শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৪ পি.এম
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা এবং সহকারী অর্থমন্ত্রী মিমুরা আতসুসির সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
এই বৈঠকটি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাপানের অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান ছিল। বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে জোরদার করার পাশাপাশি বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘকালীন ঐতিহ্যগত এবং দৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা বৈঠকে স্মরণ করা হয়। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এবং সহযোগিতা গভীর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তারা মনে করেন যে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
আলোচনায় বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য প্রসার এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (FDI) বাইরে বিকল্প অর্থায়ন (Alternative Financing) ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে এবং নতুন নতুন খাতে একসঙ্গে কাজ করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী জাপানি অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান যে, রপ্তানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। বর্তমানে জাপানের অর্থায়নে ৮০টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট, যমুনা রেলসেতু এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে মিছিল আরও বড় আকার ধারণ করবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, "গত এক সপ্তাহ ধরে আমাদের নেতাকর্মীরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গিয়েছেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, মানুষের জীবন নাজেহাল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই। বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই।"
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব বক্তব্য রাখেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, "ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। যদি পদত্যাগ না করেন, আমাদের মিছিল বড় হবে। আমরা দাবি আদায়ে মিছিল নিয়ে তারেক রহমানকে ঘেরাও করবো।"
তিনি দাবি করেন, সংবিধান সংস্কারের জন্য গঠিত কমিটি বাতিল করে নতুন একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা প্রয়োজন। নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা দেখছি তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই। পরিকল্পনা আছে দুর্নীতি, চাঁজাবাজি, দখলবাজির। বিএনপির মধ্যে নব্য স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি।"
এ সময় তিনি আরও বলেন, "ডিসেম্বরে নাকি পতিত স্বৈরাচার দেশে আসবে। বিএনপি তাদের রক্ষা করতে পারেনি। বিএনপি অতীতে নিজেদের নেতাকর্মীদের রক্ষা করতে পারেনি। জনগণকে কীভাবে রক্ষা করবে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। সীমান্ত হত্য, হিন্দুদের নিয়ে ষড়যন্ত্র, পাহাড় অশান্ত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্সি জানায়, এ সফরের সময় তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ইস্তাম্বুল থেকে এএফপি জানায়, প্রেসিডেন্সির যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তুরস্ক ও ইউক্রেনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার সম্ভাব্য পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
তুরস্ক কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হলেও রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান এসব হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন।
আঙ্কারা বেসামরিক জাহাজে হামলা বন্ধের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। তবে দুই পক্ষই এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্সি জানায়, বসফরাস প্রণালীর তীরবর্তী দোলমাবাহচে কার্যালয়ে এরদোয়ান জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর দুই নেতা সংবাদ সম্মেলনও করবেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে কয়েক দফা আলোচনার আয়োজন করেছে তুরস্ক। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এরদোয়ান বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করা এবং আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে তুরস্ক প্রস্তুত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরানে আবারও মার্কিন সামরিক হামলার শঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে, তেলবাহী জাহাজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ব্যাপারে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বশেষ বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent Crude) দাম ব্যারেলপ্রতি আড়াই শতাংশ (২.৫%) বৃদ্ধি পেয়ে ১১৮ ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর দাম প্রায় দুই শতাংশ (২%) বেড়ে প্রতি ব্যারেল বিকোচ্ছে প্রায় ১০৪ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মন্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ মাসের মতো জ্বালানি তেলের মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে। চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক একটি সতর্কবার্তা জারি করে জানায় যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ বছর বিশ্বজুড়ে শক্তির বাজার চরম অস্থিরতার সম্মুখীন হতে পারে। বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এ বছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সার্বিক দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৩২%) বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিগত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলবাহী ট্যাংকারে সাম্প্রতিক আক্রমণ এবং লোহিত সাগরসহ সংবেদনশীল জলসীমায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে এবং সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসার ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের কারণে ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এএসএম স্কোয়াড্রন লিডার সাকিবের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৮২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৭টি।
সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি এবং রিয়াদ এয়ারলাইনসের ১৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, সালাম এয়ার-এর সাতটি, ইজিপ্ট এয়ার-এর একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