ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ব্রাহ্মণপাড়ার স্কুলের প্রবেশপথে ময়লা-আবর্জনা, শিক্ষার্থীদের নাক চেপে ঢুকতে হয়


ব্রাহ্মণপাড়ার স্কুলের প্রবেশপথে ময়লা-আবর্জনা, শিক্ষার্থীদের নাক চেপে ঢুকতে হয়

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে রয়েছে। কয়েক মাস আগে টানা বৃষ্টির ফলে পাশের পুকুরের পানি উপচে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ ডুবে যায়। পানি সরে গেলেও পানির সঙ্গে ভেসে আসা বর্জ্য এখনো অপসারিত হয়নি। ফলে প্রতিদিন শিশুশিক্ষার্থীদের এসব ময়লা মাড়িয়েই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলেও বর্জ্য অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চলাচলের কারণে শিশুরা জীবাণুর সংস্পর্শে এসে অসুস্থ হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে ভারী বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়সংলগ্ন ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরের পানি উপচে পড়ে। এর ফলে ব্রাহ্মণপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ পানিতে তলিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের নির্বাচন; সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন মোঃ মুশতাক আহমেদ

পুকুরে ফেলা আশপাশের বাসাবাড়ির বর্জ্য এবং পুকুরের পাড়সংলগ্ন ব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজারের ময়লা-আবর্জনাও পানির সঙ্গে ভেসে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে জমা হয়। পানি নেমে গেলেও বর্জ্যগুলো রয়ে যায় পথের ওপর ও আশপাশে। দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো পরিষ্কার না করায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

উপজেলা সদরে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন অসংখ্য শিশু পড়তে আসে। বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় তাদের ময়লা-আবর্জনার ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে পোশাক ও জুতা নোংরা হওয়ার পাশাপাশি জীবাণুর সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পচনশীল বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে তা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ এমন অপরিচ্ছন্ন থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিশুদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এক অভিভাবক বলেন, "রাস্তার ওপর পড়ে থাকা ময়লা মাড়িয়েই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে।" কেউ কেউ এ পথ এড়িয়ে কিছুটা ঘুরে বণিক বাড়ির ওপর দিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। আবার অনেকে নিরুপায় হয়ে ময়লার ওপর দিয়েই চলাচল করছে। এসব বর্জ্যে জীবাণু থাকলে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত স্কুলের প্রবেশপথ পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে নকলায় মাদকসহ আটক বিএনপি সভাপতির ছেলে রানা মিয়া, ‎

আরেক অভিভাবক কামাল হোসেন বলেন, "বিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গার প্রবেশপথে দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলতে পারে না।" অনেক শিক্ষার্থীকে বিকল্প পথ ধরে ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। দ্রুত ময়লা পরিষ্কার করে প্রধান প্রবেশপথটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগির এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, বিদ্যালয়সংলগ্ন পুকুরটি ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের। ভারী বৃষ্টি হলেই পুকুরটি পানিতে পূর্ণ হয়ে উপচে পড়ে। এতে ব্রাহ্মণপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, সমস্যাটি সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার বিষয়টিও তাঁকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে মাছ ধরার বিরোধে হামলার পর চিকিৎসাধীন কৃষকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। পুকুরের পানি উপচে বারবার জলাবদ্ধতা তৈরির সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগির সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রথমে জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে বারবার ময়লা জমার সমস্যাও দূর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুফতি তাকি উসমানি ২২ নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


মুফতি তাকি উসমানি ২২ নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী আলেম এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তিনি আগামী ২২ নভেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন। সফর শেষে ২৮ নভেম্বর তিনি পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

রোববার, রাজধানীর শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও শাইখুল হাদিস মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২২ নভেম্বর রোববার বাদ জোহর রাজধানীর কাওলা নামাপাড়ায় শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে ১৫ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। সফরকালে তিনি আরো কয়েকটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন।

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্ধরীর। তিনি খাইরুল মাদারিস, মুলতানের মুহতামিম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির মহাপরিচালক। তিনি ইসলামি ফিকহ, হাদিস এবং ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত। এছাড়া, তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়াহ আপিল বেঞ্চের সাবেক বিচারপতিও।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিএসসির সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন ড. শামীমা সুলতানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


পিএসসির সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন ড. শামীমা সুলতানা

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নতুন সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তার শপথবাক্য পাঠ করান।

এর আগে, গত ২৫ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ড. শামীমা সুলতানাকে পিএসসির নতুন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত এ পদে বহাল থাকবেন। তবে, শর্ত অনুযায়ী তাকে অন্য যেকোনো পেশা বা প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি থাকাকালীন গত বছরের ১ আগস্ট তিনি নিজের কার্যালয় থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন 'জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম'-এর সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে কোনো কমিটিতে নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে নাশকতার অভিযোগে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


মিরপুরে নাশকতার অভিযোগে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেফতার

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।

রোববার (১ নভেম্বর) মিরপুর বিভাগের অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এর আগে দুপুরের দিকে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন জানিয়েছেন, বেলা ১২টার দিকে মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের সামনে (মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে) পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পল্লবী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার কারণে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পোশাকশ্রমিকরা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে রোববার সকাল থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে দ্বিতীয় দিনের মতো জড়ো হতে থাকে। সকাল ১০টার দিকে তারা সড়ক অবরোধ শুরু করে। বেলা ১১টার পর পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করে।

