০৭:৩২ পি.এম
ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ : আরবি ভাষায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশের প্রথমবারের মতো ‘অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ’ এর ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) ও কারিকুলাম তৈরি করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (এনএসডিএ)।
এর ফলে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে আরবি ভাষাকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি দেশে আরবি ভাষা প্রথম ভাষা এবং ২৮টি দেশে দ্বিতীয় ভাষারূপে প্রচলিত রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরবি ভাষা প্রশিক্ষণে যে মানসম্মত ও অভিন্ন মানদণ্ড গড়া হচ্ছে, তা এনএসডিএ-এর নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে দেশের সব নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে।
এক্ষেত্রে ‘অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ’ এর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) ও কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) তৈরির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল (মঙ্গলবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসডিএর সম্মেলনকক্ষে দিনব্যাপী একটি ভ্যালিডেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে আবারও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ড
এই কর্মশালায় আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞ, একাডেমিয়া, প্রশিক্ষক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কার্যক্রমের সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।
কর্মশালায় আরবি ভাষা শেখার জন্য দরকারি জ্ঞান, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ বিষয়বস্তু, শিখনফল এবং মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ড. নাজনীন জানান, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকে মানসম্মত, স্বীকৃত এবং কর্মসংস্থানমুখী করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে শিল্পজাত, একাডেমিয়া ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত অংশগ্রহণে যুগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি এও জানান, সরকারের উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার উপযোগী দক্ষতা উন্নয়নের অঙ্গীকার অনুযায়ী, বিভিন্ন ভাষার মানসম্মত কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন: প্রাণনাশের শঙ্কায় ভুগছেন ড. মোশাররফের পুত্রবধূ নাইমা
এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নির্মাণে ভাষা দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যদি মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের আরবি ভাষায় দক্ষতায় সক্ষম করা যায়, তবে দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অংশীদারদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে ‘অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ’ এর ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট চূড়ান্ত করা হবে। এর পর এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হবে। এতে করে প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন এবং দক্ষতার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার আলোকে বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য নিয়মিতভাবে কাজ করছে এনএসডিএ। ইতোমধ্যে ইংরেজি ও জাপানি ভাষার ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে আরবি ভাষার পাশাপাশি চীনা, কোরিয়ান ও ইতালিয়ান ভাষার ওপরও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এনএসডিএ-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ড বিভাগ ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান, বাংলাদেশ বেতারের বহির্বিশ্ব কার্যক্রম প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ এনামুল হক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন খাঁন, আরবি ভাষা প্রশিক্ষক মো. নুরুদ্দীন, মারকাজুল লুগাতিল আরাবিয়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মহিউদ্দিন ফারুকী, কাতার দূতাবাসের সিনিয়র অনুবাদক হামেদ জামিল হোসাইন এবং জামিয়াতুল উস্তায শহিদুল্লাহ ফজলুল বারির আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক আলমগীর মুরতাজা।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ইবি ইউট্যাবের শ্রদ্ধা নিবেদন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন