১১:১৯ পি.এম
লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রকল্পের কাজ, যার মূল্য প্রায় দেড়শ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে অনৈতিকভাবে প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগটি তুলেছেন রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদুল হক সরকার, যিনি লিড পার্টনার হিসেবে কাজ করছেন।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাই স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জেলেও ছিলেন। আবদুল হাই নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার বদরপুর গ্রামের হাজী গুনাগাজী ব্যাপারী বাড়ির মো. ইউনূছ মিয়ার পুত্র এবং বর্তমানে ঢাকার পল্টন থানার শান্তিনগর এলাকার পীর সাহেবের গলিতে বসবাস করছেন।
দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনারপুর সড়কের কমলনগরের হাজিরহাট থেকে আলেকজান্ডারের আজাদনগর পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে আড়াই ফুট প্রশস্তকরণের কাজের দরপত্র আহ্বান করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং রিমি নির্মাণ লিমিটেডসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। পরে, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে একশ ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টাকায় কাজটি পায় আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেড। যদিও প্রধান পার্টনার হিসেবে কাজের সব কার্যক্রম রিমি নির্মাণ লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল, লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে কাজ বুঝিয়ে দেন এবং গত ১২ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাজ করার অনুমতি প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন
রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল হক সরকারের নজরে বিষয়টি আসলে তিনি যৌথ উদ্যোগের কাজের সব চুক্তি বাতিলের আবেদন করেন। তিনি চুক্তি বাতিলের কাগজপত্র এবং এককভাবে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার আদেশ না দিতে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদনপত্র দেন। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়মের তোয়াক্কা না করে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হাইকে কাজের অনুমতি দেন, যা চুক্তিপত্রের নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় রিমি নির্মাণ লিমিটেডের পক্ষ থেকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওবায়দুল হক সরকার বলেন, "যৌথ উদ্যোগে চুক্তির মাধ্যমে সড়ক ও জনপথের দরপত্রে অংশগ্রহণ করে লক্ষ্মীপুর-আলেকজান্ডার-সোনারপুর সড়কের ২৭ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ পান তারা।" তিনি আরও বলেন, "চুক্তিতে থাকা আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড হঠাৎ উধাও হয়ে যায় এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।" ফলে, সড়ক ও জনপথের সঙ্গে সব চুক্তিতে লিড পার্টনার হিসেবে রিমি নির্মাণ লিমিটেড অংশগ্রহণ ও যোগাযোগ স্থাপন করে।
তিনি উল্লেখ করেন, "যেহেতু আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তিতে যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই কাজটির শুরু থেকে চলমান প্রক্রিয়া পর্যন্ত আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ একাধিকবার চিঠি ইস্যু করে।" তবে, আবদুল হাই যোগাযোগ করেননি। তিনি জানান, "লিড পার্টনার হিসেবে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের পক্ষ থেকে আমিও তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে ব্যর্থ হই।"
এদিকে, আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবদুল হাইয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: আ. লীগের সহিংসতায় বিরোধী দলকেও খেসারত দিতে হবে: রাশেদ খান
লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "তারা যৌথ উদ্যোগে কাজ পাওয়ার পর ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে দুজনই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।" তিনি আরও জানান, "সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অফিসের সব বিষয়ে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের ডিল করবে। ব্যাংক এবং কাজের বিষয়ে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড দেখবে।" তিনি বলেন, "চুক্তিপত্রের নিয়ম অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। আমাকে অভিযোগে এনে কী লাভ? নিয়মমতো তারা কাজ করছেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন