শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৫ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরানে আবারও মার্কিন সামরিক হামলার শঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে, তেলবাহী জাহাজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ব্যাপারে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বশেষ বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent Crude) দাম ব্যারেলপ্রতি আড়াই শতাংশ (২.৫%) বৃদ্ধি পেয়ে ১১৮ ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর দাম প্রায় দুই শতাংশ (২%) বেড়ে প্রতি ব্যারেল বিকোচ্ছে প্রায় ১০৪ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মন্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ মাসের মতো জ্বালানি তেলের মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে। চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক একটি সতর্কবার্তা জারি করে জানায় যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ বছর বিশ্বজুড়ে শক্তির বাজার চরম অস্থিরতার সম্মুখীন হতে পারে। বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এ বছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সার্বিক দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৩২%) বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিগত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলবাহী ট্যাংকারে সাম্প্রতিক আক্রমণ এবং লোহিত সাগরসহ সংবেদনশীল জলসীমায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে এবং সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসার ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের কারণে ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এএসএম স্কোয়াড্রন লিডার সাকিবের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৮২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৭টি।
সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি এবং রিয়াদ এয়ারলাইনসের ১৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, সালাম এয়ার-এর সাতটি, ইজিপ্ট এয়ার-এর একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মানবপাচার এবং শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সাত দিনের একটি বিশেষ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৮১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ডিজনি ও ইউনিভার্সাল স্টুডিওর কর্মী, একজন শেরিফ ডেপুটি, তরুণদের ফুটবল কোচ এবং মার্কিন নৌবাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিসের সূত্রে ফক্স নিউজের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানের নাম রাখা হয়েছে ‘পোল্ক অ্যারাউন্ড অ্যান্ড ফাইন্ড আউট টু’। এই অভিযানটি সাত দিন ধরে গোপনে পরিচালিত হয়েছিল এবং এর মূল লক্ষ্য ছিল মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের এবং শিশুদের যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। তদন্তকারীরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে সন্দেহভাজনদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করেন।
কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ২৮১ জনের মধ্যে ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা চাওয়া, যৌনসেবা দেওয়া কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা ও পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত সন্দেহে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্য ১১ জনকেও পৃথক অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয়ও আলোচনায় এসেছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার বিভিন্ন থিম পার্কে কর্মরত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন ডিজনির এবং চারজন ইউনিভার্সাল স্টুডিওর কর্মী।
এছাড়া, অরেঞ্জ কাউন্টির একজন শেরিফ ডেপুটি, তরুণদের ফুটবল কোচ এবং মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত একজন সদস্যও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এসব গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
শেরিফ অফিস জানিয়েছে, অভিযানের সময় ১১৭ জন অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবার বিষয়ে আলোচনা করতে গোপন তদন্তকারীদের নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। অন্যদিকে, ১২২ জন যৌনসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে আসেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তাদের মধ্যে মানবপাচারের সম্ভাব্য শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও কাজ করেন।
এই যাচাই প্রক্রিয়ায় মানবপাচারের শিকার ১১ জনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের ঘটনাস্থলেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অভিযানের এই অংশে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে তাদের পরিস্থিতি যাচাই এবং সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে শনাক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তাঁরা কত দিন ধরে শোষণের শিকার ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ জনকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ছাড়া অবস্থানকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শেরিফ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা নয়টি ভিন্ন দেশের নাগরিক। তবে তাঁদের জাতীয়তা এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান এবং মানবপাচারসংক্রান্ত অভিযোগকে পৃথক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ২২ জন সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। তাঁদের সম্মিলিত মাসিক সহায়তার পরিমাণ আট হাজার ৩৭৩ ডলার, যা বছরে এক লাখ ৪৭৬ ডলারের সমপরিমাণ। তবে সরকারি সহায়তা গ্রহণের সঙ্গে অভিযানে ওঠা অপরাধের অভিযোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি।
অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরতে শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় ফ্লোরিডার উইন্টার হেভেনে পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিসের অপারেশনস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।
এতে শেরিফ গ্রেডি জাডের পাশাপাশি ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার, অঙ্গরাজ্যের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ব্লেইজ ইনগোলিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের অগ্রগতি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, আদালতে হাজিরার নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ফ্লোরিডায় মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস। এসব অভিযানে অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোপন তদন্তকারীদের ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
তবে অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান কাদরীয়া খানকা শরীফ মাদরাসার রন্ধনশালায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক ক্ষুধার্ত পাগল দ্বারা মো. ফজের আলী (৭০) নামের বাবুর্চির মৃত্যু ঘটে। খাবার না পেয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় বাবুর্চি ফজের আলীর সহকারী, ৭০ বছর বয়সী সোনাভান বিবিও গুরুতর আহত হন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে তার নাম ও ঠিকানা এখনও জানা সম্ভব হয়নি। তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মাদরাসার প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রদের মতে, খানকা শরীফের রন্ধনশালায় গিয়ে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী ওই মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি খাবার চান। বাবুর্চির খাবার দিতে অস্বীকার করায়, রান্নার লাকড়ি দিয়ে বাবুর্চি ও তার সহকারীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়রা এবং খানকা শরীফের ভক্তরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুর্চি ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাবুর্চির সহকারী সোনাভান বিবিকে গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট প্রদান করেছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিও। ভ্যাটিকান নিশ্চিত করেছে যে, তিনি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মেইল ইন ব্যালট জমা দিয়েছেন, যা আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করা এই পোপের মার্কিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পোপ লিও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই ডাকযোগে তার ভোট জমা দিয়েছেন। তবে তিনি কোন প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভোট গোপনীয়তার অধিকার দ্বারা সুরক্ষিত হওয়ায় পোপের রাজনৈতিক পছন্দ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
পোপ চতুর্দশ লিওর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে। তার জন্মনাম রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট। ২০২৫ সালের মে মাসে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নির্বাচিত হন।
এটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি পোপের দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি, পোপ লিও দীর্ঘ সময় ধরে পেরুতে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে পেরুর নাগরিকত্বও গ্রহণ করেন।
পোপ নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভ্যাটিকান সিটিতে বসবাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় যোগ্য ভোটাররা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ডাকযোগে ভোট দিতে পারেন। দেশের বাইরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্যও ভোট দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁরা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী আইন এবং ভোটার নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে বিদেশ থেকে ব্যালট পাঠাতে পারেন।
পোপ লিওর ভোট দেওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে তার ধর্মীয় অবস্থানের কারণে। ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অনুসারীর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া একজন নাগরিক, যাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে।
তবে পোপের ভোট দেওয়ার ঘটনাকে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা যায় না। ভ্যাটিকান তাঁর ভোট জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও রাজনৈতিক পছন্দ সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেয়নি। পোপের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চতুর্দশ লিওর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
তার জন্মস্থান শিকাগো এবং মার্কিন নাগরিক পরিচয় তাকে আগের পোপদের তুলনায় একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে রেখেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার ভোট দেওয়ার বিষয়টি সেই পরিচয়ের আরেকটি দিক সামনে এনেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