০১:০৯ এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত এবং সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যাতে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে সবাই চিকিৎসা পেতে পারে। গ্রামীণ মানুষের চিকিৎসার জন্য যাতে অন্য কোথাও যেতে না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন। সরকারি হাসপাতাল যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়, এটা নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের উচিত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও আন্তরিক হওয়া, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করেন। এটি ছিল প্রথমবার, যখন প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অডিটোরিয়ামে নিজে গিয়ে বৈঠক করলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন। বৈঠকের শুরুতে, তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্যখাতে গত ৫ মাসের অর্জন সম্পর্কে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তারা সে বিষয়ে উপস্থাপন করেন।
তারা জানান, বিগত সরকার স্বাস্থ্যখাতকে একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে এবং প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
বৈঠকে আলোচনা হয় যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে অভিযোগ দেখা যায়, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে।
এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামের জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করা প্রয়োজন।
সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যাতে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে সবাই চিকিৎসা পায়, সেই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।
উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, প্রধানমন্ত্রী কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে, জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
তিনি আরও বলেন, জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, সেগুলোকে ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।
এই কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫১ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
১০১ শয্যায় উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় গণপূর্তের প্রকোশলীরা অবকাঠামোর নকশাসহ বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন।
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিতসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন