০৪:০৮ পি.এম
ময়লা-আবর্জনা আর ফেলনা জিনিস হিসেবে বিবেচিত হবে না, বরং সেখান থেকে আসবে বহুমুখী সম্পদ। বাড়িঘর এবং বাজারের ফেলে দেওয়া বর্জ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হবে মূল্যবান জৈব সার ও মাছের খাবার। ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামে নির্মিত হচ্ছে একটি কমিউনিটিভিত্তিক আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট, যা পরিবেশ দূষণের অবসান ঘটিয়ে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব আনতে সহায়তা করবে। এই যুগান্তকারী প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২১ লাখ টাকা, এবং এর সুফল ভোগ করবেন এলাকার ৮০০ পরিবারের প্রায় ৬০০০ মানুষ।
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি গত ২১ সেপ্টেম্বর ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘মডেল গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্ল্যান্টটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৫টি মডেল গ্রামের মধ্যে ডুমুরিয়ার টিপনা গ্রাম স্থান পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টিই প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার পাচারের সময় আটক ডিলারসহ দুজনের কারাদণ্ড ও জরিমানা
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় টিপনা গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবারের বসতবাড়ি থেকে গৃহস্থালির বর্জ্য বা হাউজহোল্ড ওয়েস্ট সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তীতে গ্রামের নির্দিষ্ট স্থানে আধুনিক প্ল্যান্ট তৈরি করে সেই বর্জ্য রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) তৈরি করা হবে। এর মধ্যে মাছের লার্ভা বা খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়ক বাই-প্রোডাক্ট তৈরি করে তা বিক্রি করা হবে। বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানীয় পরিবারগুলোও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। এটি বর্তমানে পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে, যা পরবর্তীতে সফলতা সাপেক্ষে বাজার এলাকাগুলোতে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজের অর্ডার বা কার্যাদেশ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব স্বীকৃত ‘ত্রি-আর’ (হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ) নীতি পুরোপুরি অনুসরণ করা হবে। ফলে বর্জ্যের পরিমাণ যেমন কমবে, তেমনি প্রতিটি উপাদানকে উৎপাদন কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়িঘর ও বাজার থেকে পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হবে। এরপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হবে মানসম্মত জৈব সার।
এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিতে লার্ভা উৎপাদনের মাধ্যমে মাছের খাবার তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্লাস্টিকসহ অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদে আনবে চমৎকার পরিবর্তন। এতে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা যেমন কমবে, তেমনি কৃষি ও মৎস্যখাতে সাশ্রয়ী বিকল্প উপাদানের জোগান নিশ্চিত হবে।
আরও পড়ুন: উত্তরের নদ-নদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে
সংশ্লিষ্টদের আশা, বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। কৃষিতে জৈব সার এবং মৎস্য খাতে দেশীয় খাবার ব্যবহারের ফলে চাষিদের উৎপাদন খরচও অনেকাংশে কমে আসবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বলেন, আধুনিক এই প্ল্যান্টটি চালুর মাধ্যমে বর্জ্য সম্পদে পরিণত হবে। পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি এলাকার ৬ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় এটি দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নয়, টিপনা আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুক্ত হয়েছে আরও কিছু উদ্যোগ। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে গ্রামের ২৪০টি পরিবারে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক টয়লেট। পাশাপাশি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ৫০টি ডিপ টিউবওয়েল। নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা এবং উন্নত স্যানিটেশন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এনে দিয়েছে স্বস্তি।
এ বিষয়ে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি বলেন, সরকারের এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বর্জ্য থেকে সার ও মাছের খাবার উৎপাদনের এই মডেল শুধু টিপনা নয়, পুরো ডুমুরিয়ার জন্য এক বিরাট আশীর্বাদস্বরূপ। সূত্র: বাসস
আরও পড়ুন: যশোরে খেজুরের গুড় সংগ্রহ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন