ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আফগানিস্তানে চীনা বিনিয়োগে তালেবান সরকার লাভবান, স্থানীয়দের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত


আফগানিস্তানে চীনা বিনিয়োগে তালেবান সরকার লাভবান, স্থানীয়দের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত

আফগানিস্তানে খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে তালেবান সরকার অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তবে, এসব প্রকল্পের ফলে স্থানীয় জনগণের জমি, পানির অধিকার এবং জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের আয় থেকে তারা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর পশ্চিমা দেশগুলো দেশটিতে তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমিয়ে দেয়। তবে চীন কাবুলে দূতাবাস খোলা রেখেছে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়ার পর আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের সুযোগও চীন দেখছে।

চীনের সঙ্গে তালেবান সরকারের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর শর্তের মুখে পড়লেও চীন তুলনামূলকভাবে কম শর্তে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে। বর্তমানে চীন আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে চলতি বছরে অষ্টম পোলিও রোগী শনাক্ত, আক্রান্ত ১৩ মাসের শিশু

খনিজ সম্পদে চীনের আগ্রহ

আফগানিস্তানের তেল এবং তামার খনিতে চীনা কোম্পানিগুলোর আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তালেবান সরকার চীনের জিনজিয়াং সেন্ট্রাল এশিয়া পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড গ্যাস কম্পানির সঙ্গে আমু দরিয়া অববাহিকায় তেল উত্তোলনের জন্য ২৫ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করে। কোম্পানিটি সেখানে ৫৪ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এছাড়া, লোগার প্রদেশের মেস আয়নাক তামার খনিতেও চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৮ সালে আগের আফগান সরকারের কাছ থেকে ৩০ বছরের জন্য খনিটির ইজারা পেয়েছিল একটি চীনা কনসোর্টিয়াম। নিরাপত্তা, শ্রম এবং পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যায় দীর্ঘদিন প্রকল্পটির কাজ আটকে ছিল। ২০২৪ সালে তালেবান সরকার প্রকল্পটি আবার চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।

তবে, খনিজ সম্পদ উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কোম্পানিগুলোর বিরোধ বাড়ছে। ২০২৩ সালের আগস্টে উত্তর আফগানিস্তানের তাখার প্রদেশের চাহ আব জেলায় সামতি সোনার খনির ইজারা দেওয়া হয় একটি চীন-আফগানিস্তান কোম্পানিকে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখানে খনন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলবে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: জার্মানি সফরে আজ যাচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খনির কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পানির উৎসে প্রবেশাধিকার কমছে এবং প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বদাখশান প্রদেশেও চীনা অংশীদারিতে সোনা উত্তোলন নিয়ে জমি এবং পানির অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবাদ দমনের অভিযোগ

খনি প্রকল্প নিয়ে অসন্তোষ একপর্যায়ে সংঘর্ষেও গড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তালেবান কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহ আব জেলায় সংঘর্ষে তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং একটি খনি কোম্পানির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, খনির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কোম্পানিটির নাম বা মালিকদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও চীনা কোম্পানির সঙ্গে খনি চুক্তির কারণে সম্পত্তির ক্ষতি এবং প্রকল্পের আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেছিলেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তারা প্রতিকার পাননি।

আরও পড়ুন: কাতারের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে মার্কিন এলএনজি নিয়ে ভারতের নজর

খনি এলাকার বাসিন্দারা রাস্তা, পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নও দাবি করেছেন। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের প্রতিবাদ তালেবান কর্তৃপক্ষ দমন করেছে।

তালেবানের সঙ্গে চীনের রাজনৈতিক সম্পর্ক

চীন এখনও তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে। ২০২৩ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর চীন প্রথম নতুন রাষ্ট্রদূত পাঠায়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তালেবান সরকারের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন।

২০২৬ সালের এপ্রিলে চীনের উরুমকিতে তালেবান এবং পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করে বেইজিং। এতে আঞ্চলিক কূটনীতিতে চীনের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়।

আরও পড়ুন: বাইন্যান্স হ্যাকের এফবিআই অভিযোগকে ‘উসকানি’ বললেন কিমের বোন

তবে, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তালেবানের ওপর চাপ তৈরির ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা সীমিত। নারী অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তালেবান ব্যর্থ হলেও বেইজিং সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এতে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে আন্তর্জাতিক চাপ দুর্বল হতে পারে বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

চীনের কৌশলগত স্বার্থ

আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর পেছনে চীনের নিরাপত্তাগত স্বার্থও রয়েছে। বিশেষ করে জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ঠেকাতে তালেবানের সহযোগিতা চায় বেইজিং। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টের (ইটিআইএম) সদস্যরা আফগানিস্তানে চলাচল করছেন এবং তাদের একটি অংশ বদাখশান প্রদেশে অবস্থান করছেন।

এছাড়া, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ফিরে আসার সম্ভাবনাও চীনের উদ্বেগের কারণ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চীন, রাশিয়া, ইরান এবং পাকিস্তান আফগানিস্তান এবং এর আশপাশে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে।

আরও পড়ুন: বাইন্যান্সে ৬০০ কোটি ডলারের অর্থ চুরির অভিযোগে মুখ খুলল উত্তর কোরিয়া

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর আফগানিস্তান পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়েও ২০২৫ সালের মে মাসে তিন দেশ সম্মত হয়। তবে সম্প্রসারণের কাজ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৬ সালের অক্টোবরে তালেবান সরকার চীনের সীমান্তের দিকে ওয়াখান করিডরে ১২১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নুড়িপাথরের সড়ক উদ্বোধন করে। সেখানে এখনও বাণিজ্যিকভাবে সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা চালু হয়নি।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ চীনে নেওয়া সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ এবং বাজারের জন্য চীনের ওপর আফগানিস্তানের নির্ভরতাও বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনের লেখক নাতিক মালিকজাদার মতে, চীনের বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক সহায়তা তালেবান সরকারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে। অথচ যেসব এলাকার সম্পদ উত্তোলন করা হচ্ছে, সেখানকার মানুষের প্রকল্পের শর্ত নির্ধারণে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত। ফলে আফগানিস্তানের সম্পদ থেকে আয় বাড়লেও স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রায় তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না।

ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট অবলম্বনে লিখেছেন সাংবাদিক নাতিক মালিকজাদা

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সামনে তিনটি পথ, উপদেষ্টাদের মতভেদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেক্সাসে থ্রিডি প্রিন্টেড ১০০টি বাড়ির প্রকল্প, দাম ৬ লাখ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২২ পি.এম


টেক্সাসে থ্রিডি প্রিন্টেড ১০০টি বাড়ির প্রকল্প, দাম ৬ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বিশ্বের বৃহত্তম থ্রিডি প্রিন্টেড আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। অস্টিনের নিকটবর্তী ‘উলফ র‍্যাঞ্চ’ আবাসিক এলাকায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ১০০টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলোর দাম গড়ে সাড়ে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ ডলারের মধ্যে রয়েছে।

নির্মাণের পদ্ধতি সাধারণ বাড়ির তুলনায় ভিন্ন। কংক্রিটের একাধিক স্তর স্তুপ করে নির্মাণের ফলে বাড়িগুলোর দেয়াল ঢেউখেলানো এবং মজবুত হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি পেশাজীবী ড্যানিয়েলা গ্লেজ এবং তার স্বামী ঐতিহ্যবাহী কাঠের বাড়ির পরিবর্তে এই থ্রিডি প্রিন্টেড চার বেডরুমের বাড়িটি বেছে নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, কংক্রিটের নির্মাণের ফলে বাড়িগুলোতে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে, ফলে ঘর গরম বা ঠান্ডা রাখতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। এছাড়া, খরা, ঝোড়ো হাওয়া বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বাড়িগুলো অত্যন্ত নিরাপদ এবং টেকসই।

এই বাড়িগুলো নির্মাণ করেছে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান 'আইকন'। তাদের তৈরি বিশেষ মেশিন 'ভলকান' টুথপেস্টের মতো করে কংক্রিট মিশিয়ে ধাপে ধাপে এসব দেয়াল তৈরি করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বাড়ি তৈরির সময় সাধারণ ঘরের তুলনায় প্রায় ৬ সপ্তাহ কম লাগে এবং খরচও গড়ে ৪০ শতাংশ কমে যায়। ঐতিহ্যবাহী ঘরের দেয়াল যেখানে ঘণ্টায় ৪০ মাইল বেগের বাতাস প্রতিরোধ করতে পারে, আইকনের থ্রিডি প্রিন্টেড দেয়াল ঘণ্টায় ১৭৫ মাইল বেগের ঝড় এবং ১৮০ মিনিট পর্যন্ত আগুন প্রতিরোধে সক্ষম।

২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে থ্রিডি প্রিন্টেড বাড়ির বাজারের মূল্য ছিল প্রায় ৬ কোটি ডলার, যা ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৫০ কোটি ডলারের বেশি হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইকন সম্প্রতি ব্ল্যাকরক ও বেইলি জিফোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। তারা শিগগিরই তাদের নতুন রোবট 'টাইটান' উন্মোচন করতে যাচ্ছে, যা ২৬ ফুট উঁচু পর্যন্ত কংক্রিটের দেয়াল তৈরি করতে সক্ষম হবে। আইকনের প্রত্যাশা, এই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সংকটের সমাধান করবে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষের নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগের দখলে থাকা খেলার মাঠ এখন বিএনপির নিয়ন্ত্রণে : নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২২ পি.এম


আওয়ামী লীগের দখলে থাকা খেলার মাঠ এখন বিএনপির নিয়ন্ত্রণে : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সংস্কৃতি অব্যাহত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যেসব খেলার মাঠ ও প্রতিষ্ঠান দলীয় লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেগুলোর অনেক জায়গায় এখন বিএনপির লোকজন প্রভাব বিস্তার করছেন।

নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এই সংকট বিদ্যমান। এই কারণেই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যতটুকু সুযোগ ছিল, ততটুকু সময়ের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া, আইন পরিবর্তন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

নাহিদ বলেন, রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ ও মতাদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকবেন, তখন তাকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ করতে হবে। যদি প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে পরিচালনা করা হয়, তবে তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়। বর্তমানে বিভিন্ন খাতে আবারও দলীয়করণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও স্বাধীন বিকল্প জায়গা তৈরি করা প্রয়োজন।

খেলার মাঠের সংকট নিয়ে নাহিদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গেলে শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের কাছ থেকে যে দাবিগুলো আসে, তার মধ্যে একটি হলো খেলার মাঠ। বর্তমান সময়ে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব বেড়ে গেছে। কিন্তু মাঠের অভাবে অনেক শিশু খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না। যদিও বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠ তৈরির মতো জায়গা রয়েছে, সেগুলো দখল ও দলীয় প্রভাবের কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যেসব জায়গা দলটির লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সরকার পরিবর্তনের পর সেগুলোর অনেক জায়গায় বিএনপির লোকজন প্রভাব বিস্তার করছেন। এটি একটি দলের সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার করা জরুরি।

দেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়াতে খেলাধুলার ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নাহিদ বলেন, বিশেষ করে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বমঞ্চে দেশকে পরিচিত করার বড় একটি মাধ্যম। খেলাধুলা শুধুমাত্র বিনোদন নয়, এটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ক্রিকেটসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলাগুলোতে আরও ভালো করার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে নীতিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স যদি এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়, তবে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা করবে। ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

এ সময় ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স এনসিপির অঙ্গসংগঠন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি। নাহিদ বলেন, এনসিপির সঙ্গে সংগঠনটির আদর্শিক ও নীতিগত সম্পর্ক রয়েছে, তবে এটি দলের অধীন কোনো সংগঠন নয়। রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন এবং অঙ্গসংগঠনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স নিজস্ব নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তে স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, এনসিপি সংগঠনটির ভালো উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চায়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে যেসব নীতিগত প্রস্তাব ও পরামর্শ প্রয়োজন হবে, সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে সংগঠনটির নেতৃত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।

তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা জানিয়ে নাহিদ বলেন, তরুণদের মধ্যে ক্রীড়া নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি জাতি গঠনে উপযুক্ত করে তুলতে হবে। ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ পি.এম


সরকারের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করেছে

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি, সব মিলিয়ে সরকার দেশকে কঠিন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আজ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় সম্পাদকীয় কমিটির বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও জানান, ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে এখনও দৃশ্যমান কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। তৈরি পোশাকশিল্প ও শ্রমিক রপ্তানি খাতেও নতুন করে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গার্মেন্টসে একটি বেতন কাঠামোকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পেশার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, সরকার দেশের পরিচালনায় সকলকে সঙ্গে নিয়ে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞতার অভাবে বিরোধী দলও প্রত্যাশিত ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধের প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিরোধী দল যেন সংসদ ও রাজনৈতিক পরিসরে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে, সেই কার্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, এবিএম খালিদ হাসান, আমিনুল ইসলাম, মোঃ আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ), প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী রাজা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী) অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) গাজী নাসির,

সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা) অধ্যক্ষ ইয়ামিনুর রহমান, গণপরিবহন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক মিয়া মো. তৌফিক, সড়ক ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী ড. শাহেদুল ইসলাম, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, শিক্ষা সম্পাদক ওমর ফারুক, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হেলাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ ও স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসাইন রমিজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনিদের আবাসভূমি নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা আসবে না: বাদশাহ আবদুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ পি.এম


ফিলিস্তিনিদের আবাসভূমি নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা আসবে না: বাদশাহ আবদুল্লাহ

জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন যে, ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব আবাসভূমির অধিকার নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তিনি জর্ডানের পার্লামেন্টের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন।

বাদশাহ আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, ফিলিস্তিনি জনগণের নিজস্ব আবাসভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া আমাদের অঞ্চলে কোনো নিরাপত্তা বা স্থিতিশীলতা আসতে পারে না।’

তিনি আরও বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহলের বারবার আহ্বান সত্ত্বেও গাজায় মানবিক বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে, এবং পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে নিরবচ্ছিন্ন হামলা চলছে।

জর্ডানের বাদশাহ বলেন, ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনো এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ও মানুষের আশার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%