোর ঘোষণার সঙ্গে তুলনা করেন। তাদের মতে, বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছিল। একইভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পরিণতি নিয়েও কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে এ ধরনের আশঙ্কার পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকা জরুরি।

চুক্তির প্রায় তিন দশক পরও পাহাড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হয়নি। তাই বর্তমান বাস্তবতায় চুক্তির প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সব জনগণের স্বার্থ রক্ষায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাহাড়ের সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বরদাশত করা যাবে না।

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুহাম্মদ বিন সালমানের জন্য কিছুই ভালো যাচ্ছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ এম


মুহাম্মদ বিন সালমানের জন্য কিছুই ভালো যাচ্ছে না

অন্য যেকোনো বছরে মুহাম্মদ বিন সালমান এই সময়ে নিজেকে মূল আকর্ষণে পরিণত করার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। ২৬ অক্টোবর সৌদি রাজধানী রিয়াদে ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এফআইআই)’ শুরু হওয়ার কথা ছিল। এই সম্মেলনকে অনেকে ‘মরুভূমির ডাভোস’ বলেও অভিহিত করেন। এই সপ্তাহে ক্রাউন প্রিন্স বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বড় বড় অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং অন্যান্য মহারথীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত থাকতেন। কারণ তারা সবাই সৌদির সঙ্গে ব্যবসা করার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন।

কিন্তু এই বছর পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুথিরা কয়েক সপ্তাহ ধরে রিয়াদকে লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। পরপর কিছু প্রাণঘাতী হামলার পর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকেই তাদের নাগরিকদের সৌদি সফর না করতে পরামর্শ দিয়েছে। রিয়াদের হোটেল বা অন্যান্য আয়োজনস্থলে হামলার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী ও করপোরেট নির্বাহীরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। বহু চিন্তাভাবনার পর ১৯ অক্টোবর আয়োজকেরা সিদ্ধান্ত নেন—এবারের সম্মেলনটি স্থগিত রেখে আগামী বছর আয়োজন করা হবে।

এক দশক আগে ক্ষমতায় আসার সময় প্রিন্স মুহাম্মদ বড় কিছু বাজি ধরেছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন যে তিনি হুথিদের পরাজিত করবেন, সৌদি অর্থনীতিকে আমূল পরিবর্তন করবেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্ভরযোগ্য মিত্র হবেন। কিন্তু বর্তমানে তার এসব বাজি একসঙ্গে ভেঙে পড়েছে। এফআইআই বাতিলের সিদ্ধান্তটি প্রিন্স মোহাম্মদের দুর্ভাগ্যের বছরের একটি বাহ্যিক প্রতীক। বর্তমানে তিনি একের পর এক জটিল সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন, যেগুলোর কোনোটির সমাধান তার হাতে নেই।

সৌদি সরকার হুথিদের দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি দিয়ে তারা আশা করেছিল যে হুমকিটি চেপে রাখা যাবে। কিন্তু এই গ্রীষ্মে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সর্বব্যাপী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেই যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে শুরু করে। হুথিরা ইয়েমেনে আরও এলাকা দখল করেছে এবং সৌদিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। ক্রাউন প্রিন্সের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এখন শুধুমাত্র অশুভ বিকল্প দেখতে পাচ্ছেন। সৌদি সরকারকে হয় নতুন করে পদাতিক সৈন্য পাঠাতে হবে, নয়তো বিমান হামলা চালিয়ে যেতে হবে, অথবা ইয়েমেনে হুথিদের শাসনকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার মতো একটি চুক্তি করতে হবে।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত প্রিন্সের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণরূপে ভেস্তে দেবে। ২০২৬ সালের আগেই সেই পরিকল্পনায় টান পড়েছিল। সরকারি তহবিলে টান পড়ায় বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষের বেতন বাড়েনি। বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা প্রিন্স ধরেছিলেন, বাস্তবে আসছে তার মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ। এক বছর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ধারণা করেছিল ২০২৬ সালে সৌদি অর্থনীতি চার শতাংশ বাড়বে। এখন তারা বলছে, উল্টো ৩.৩ শতাংশ সংকুচিত হবে।

২০২৭ সালে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে কি না, তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসার ওপর নির্ভর করছে। আর সেই শান্তি ফিরে আসার বিষয়টি অনেকাংশে ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে। রিয়াদ ভেবেছিল, ট্রাম্পের ওপর তাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। আমেরিকায় বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল। তাছাড়া, ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তিও করা হয়েছিল। সৌদির অর্থায়নে আয়োজিত টুর্নামেন্টগুলোর জন্য ট্রাম্পের গলফ কোর্স ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠানে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু এত কিছুর পরও ট্রাম্পকে মহাবিপর্যয়ের যুদ্ধে জড়ানো থেকে আটকানো যায়নি। রিয়াদের রাজনীতি বোঝেন এমন একজন সৌদি ক্ষোভের সঙ্গে বলছিলেন, ‘তিনি তো বেশি দিন কারো প্রতি অনুগত থাকেন না।’

সৌদি আরবে নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ চালানোর কোনো উপায় নেই। তবে এটি নিশ্চিত যে বেশিরভাগ সৌদি নাগরিক তাদের সরকারকে ভরসা করেন। তবুও বিগত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাগুলো অনেকের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করেছে। ইয়েমেন যুদ্ধ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করেছে। অথচ ১০ অক্টোবরের পর থেকে প্রিন্স সালমানকে একপ্রকার দেখা যাচ্ছে না। সেদিন রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের মিসাইল হামলায় ১৩ জন নিহত হন। এরপর ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দেওয়া এবং জনগণকে আশ্বস্ত করার কাজটি মন্ত্রীদের কাঁধে এসে পড়েছিল।

