০৯:০৬ এম
সেতু নির্মাণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু দুপাশের সংযোগ সড়ক নেই। এর ফলে আট বছর অপেক্ষার পরও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর-আড়ালিয়া গ্রামের মানুষ সেতুর সুফল পাচ্ছেন না। তাদের যাতায়াতের ভরসা এখন বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে আব্দুল্লাহপুর-আড়ালিয়া গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই কাজের জন্য তিন কোটি ৪৮ লাখ টাকায় কার্যাদেশ পায় আহমেদ স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সেতুর পাইলিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ করে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা পাইলিংয়ের কাজের সমপরিমাণ বিল উত্তোলন করে অসমাপ্ত কাজ রেখেই এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
এরপর প্রায় দুই বছর সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকে। পরে এলজিইডির জিডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় তৎকালীন বাজারদর বিবেচনায় অবশিষ্ট কাজের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দ্বিতীয় দফায় তিন কোটি ২০ লাখ টাকায় কাজটি সম্পন্নের দায়িত্ব পায় ওরিয়েন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে বরণে খুলনা মহানগরী বর্ণিল সাজে সজ্জিত
দ্বিতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় সাত-আট মাস আগে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করলেও তারা দুপাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই কাজ গুটিয়ে নেয়। ফলে সেতুটি দাঁড়িয়ে থাকলেও তা দিয়ে চলাচলের কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গড়িমসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে দীর্ঘ আট বছরেও প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও সামান্য সংযোগ সড়কের অভাবে দুপাড়ের বাসিন্দাদের আগের মতোই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় আব্দুল্লাহপুর-আড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মাদকের আসামি ধরতে গিয়ে এএসআই পিস্তল হারালেন, সন্ধান দিলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন