০৪:২১ পি.এম
সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন মাদক কারবারের সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই।" রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকে, তবে তার মুখোশ উন্মোচন করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তিনি জানান, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।’
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। দেশের মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিছু কুচক্রী মহল মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব কারবারি নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ও পরিবর্তন করে। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালানোর সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
আরও পড়ুন: আইনমন্ত্রী: আইনজীবীর শক্তি মানবিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও সততা
তিনি বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা প্রকাশ্যে আনতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে নানা কৌশলে মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে কয়েকটি পরিচিত পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে। কিছু ভুঁইফোড় ওষুধ কোম্পানির বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
একটি গোষ্ঠী ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাদক ছড়িয়ে সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, মাদকাসক্তি মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ায় এবং ভয়াবহ অপরাধের ঝুঁকি তৈরি করে। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড ও বহুল আলোচিত ঐশীর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মাদকের বিরূপ প্রভাবের কারণে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি জানান, দেশে মাদকের সহজলভ্যতা এর বিস্তার বাড়ার অন্যতম কারণ। হাত বাড়ালেই এখন গাঁজা, ইয়াবাসহ উচ্চমূল্যের বিভিন্ন মাদক পাওয়া যাচ্ছে। ইয়াবা শহর থেকে গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার দিলে ঘরে বসেই মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মাদকের সঙ্গে অপরাধের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যারা মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকা উচিত নয়। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে মাদক কারবারিরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান পরিবর্তন করে। সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো মাদক কারবারি যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: বটতলায় কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই অনুষ্ঠিত হলো শিবিরের প্রকাশনা উৎসব
তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসেবী, বাহক ও ছোট কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাদক পরিবহনে অপরাধীরা এখন নানা ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে। কখনো দোকানের আড়ালে, কখনো ভ্রাম্যমাণ দোকানে, আবার কখনো হাঁটতে থাকা ব্যক্তির শরীরে কিংবা যাত্রীবাহী যানবাহনের গোপন চেম্বারে মাদক বহন করা হচ্ছে। এমনকি পাকস্থলীর ভেতরে এবং মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চেম্বারেও ইয়াবা বহনের ঘটনা ঘটছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব শুধু সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। মাদকের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এর সহজলভ্যতা বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ ও মনোচিকিৎসাবিদ্যার অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন এবং ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাবেক জাতীয় বিতার্কিক মো. কাউছার আলম। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে আয়োজিত এ সেমিনারে সহযোগিতা করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ডিবেটিং সোসাইটি ও ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন