ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিএনপিপন্থী প্রকৌশলী আবু সাঈদ আকন্দের বিরুদ্ধে হয়রানি অভিযোগ


বিএনপিপন্থী প্রকৌশলী আবু সাঈদ আকন্দের বিরুদ্ধে হয়রানি অভিযোগ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ আকন্দ, যিনি অধিদপ্তরের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিপন্থী পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত থাকা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী তাঁকে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতি তাঁর সামাজিক এবং পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সাঈদ আকন্দের পিতা মরহুম ফজলুল হক আকন্দ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে নির্বাচিত গ্রাম সরকারের সদস্য ছিলেন। তিনি চর আমখাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠকদের মধ্যে একজন ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, পাশাপাশি ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন।

আবু সাঈদ আকন্দের পরিবারে অন্যান্য সদস্যরাও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর বড় বোন মোছা. হাসনা হেনা ইউনিয়ন মহিলা দলের সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমানে সভাপতি পদপ্রার্থী। তাঁর চাচা নূর মোহাম্মদ জাহিদ ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং আরেক চাচা আব্দুল জলিল আজাদ চর আমখাওয়া ইউনিয়ন যুবদলের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। তাঁর ভাগিনা কামরুল হাসান জুয়েল যুবদলের ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি।

আরও পড়ুন: দীপকে সন্দেহ, সঙ্গের তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ

পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে তাদের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩-১৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ আকন্দের বাবা ও চাচাদের অনেক রাত বাড়ির বাইরে কাটাতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

আবু সাঈদ আকন্দ জানান, ২০১৪ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগদানের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় তাঁকে জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। পরিবারের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে বিশেষ শাখার যাচাই প্রক্রিয়ায় তাঁর ফাইল আটকে যায়। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি অবশেষে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

চাকরিজীবনে তিনি নেত্রকোনা, রংপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কর্মজীবনে তাঁকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। বেশ কয়েকটি কর্মস্থলে তাঁকে দূরবর্তী বা ডাম্পিং পোস্টিংয়ের পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পরে তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সমিতির সদস্যদের অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আবু সাঈদ আকন্দ।

আরও পড়ুন: সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত রিকশাচালক

সরকারি অনুষ্ঠানের ছবি ঘিরে বিতর্ক

আবু সাঈদ আকন্দের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ক্ষেত্রে সরকারি অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তিনি জানান, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসংক্রান্ত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। ওই অনুষ্ঠানে তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

একইভাবে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তৎকালীন সংসদ সদস্য জি এম কাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তোলা এসব ছবি পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাঁর মতে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন ও অতিথিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা জানানো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রমাণ নয়।

আরও পড়ুন: লাইভে রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় মিয়া গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য

বদলি নিয়েও অভিযোগ

আবু সাঈদ আকন্দের দাবি, অপপ্রচার ও হয়রানির ধারাবাহিকতায় তাঁকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে রংপুরে বদলি করা হয়। পরবর্তী সময়ে সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রধান প্রকৌশলী তাঁকে ঢাকা জেলায় বদলি করেন। তবে কর্মস্থল পরিবর্তনের পরও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপপ্রচার বন্ধ হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন।

তাঁর ভাষ্য, কোনো নির্বাচিত পেশাজীবী প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। প্রমাণের আগেই রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করা অনুচিত।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বক্তব্য

আরও পড়ুন: সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

আবু সাঈদ আকন্দের পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে চর আমখাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক নূরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম মাস্টারের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তাঁরা পরিবারটির দীর্ঘদিনের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবু সাঈদ আকন্দের বাবা ফজলুল হক আকন্দ ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রোখসানা বেগম বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ আকন্দের বাবা ফজলু চাচা স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতা ছিলেন। তাঁর বড় বোন হাসনা হেনা আমার সঙ্গে রাজনীতি করেন। আমি বেশ কয়েকবার তাঁদের বাড়িতে গিয়েছি। তাঁরা খুব ভালো মানুষ।’

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আবু সাঈদ আকন্দ বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করি। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় এবং পরিচয় জাহির করাও উচিত নয়। চাকরির পাশাপাশি আমি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। সমিতির সদস্য প্রকৌশলীদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করি। এতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা আছে। তারা তদন্ত করলেই আমার প্রকৃত পরিচয় বের হয়ে আসবে। আমার আর কিছু বলার নেই।’

আরও পড়ুন: বর্তমান সরকার জাতির ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে: জামায়াত আমির

পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে একসময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের প্রক্রিয়ায় জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার দাবি করা এই প্রকৌশলীর প্রশ্ন, নিজের পরিচয়ের প্রমাণ তাঁকে আর কতবার দিতে হবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে নানা আয়োজনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


পিরোজপুরে নানা আয়োজনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

পিরোজপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় হোটেল নায়রীতে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভাটি আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম শামীম এবং জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

সভাটি সঞ্চালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আকরাম মোল্লা।

আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পিরোজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কার্যক্রম সীমিতভাবে পরিচালিত হলেও, কিছু সদস্যের সহযোগিতায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে বর্তমানে পিরোজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে এবং সদস্যসংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বক্তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এর একটি প্রধান কারণ ছিল নিজেদের মধ্যে ঐক্যের অভাব। আগামী দিনে সংগঠনের স্বার্থে সকল নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভার শেষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য কাতারে পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


ইরানি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য কাতারে পৌঁছেছে

একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার উদ্দেশ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পর ঘটেছে। কাতারভিত্তিক একটি পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন উপসহকারী বা প্রতিনিধিদলটি কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য দোহায় অবস্থান করছে। এর আগে, কাতারের একটি আলোচনাকারী দল তেহরান সফর করে। তেহরানে অনুষ্ঠিত সেই তীব্র কূটনৈতিক আলোচনা থেকেই মূলত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপে এই ‘ব্রেকথ্রু’ বা অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

ইরানি সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা সরাসরি না হয়ে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, খুব শীঘ্রই দোহায় এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় মার্কিন একটি প্রতিনিধি দলও যোগ দিতে পারে। এমনকি, তারা ইরানি আলোচনাকারীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকেও অংশ নিতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলাতে সহায়ক হতে পারে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল এবং তেহরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা সংক্রান্ত প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে একটি চুক্তির সম্ভাবনা উন্মুক্ত করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সম্ভাব্য সমঝোতায় চীন ও রাশিয়া জামিনদার হিসেবে থাকতে পারে। সূত্র: আনাদোলু।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের রাতুলের জন্য কমনওয়েলথের বিশেষ ম্যাচে সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


বাংলাদেশের রাতুলের জন্য কমনওয়েলথের বিশেষ ম্যাচে সুযোগ

‘কমনওয়েলথ ফিউচার স্টারস’ টি-টেন ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও একতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে। এই বিশেষ প্রদর্শনী ক্রিকেট ম্যাচটি আগামী রবিবার অ্যান্টিগার বিখ্যাত স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচে মুখোমুখি হবে ক্যারিবীয় অনূর্ধ্ব-২৩ দল এবং ওয়াইডার কমনওয়েলথ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার সামিউন বশির রাতুল এই বিশেষ ম্যাচটিতে সুযোগ পেয়েছেন।

বাংলাদেশের এই স্পিনার ওয়াইডার কমনওয়েলথ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে খেলবেন। ১২ সদস্যের স্কোয়াডে ইংল্যান্ড, কানাডা ও বারমুডার ক্রিকেটারদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) মাঝপথে অ্যান্টিগায় পৌঁছেছেন ম্যাচে অংশগ্রহণের জন্য।

২০২৬ কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনের (চোগম) অংশ হিসেবে এই ক্রিকেট উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ডাগআউটে মেন্টর ও অনারারি ম্যানেজার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি। কিংবদন্তি স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস ক্যারিবীয় তরুণদের দিকনির্দেশনা দেবেন এবং ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড গাওয়ার ওয়াইডার কমনওয়েলথ দলের দায়িত্বে থাকবেন। ক্যারিবীয় অনূর্ধ্ব-২৩ দলটি ১২টি ভিন্ন ক্যারিবীয় দেশের উদীয়মান খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত এবং এর নেতৃত্ব দেবেন ডোমিনিকার স্টিফান প্যাসকেল।

একই সন্ধ্যায় তরুণদের এই ম্যাচের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের নিয়ে একটি বিশেষ টি-৫ (৫ ওভারের) ম্যাচ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কমনওয়েলথ হেডস শোডাউন’।

এই ম্যাচে ক্যারিবীয় রাষ্ট্রপ্রধানদের দলের অধিনায়কত্ব করবেন গায়ানার প্রেসিডেন্ট ড. ইরফান আলী এবং ওয়াইডার কমনওয়েলথ একাদশের নেতৃত্বে থাকবেন কেনিয়ার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট কিথুরে কিন্ডিকি। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে ঐক্য সুদৃঢ় করাই এই বিশেষ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেহ ভারতের, প্রাণ আমেরিকার: মার্কিন প্রযুক্তিতে বন্দী দিল্লির যুদ্ধবিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


দেহ ভারতের, প্রাণ আমেরিকার: মার্কিন প্রযুক্তিতে বন্দী দিল্লির যুদ্ধবিমান

চলতি মাসের শুরুতে বারাণসীতে গঙ্গা নদীর ওপর অনুষ্ঠিত একটি বর্ণাঢ্য মহড়ার মাধ্যমে ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ) তাদের ৯৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। এই জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক প্রদর্শনীতে বাহিনীটি তাদের ঐতিহাসিক অর্জন, বর্তমান যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রদর্শনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফাইটার জেটের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে। কিন্তু এই দৃষ্টিনন্দন মহড়া ও উচ্চাভিলাষী ভবিষ্যৎ ভাবনার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক চরম ও অস্বস্তিকর সত্য—ভারতের নিজস্ব ফাইটার তৈরি সম্পর্কিত মূল উদ্যোগগুলো আমেরিকান প্রযুক্তির ইঞ্জিনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ভারতের এই জরুরি ইঞ্জিনের একটি সরবরাহ নিয়ে বর্তমানে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, আর অন্যটি প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয় উৎপাদন অধিকার এবং দাম নির্ধারণ নিয়ে জটিল দরকষাকষির কবলে আটকে আছে।

তেজস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এলসিএ) এমকে১এ-এর জন্য জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই)-এর ৮৪-কিলোনিউটন ক্ষমতাসম্পন্ন 'এফ৪০৪-জিই-আইএন২০' ইঞ্জিনের সরবরাহ ক্রমাগত বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে, আপগ্রেডেড ৪.৫-প্রজন্মের তেজস এমকে২ এবং পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমকা)-এর জন্য ব্যবহৃত অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ৯৮-কিলোনিউটন 'এফ৪১৪-জিই-আইএনএস৬' ইঞ্জিনের স্থানীয় উৎপাদনের প্রস্তাবটি আটকে গেছে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিধি, হ্যাল-এর নিয়ন্ত্রণ এবং চুক্তির ব্যবসায়িক শর্তাবলি নিয়ে জটিলতার কারণে।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর সমস্যা এখানেই শেষ নয়; তাদের অপারেশনাল বা যুদ্ধসংক্রান্ত পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক। কারণ বিমানবাহিনীর ফাইটার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা বর্তমানে সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, তাদের পুরনো যুদ্ধবিমানগুলোর মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে, আর সেগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য নতুন কোনো বিকল্প যুদ্ধবিমানও সহজে দৃশ্যমান হচ্ছে না।

এক কথায়, ১৯৩২ সালের অক্টোবরে ‘রয়্যাল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৯৫০ সালের জানুয়ারিতে ভারত প্রজাতন্ত্র হওয়ার পর ‘আইএএফ’ নাম পাওয়া এই বাহিনীটি তাদের ৯৪তম বর্ষপূর্তিতে এমন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যা নিয়ে সরকারের খুব কম লোকই গুরুত্বের সাথে কথা বলতে আগ্রহী।

দ্রুত বাড়তে থাকা প্রযুক্তিগত ব্যবধান

আইএএফ-এর অনুমোদিত ৪২টি ফাইটার স্কোয়াড্রনের বিপরীতে বর্তমানে এটি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৮ থেকে ২৯টিতে। অথচ ভারতের দুই প্রতিবেশী ও প্রধান দুই সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী—চীন ও পাকিস্তান—তাদের বিমানবাহিনীকে কেবল সংখ্যায় নয়, সামরিক কার্যক্ষমতায়ও দ্রুত আধুনিক ও প্রসারিত করছে।

চীন বর্তমানে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিপুল সংখ্যক ৫ম প্রজন্মের ‘জে-২০’ স্টিলথ ফাইটার মোতায়েন করেছে এবং ষষ্ঠ প্রজন্মের এয়ারক্রাফট তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি চীনের মিত্র পাকিস্তান দ্রুততম সময়ে চীনা ‘জে-৩৫এই’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং জানা গেছে যে তাদের পাইলটরা ইতিমধ্যে চীনে এই বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

এই প্রযুক্তি ও ক্ষমতার ব্যবধান কেবল সংখ্যার বিচারে নয়। দীর্ঘ সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে 'দ্বিমুখী যুদ্ধ'-এর জন্য প্রস্তুত থাকা ভারতীয় বিমানবাহিনীর পুরোনো ফ্লিটের তুলনায় চীনা ও পাকিস্তানি বিমানের পাল্লা, সেন্সর, অস্ত্র ও আধুনিক সমন্বিত কমব্যাট সিস্টেমের সক্ষমতা অনেক বেশি উন্নত।

এই উদ্বেগজনক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মাঝেই ভারতীয় বিমানবাহিনীর বেশ কিছু পুরনো যুদ্ধবিমান অবসরে যেতে বসেছে। এর মধ্যে প্রধান হলো ১৯৭৯ সাল থেকে বহরে যুক্ত হওয়া অ্যাংলো-ফরাসি ‘সেপেকাট জাগুয়ার’ অ্যাটাক ফাইটারের ছয়টি স্কোয়াড্রন (প্রায়১১৮-১২০টি বিমান)। বিশ্বজুড়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীই এখন একমাত্র বাহিনী যারা এখনো জাগুয়ার পরিচালনা করছে। এই বিমানগুলোকে উড্ডয়নক্ষম রাখতে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে অবসরে পাঠানো ৯টি রয়্যাল এয়ারফোর্সের ব্যবহৃত জাগুয়ার কেনা হয়েছে—যেগুলো মূলত খুলে ফেলে ইঞ্জিন, এভিওনিক্স, হাইড্রোলিক সিস্টেম এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তাছাড়া, আইএএফ-এর আপগ্রেডেড সোভিয়েত আমলের ‘মিগ-২৯’ (MiG-29)-এর ৩টি স্কোয়াড্রন (প্রায় ৬৫টি বিমান) এবং ‘মিরাজ ২০০০এইচ’ (Mirage 2000H)-এর ৩টি স্কোয়াড্রন (৪৪-৪৬টি বিমান)-এর মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। ১৯৮০-র দশকে যুক্ত হওয়া এই যুদ্ধবিমানগুলোকে আধুনিক এভিওনিক্স, রাডার ও আধুনিক অস্ত্র দিয়ে সচল রাখা হলেও আইএএফ বিশেষজ্ঞরা একমত যে এই উন্নয়ন দিয়ে চিরতরে এদের বিকল্প খোঁজা আটকে রাখা যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইএএফ-এর একজন অবসরপ্রাপ্ত ফাইটার পাইলট সতর্ক করে বলেছেন, ‘জাগুয়ারের মতো মিগ-২৯ এবং মিরাজ-২০০০এইচ অবসর নিলে ইতোমধ্যে সংকটে থাকা ফাইটার ফ্লিটের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।’

আইএএফ-এর কমব্যাট ফ্লিটের মূল ভিত্তি হিসেবে থাকা ‘সুখাই সু-৩০এমকেআই’-এর ১৩টি স্কোয়াড্রন (প্রায় ২৬৫টি বিমান)-এর অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। এর মধ্যে ২০০টি বিমানকে ‘সুপার সুখাই’ মানদণ্ডে উন্নীত করার কথা রয়েছে, যার প্রাথমিক ধাপে ৮৪টি বিমানে ‘এইসা’ রাডার, উন্নত এভিওনিক্স, আইআরএসটি সেন্সর এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সুট যুক্ত করা হবে। কিন্তু এই প্রকল্পটির জন্য এখনো সরকারের চ চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এমনকি অনুমোদন পেলেও লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদনকারী সংস্থা হ্যাল (এইচএএল) জানিয়েছে, এর প্রাথমিক উন্নয়ন শেষ করতেই অন্তত পাঁচ বছর লেগে যাবে। অর্থাৎ, প্রযুক্তিগত এই উন্নয়ন পূর্ণাঙ্গভাবে পেতে পেতে কয়েক বছর সময় পার হয়ে যাবে।

রাফাল কেনার প্রশ্ন

হতাশাজনক এই পরিস্থিতির মধ্যে ফ্রান্সের দাসো থেকে 'মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট' প্রকল্পের অধীনে অতিরিক্ত ১১৪টি 'রাফাল' কেনার সাড়ে ৩ লাখ কোটি রুপি মূল্যের প্রস্তাবটি কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। এর মধ্যে ৯০ থেকে ৯৪টি বিমান ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বাণিজ্য আলোচনা শেষ হলেও প্রথম চালানের বিমান হাতে পেতে বহু বছর লেগে যাবে, যা তাৎক্ষণিক স্কোয়াড্রন সংকট মেটাতে অক্ষম।

এমতাবস্থায়, ভারত চাইলে রাশিয়ার তৈরি ৫-প্রজন্মের 'সুখাই সু-৫৭' বিমানটিকে সাময়িক বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। মস্কো বারবার ভারতের কাছে এটি স্থানীয়ভাবে যৌথ উৎপাদনের প্রস্তাব দিলেও ভারত সরকার এ বিষয়ে দীর্ঘ বিলম্ব ও ইতস্তত করছে।

এফ৪০৪ ইঞ্জিন সরবরাহে জিই-র ব্যর্থতা

আইএএফ-এর স্কোয়াড্রন সংখ্যার এই ক্রমাগত পতন ঠেকাতে ‘তেজস এমকে১এ’-কে মূল কাণ্ডারি মনে করা হচ্ছিল। ভারতীয় বিমানবাহিনী দুটি দফায় মোট ১৮০টি ‘এমকে১এ’ ক্রয়ের নির্দেশ দিয়েছে। প্রথম ৮৩টির অর্ডারের প্রথম চালান ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাওয়ার কথা থাকলেও দুই বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পর হ্যাল এখনো একটি বিমানও বিমানবাহিনীকে সরবরাহ করতে পারেনি। কারণ, মূল বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকান কোম্পানি 'জিই' কর্তৃক সময়মতো ‘এফ৪০৪-জিই-আইএন২০’ ইঞ্জিন সরবরাহ করতে না পারা।

২০২১ সালে সই করা চুক্তি অনুযায়ী ৯৯টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জিই মাত্র ১৪টি ইঞ্জিন পাঠাতে পেরেছে। নির্ধারিত ২০২৪ সালের মার্চের এক বছর পর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চে প্রথম ইঞ্জিনটি ভারতে এসে পৌঁছায়। ফলে ইঞ্জিনের অভাবে হ্যাল-এর কারখানায় বেশ কিছু সম্পন্ন তেজস এয়ারফ্রেম আটকে আছে।

সমস্যা কেবল ইঞ্জিনের ঘাটতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। আইএএফ অফিসারদের মতে, তেজস বিমানে ইসরায়েলি এইসা রাডারের সাথে ভারতের তৈরি ‘অঙ্গদ’ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সুট এবং মিশন সিস্টেমের প্রযুক্তিগত সমন্বয় ঘটাতে হ্যাল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

এফ৪১৪ চুক্তি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জটিলতা

একইভাবে ‘তেজস এমকে২’ এবং ৫-প্রজন্মের ‘এমকা’ প্রকল্প দুটিও জিই-এর আরও শক্তিশালী ‘এফ৪১৪-আইএনএস৬’ ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করে তৈরি হচ্ছে। তবে এই ইঞ্জিনের প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিধি, উৎপাদন সত্ত্ব এবং মূল্যের চুক্তি নিয়ে হ্যাল ও আমেরিকান জিই-এর মধ্যে এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

২০২৩ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওয়াশিংটন সফরের সময় ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল যে প্রথম ৮টি তৈরি ইঞ্জিন ছাড়া বাকি ৯১টি ‘এফ৪১৪’ ইঞ্জিন ভারতে তৈরি হবে। তবে তারপর থেকেই কতটুকু ‘আইপি’ (মেধা সম্পত্তি) বা কারিগরি জ্ঞান জিই শেয়ার করবে এবং এর চূড়ান্ত মূল্য কত হবে তা নিয়ে মতভেদে বিষয়টি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

অধিকন্তু, প্রাথমিক চুক্তির তুলনায় হঠাৎ ‘এফ৪১৪’ ইঞ্জিনের প্রতি ইউনিটের আনুমানিক মূল্য ৭০-৮০ কোটি রুপি থেকে একলাফে ২০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যাওয়া এবং ভারতে নিবেদিত কারখানা তৈরি করতে বাড়তি ৮০ কোটি ডলার দাবি করায় চুক্তি জটিল আকার ধারণ করেছে।

ভারতের নিজস্ব 'এমকা' প্রকল্পের প্রোটোটাইপ ও প্রাথমিক চালানের জন্যও ১৪-১৫টি এফ৪১৪ ইঞ্জিন প্রয়োজন। যদিও পরবর্তীতে ২০৩০-৩১ সালের দিকে যুক্তরাজ্যের 'রোলস-রয়েস' বা ফ্রান্সের 'সাফরান'-এর সাথে যৌথভাবে ভারতে নিজস্ব ইঞ্জিন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে সকল পথই জিই-এর দিকে গিয়ে আটকে গেছে।

মার্কিন নিষেধাজনক এবং ইতিহাসের শিক্ষা

যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনের জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকি প্রথম প্রকাশ্যে এসেছিল ১৯৯৮ সালের মে মাসে, যখন ভারত পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর ওয়াশিংটন ভারতের ওপর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই সময় জিই তাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট টিম ভারত থেকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ভারতের তেজস প্রজেক্টের সাথে যুক্ত অন্যান্য মার্কিন সংস্থাগুলো যৌথ গবেষণার উপাত্ত ও সরঞ্জাম নিজেদের জিম্মায় আটকে রেখে চুক্তি বাতিল করে।

সেই ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রমাণ করেছিল যে ওয়াশিংটনের একক কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে ভারতের যুদ্ধবিমান কর্মসূচি কতটা সহজে থমকে যেতে পারে। কিন্তু নিষেধাজনক উঠে যাওয়ার পর ২০০৪ সালে ভারত ফের তেজসের জন্য সেই জিই ইঞ্জিনকেই বেছে নেয়।

প্রকল্পের সাথে যুক্ত আইএএফ-এর এক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘যে তেজসকে সম্পূর্ণ দেশীয় বা আত্মনির্ভরতার চরম প্রতীক হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, তা আজ বিদেশি সরবরাহকারী কোম্পানি, তাদের করপোরেট বিলম্ব এবং পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর জিম্মি হয়ে পড়েছে।’

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ভারত সফলভাবে একটি যুদ্ধবিমানের কাঠামো তৈরি করতে শিখেছে, কিন্তু তাকে ওড়ানোর বা চালিকাশক্তি দেওয়ার মতো উপযুক্ত ইঞ্জিন প্রযুক্তি তৈরি করতে এখনো শেখেনি। আর যতক্ষণ না ভারত এই দুটিই নিজে করতে পারছে, ততক্ষণ সামরিক বিমানে সত্যিকারের 'আত্মনির্ভরতা' কেবল রানওয়েতেই থমকে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%