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, পরপর সংকটে আচ্ছন্ন একটি বছর কি ক্রাউন প্রিন্সের ক্ষমতার ভিত্তিটাই কাঁপিয়ে দিয়েছে? তবে রিয়াদের কূটনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের আশঙ্কা কিছুটা বাড়াবাড়ি। একজন পশ্চিমা দূত বলছিলেন, ‘সাত বা আট বছর আগে তিনি এর চেয়েও কঠিন সময় পার করেছেন।’

সেই সময়ে প্রিন্স সালমান ছিলেন নতুন ক্রাউন প্রিন্স। তখনো তিনি নিজের ক্ষমতা শক্তিশালীভাবে গুছিয়ে নিতে পারেননি। ইয়েমেন যুদ্ধ তখন এক চোরাবালিতে পরিণত হয়েছিল, কাতার অবরোধ নিয়ে আমেরিকা ক্ষুব্ধ ছিল এবং ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করার পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। সেই তুলনায় আজকের দিনে মোহাম্মদের ক্ষমতার দখল অনেক বেশি নিরাপদ। তিনি তার সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজের পর ক্ষমতাকে যেভাবে এককেন্দ্রমুখী করেছেন, তেমনটি আর কেউ করতে পারেনি। তার সমালোচক নিশ্চয়ই আছেন। কিন্তু হঠাৎ অভ্যুত্থান ঘটানোর শক্তি কারো নেই।

এমনিতেই মিত্রদের পক্ষ থেকে তিনি খুব একটা কড়া সমালোচনার মুখে পড়ছেন না। ইয়েমেনে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর মিত্রদের প্রতিক্রিয়া দেখলেই তা বোঝা যায়। যারা আগে এই যুদ্ধের কঠোর সমালোচক ছিলেন, তারাও এখন মেনে নিচ্ছেন যে সৌদির সামনে যুদ্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি এই মাসেই রিয়াদে গিয়ে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি ২০১৮ বা ২০২০ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে আজকের সময়টা মিলবে না। হুথিরা যেভাবে এগিয়ে আসছে এবং রকেট হামলা চালাচ্ছে, সৌদিকে সেটি সামলাতেই হবে। আমাদের এই বাস্তবতা স্বীকার করা উচিত।’

তবে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে প্রিন্স মোহাম্মদের জন্য এটি আগের চেয়ে বড় পরীক্ষার সময়। কারণ তার প্রথম জীবনের সমস্যাগুলো ছিল তার নিজেরই তৈরি। ফলে সেগুলো সামলে নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল। ২০২১ সালের মধ্যেই তিনি সৌদি পররাষ্ট্রনীতিকে একটি বাস্তববাদী মোড় দিতে পেরেছিলেন। তিনি কাতারের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেন এবং হুথিদের সঙ্গে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করেন। এমনকি বাইডেন প্রশাসনও, যারা ক্ষমতায় আসার সময় প্রিন্সকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে করার শপথ নিয়েছিল, তাদেরও অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার নতুন নীতির প্রশংসা করতে হয়েছে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের আরো প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।

চলতি বছরের সমীকরণটা ভিন্ন। কারণ সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি এখন আর প্রিন্স মোহাম্মদের হাতে নেই। তিনি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ না বাড়াতে। কিন্তু আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প যদি তার কথা না শুনে আবার বোমাবর্ষণ শুরু করেন, তবে পরিস্থিতি জটিল হবে। সৌদি কর্মকর্তারা ভয় পাচ্ছেন, তখন সব দিক থেকে আঘাত এসে পড়বে তাদের ওপর। দক্ষিণে হুথি, উত্তরে ইরাকি মিলিশিয়া এবং পূর্বে খোদ ইরান। সৌদিকে রক্ষা করার জন্য তাদের বিশাল একটি ভূখণ্ড রয়েছে, যা আয়তনে ফ্রান্সের চেয়ে চারগুণ বড়। অথচ তা পাহারার জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অভাব।

নিজের শাসনকালের প্রথম দশকে ক্রাউন প্রিন্স সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রে কিছু প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। দেশের নারীরা এখন গাড়ি চালাতে পারছেন। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যে দেশে একসময় ‘বিনোদন’ শব্দটাই নিষিদ্ধ ছিল, সেখানে এখন সিনেমা হল এবং কনসার্ট খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। অল্প কিছু উচ্চবিত্ত বিদেশি এমনকি বৈধভাবে মদ খাওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন। কিন্তু এত কিছুর পরও সৌদি রাষ্ট্রের মূল চরিত্র খুব একটা বদলায়নি। দেশের অর্থনীতি এখনো তেলের ওপরই নির্ভরশীল। তাদের সেনাবাহিনী এখনো রাজত্ব সামলানোর জন্য তৈরি, পুরোদস্তুর যুদ্ধ লড়ার জন্য নয়। আর তাদের পররাষ্ট্রনীতি এখনো সেই আমেরিকার প্রতিরক্ষার ওপরই ভরসা করে বসে আছে।

হয়তো কোনো এক দিন এই বিষয়গুলোতেও বড় বদল আসবে। পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি বা তুরস্কের সঙ্গে মক্কা চুক্তি হলো নতুন কিছু মিত্র খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা, যাতে অনির্ভরযোগ্য আমেরিকাকে ছাড়াই কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। তবে এই পরিবর্তনগুলো ঘটতে দীর্ঘ সময় লাগবে। ক্ষমতায় নিজের দ্বিতীয় দশকে এসে সৌদি শাসকের আসল পরীক্ষা হবে ব্যবস্থার ওপরের প্রলেপ বা পলিশ বদলানো নয়, বরং পুরো কাঠামোটাই বদলে ফেলা।

দ্য ইকোনমিস্ট থেকে ভাষান্তর জুলফিকার হায়দার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%