পুলিশের ধারণা, শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে গ্রেফতার হওয়া আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং এলাকায় নাশকতা ও ভাঙচুর ঘটিয়েছেন।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক লীগের সহসাধারণ সম্পাদক মো. কামাল গাজী (৩২), যিনি মিছিলে লোক সংগ্রহ এবং ভাঙচুরের নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য মো. নাহিদ হাসান (১৮), মো. নাহিদ হাসান (১৮) (একই নামের দুজন), আরিফ আকন্দ (২৯), জায়েদ করিম রিয়াজ (২৪), মোয়াজ্জেম শাহরিয়া নিয়াজ, জুবায়েদ ইসলাম জিসান (২২) এবং মো. মাহিম মোল্লা (১৯) গ্রেফতার হয়েছেন।

এছাড়াও যুবদলের সক্রিয় কর্মী মো. রমজান সরকার (১৮) এবং অপর দুই সক্রিয় সদস্য মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০) ও আলিফ হোসেন ইমন (২৬)কেও ডিবি গ্রেফতার করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবরার ফাহাদ ও মেজর সিনহা হত্যার মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


আবরার ফাহাদ ও মেজর সিনহা হত্যার মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগ

দেশের বিচার ব্যবস্থায় বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার চূড়ান্ত শুনানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়াও, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত ঢাকার দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ, বুয়েটের আবরার ফাহাদ এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল, দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই মামলাগুলো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে উপস্থাপন করেছেন।

উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা এসব স্পর্শকাতর মামলার বিচার শেষ করে সাজা কার্যকরের যে প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের, রাষ্ট্রপক্ষের এই উদ্যোগ তাতে আশার আলো দেখাচ্ছে।

চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ হলে, একদিকে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, অপরাধীদের দ্রুত সাজা কার্যকর করার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে।

সাত খুনের মামলার আপিল শুনানি আগামী ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিলের শুনানি আগামী ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। বিষয়টি দেখে ফেলায় অপহরণের শিকার হন আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক মো. ইব্রাহিম।

তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন পাওয়া যায় আরেকটি লাশ।

নজরুল, চন্দন ও ইব্রাহিম ছাড়াও হত্যার শিকার অন্য ব্যক্তিরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাত খুনের মামলায় র‌্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তা (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, কমান্ডার এম এম রানা, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন দণ্ডিত আসামিরা। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে এবং অপর ১১ আসামির দণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ৯ আসামির দণ্ডও হাইকোর্টে বহাল থাকে। দণ্ডিত তারেক সাঈদ, নূর হোসেনসহ মামলার বেশ কয়েকজন আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার শুনানি আগামী ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিলের শুনানি আগামী ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর গত ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নির্মম এই হত্যায় জড়িতদের সবাই ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতা-কর্মী।

আলোচিত এই হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১।

বিচারিক আদালতের রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান (রাসেল), মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান (রবিন), ইফতি মোশাররফ, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মেফতাহুল ইসলাম, মো. মাজেদুর রহমান, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল (জেমি), মো. শামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ। হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ।

মেজর সিনহা হত্যা মামলার শুনানি আগামী ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল শুনানি আগামী ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর গত ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি বিচারিক আদালত এই মামলার মোট ১৫ জন আসামির মধ্যে দুই জনকে মৃত্যুদণ্ড, ছয় জনকে যাবজ্জীবন এবং সাত জনকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন, টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন এবং আয়াজ উদ্দীন। ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর।

পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৯ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা ওই হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় দেন। বিচারিক আদালতের রায়ে ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আসামিদের সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কর্মী ছিলেন। এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং অপর দু’জনকে খালাস দেওয়া হয়।

এ ছাড়া নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দু’জন আপিল করেন তারা হাইকোর্টে খালাস পান।

হাইকোর্টের রায়ে যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদার। মৃত্যুদণ্ড থেকে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পেয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু।

এছাড়া হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর মো. নূরে আলম লিমনকে।

বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন থেকে খালাস পান এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা।

অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে যে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয় তারা হলেন- খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান এবং মোশাররফ হোসেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলাগুলোর বিচারের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসস'কে বলেন, "সমাজকে ও সাধারণ মানুষের বিবেককে আলোড়িত করা এসব মামলা দ্রুত ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আমরা রাষ্ট্র পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত মামলাগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা মামলাগুলো নির্ধারিত তারিখে শুনানি শুরু হয়ে দ্রুত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।"

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন শেষ ২৯ এপ্রিল দাখিলের নির্দেশ।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে আগামী বছর ২৯ এপ্রিল অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সাথে ওই দিন এই মামলার নথিপত্রসহ টাস্কফোর্সের প্রধান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে হাইকোর্টে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

বহুল আলোচিত এই মামলার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসস'কে বলেন, "বর্তমান সরকার কাউকে রক্ষা করা বা তথ্য গোপন করতে চায় না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"

এদিকে হাইকোর্টে জমা দেওয়া টাস্কফোর্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সাথে আলোচনাকালে তারা প্রাথমিকভাবে সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের সাথে সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তদন্তপূর্বক যাচাই বাছাই করছে মর্মে জানান। তাদের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্যাদি পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করবে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। সাগর সে সময় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি।

পরে আদালত র‌্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। ১২ বছর ৬ মাস ১৫ দিন পর র‌্যাবের কাছ থেকে হাইকোর্ট তদন্তের দায়িত্ব দেন উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্সকে।

এক দশক পর তনু হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ১০ বছর পর মামলার আসামি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখোঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়।

তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। ঘটনার পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

এই মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। এ মামলায় গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে।

হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

তনু হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গত ১ সেপ্টেম্বর রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%