১২:২৪ পি.এম
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদিকে সৌদি আরব রিয়াদ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। শুক্রবার তাঁর কার্যালয় থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে গত মাসে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের প্রাণঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রতিশোধমূলক হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জুলাই মাসের শেষের দিকে, আল-জায়েদির রিয়াদ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলায় পাঁচজন ইরানিসহ প্রায় ২০ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর ওই সফর বাতিল হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: হরমুজে ৪ দেশকে ছাড় পাচ্ছে, জানাল ইরান
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া অফিস জানায়, সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান খালিদ বিন আলী আল-হুমাইদান আল-জায়েদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সৌদি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করে একটি বার্তা পেশ করেন।
সৌদি আরব খবর প্রকাশ করেছে যে, তাদের বাহিনী তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা বেশ কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এসব হামলার জন্য রিয়াদ ইরাকে কার্যত সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে হামলা চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বহুবার মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আল-জায়েদি এসব গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বেশ কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কাছ থেকে গুরুতর বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫২২ জন
ইরাক সরকার দীর্ঘদিন ধরে বলছে যে, প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত এবং বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দুটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার প্রতিক্রিয়ায় সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা যাতে সফল না হয়, সেই লক্ষ্যে এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
কিন্তু শুক্রবার জোটটি জানায়, ‘আজ যে প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে।’
ইরানপন্থী রাজনৈতিক নেতা ও বদর সংগঠনের প্রধান হাদি আল-আমেরির আহ্বানের পর তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার ‘সম্মানজনক অবস্থান’ সম্পর্কেও তারা কথা বলেছে।
ইরানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা আল-আমেরি ভিডিও বার্তায় ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হামলার প্রতিশোধ না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ওয়াশিংটন যেসব গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে, ইরাক সরকার তাদের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরস্ত্র হওয়ার সময়সীমা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান—দুই দেশই ইরাকের প্রধান মিত্র। তবে দীর্ঘ সময়ের বৈরিতার কারণে দেশটি কার্যত তাদের পরোক্ষ সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে ইরাকের সরকারগুলো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন