সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১৩ বছর বয়সী কিশোরী নেহা ব্লান্ট প্রযুক্তি ও তরুণ ভাবনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে পানি অপচয় রোধে একটি নজির স্থাপন করেছে। তার উদ্ভাবিত ‘ওয়াটার সেভার’ নামের একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন লাখো পরিবারকে পানির অপচয় কমানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করছে এবং নিয়মিত সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
নিজের তৈরি অ্যাপ এবং ‘ওয়াটার সেভার্স’ প্রচারণার মাধ্যমে নেহা ১০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পানি সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। তার এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ প্রায় ১ লাখ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন, যার ফলে আনুমানিক ২ কোটি গ্যালন পানি সাশ্রয় হয়েছে, বলে জানিয়েছে পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যাকশন ফর নেচার।
পরিবেশ সুরক্ষায় অসাধারণ এই অবদানের জন্য নেহা ২০২৬ সালের ‘আন্তর্জাতিক ইয়াং ইকো-হিরো অ্যাওয়ার্ডে’ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বিভাগে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
এই উদ্যোগের পেছনের গল্পটি বেশ সাধারণ। স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল ইউটিলিটিজের সতর্কবার্তায় নেহা জানতে পারে যে, একটি মাত্র লিক হওয়া কল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার গ্যালন পানি অপচয় হতে পারে। এই তথ্যই তাকে প্রযুক্তির সাহায্যে দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখার অ্যাপ তৈরিতে অনুপ্রাণিত করে। টানা সাত মাস প্রোগ্রামিং করে মাইএসকিউএল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে সে এই ‘ওয়াটার সেভার’ ওয়েব অ্যাপটি তৈরি করে।
ছোটবেলা থেকেই অনন্য মেধার স্বাক্ষর রাখা নেহা মাত্র তিন বছর বয়স থেকে কোডিং শিখছে। ইতিমধ্যে ১৩ বছর বয়সেই সে ২২টি কলেজ ক্রেডিট অর্জন করেছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় কাউন্টির সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে এপি ক্যালকুলাস কোর্সে অংশগ্রহণ করে। অ্যাপ উদ্ভাবনের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের বিনামূল্যে ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কোডিং শিখিয়েছে এই কিশোরী।
বর্তমানে নেহা স্থানীয় পৌরসভার সঙ্গে মিলিত হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারঅ্যাকটিভ চার্ট সংবলিত ‘ওয়াটার সেভার ২.০’ সংস্করণের কাজ করছে। ভবিষ্যতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সাইবার নিরাপত্তায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামোর নিরাপত্তায় কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে এই উদীয়মান তরুণ উদ্ভাবকের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হিমালয়ের হিমবাহ এখন এক দশক আগের তুলনায় আরো দ্রুত গলছে। এর ফলে হিমালয় এবং এর আশপাশের দেশগুলোর পানির নিরাপত্তা বড় ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। চলতি মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, শতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল ‘সর্বোচ্চ পানি প্রবাহ’-এর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, এ সময়ের মধ্যে নদীগুলোতে বরফ গলে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। এরপর, হিমবাহে বরফের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে নদীতে পানির প্রবাহও কমতে শুরু করতে পারে। এর ফলে, হিমালয়ের ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষের পানি সরবরাহ, কৃষি এবং জীবিকা হুমকিতে পড়তে পারে। গবেষণাটি এমন একটি সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন আগস্টের শেষ দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। হিমবাহ ধসের পর নিচের উপত্যকাগুলোতে একের পর এক ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। নেপাল এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলে ওই ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ।
গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমবাহ দ্রুত পিছু হটার ফলে পাহাড়ি এলাকায় নতুন নতুন হিমবাহ-হ্রদ তৈরি হচ্ছে। এসব হ্রদের পানি আটকে রাখার দেয়াল মূলত আলগা পাথর, মাটি এবং বরফ দিয়ে তৈরি। ফলে, এসব হ্রদের মধ্যে কোনোটি ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এমন অনেক হিমবাহ-হ্রদ এমন উপত্যকার ওপরে রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ বসবাস করেন। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, হিমবাহের বরফ কমার হার সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বেড়েছে। অর্থাৎ, শুধু হিমবাহ গলছে তা নয়, আগের তুলনায় আরো দ্রুত গলছে।
গবেষণাটি করেছে টেকসই উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিক। তাদের সঙ্গে ছিল ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ইনিশিয়েটিভ, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট এবং ভারতের জি বি পন্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান এনভায়রনমেন্ট। গবেষণা অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহ রয়েছে। তবে, এত বিপুলসংখ্যক হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টির অবস্থা বর্তমানে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, পর্যবেক্ষণের এই সীমাবদ্ধতা ঝুঁকি বোঝা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ভারতেও হিমবাহ-হ্রদ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটিতে প্রায় ২০০টি হিমবাহ-হ্রদকে উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি হ্রদকে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব হ্রদের নিচের দিকে বসবাস করেন লাখ লাখ মানুষ। কোনো হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের পানির ঢল নেমে আসতে পারে। এতে মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হিমবাহ গলার কারণে প্রথম দিকে নদীতে পানির পরিমাণ বাড়তে পারে। কিন্তু, হিমবাহের বরফ ক্রমাগত কমতে থাকলে একসময় পানির প্রবাহও কমে যাবে। গবেষণায় বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল শতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এই ‘সর্বোচ্চ পানি প্রবাহের’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
এই পর্যায় পার হওয়ার পর হিমবাহ থেকে নদীতে পানির সরবরাহ কমতে শুরু করবে। ফলে, যেসব নদী এবং পানির উৎসের ওপর স্থানীয় মানুষ ও কৃষি নির্ভরশীল, সেগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে পানির সংকট আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। হিমালয় শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভারতের অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের ২০ শতাংশের বেশি কোনো না কোনোভাবে হিমালয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির কয়েক কোটি মানুষের জীবন এবং জীবিকাও এই অঞ্চলের পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে যুক্ত। ভারতের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৮ শতাংশ হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত।
তবে, এই অঞ্চল একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। ভারতে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রায় ৩৫ শতাংশই হিমালয় অঞ্চলে ঘটে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণার ফল বলছে, হিমালয়ের হিমবাহ গলার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একদিকে আকস্মিক বন্যা এবং হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে, হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এখন হিমবাহ এবং হিমবাহ-হ্রদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ, হিমালয়ের পানি শুধু পাহাড়ি এলাকার মানুষের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অবিলম্বে অপসারণের দাবি তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রদল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর ছাত্রদল নেতারা এই দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ছাত্রদল নেতারা উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠন দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামি করছে। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
তারা আরও বলেন, জিন্নাহর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। ডাকসুর সংগ্রহশালায় তাঁর ছবি টানানোর মাধ্যমে ডাকসুকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছবিটি অপসারণের প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চোখে-মুখে ক্লান্তির চিহ্ন, এলোমেলো চুল, সাদামাটা শাড়ি এবং বিষণ্ন দৃষ্টির অধিকারী। যেন কিছু না বলেও অনেক না-বলা গল্প প্রকাশ করছেন অভিনেত্রী দীপা খন্দকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর একটি ছবিতে ভিন্ন এক দীপাকে দেখা যাচ্ছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি নিজেই শেয়ার করেছেন তিনি। ছবিটি প্রকাশের পর তাঁর নতুন লুক নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
তবে এটি বাস্তব জীবনের কোনো মুহূর্ত নয়, বরং একটি নাটকের দৃশ্য।
দীপা জানিয়েছেন, ছবিটি তাঁর অভিনীত নতুন মিনি সিরিজ ‘কর্মফল’-এর একটি স্থিরচিত্র, যা ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকদের মধ্যে পারিবারিক গল্পের নাটকের প্রতি আগ্রহ আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর পারিবারিক গল্পের নাটক বললে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ দীপা খন্দকার। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি এ ধরনের গল্পকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
অভিনেত্রী গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই পারিবারিক গল্পের নাটকগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে আসছি। মাঝে আমাদের নাটক কিছুটা এখান থেকে সরে আসে। এখন অনেক নির্মাতা আবার পারিবারিক গল্পের নাটক নির্মাণ করছেন। দর্শক সেগুলো দারুণভাবে দেখছেনও। এ নাটকও আশা করি দর্শকের ভালো লাগবে। নাটকের প্রতিটি চরিত্রে তারা নিজেদের খুঁজে পাবে।’
‘কর্মফল’ সিরিজে দীপা খন্দকারের সঙ্গে আরো অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, ইরফান সাজ্জাদ, আ.খ.ম হাসান ও মনিরা মিঠুসহ অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১১নং মোক্ষপুর ইউনিয়নের বেপারী বাড়ির ওয়াইজ উদ্দিনের ছেলে মাইন উদ্দিন(৪০) নামের এক আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে একই এলাকার কয়েক পরিবার নিঃস্ব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তোভোগীরা হলেন উপজেলার একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাঈম মিয়া, মোঃ তাইজুল ইসলামের ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম(২৬)সহ এলাকার অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন।
এদের প্রত্যেকের কাছে থেকে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা মাইন উদ্দিন আৎসাত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ওই পরিবারের ২ ভুক্তভোগী ত্রিশাল থানায় অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী মোঃ মাইন উদ্দিন(৪০), আবুল কালাম ওরফে কালু (৩২) ও সেলিম মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে তাদের
বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের ছেলে সাঈম মিয়া অভিযুক্ত মাইন উদ্দিনের মাধ্যমে দুবাই যান। এ জন্য মাইন উদ্দিনকে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ৭০ হাজার টাকা বকেয়া ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলামের দাবি, দুবাই যাওয়ার পর ২১ মাসের মধ্যে তাঁর ছেলে মাত্র পাঁচ মাসের বেতন পেয়েছেন। বাকি ১৬ মাসের বকেয়া বেতন চাইলে তাঁর ছেলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর ছেলের পাসপোর্ট ও ইকামাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী মোঃ শহীদুল ইসলামের অভিযোগ সূত্রে জানা, আমাকে সৌদি আরব ভালো বেতনের কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে আমাকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি জানতে পারি। আমি সেখানে অবৈধ অভিবাসনের ফলে সৌদি আরব সিআইডি পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে দেশে পাঠিয়ে দেয়। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে কোন রকম বেঁচে আছি। মাইন উদ্দিন দালাল আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমি সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, সংবাদ কর্মী মাইন উদ্দিনের বাড়িতে গেলে। তিনি সংবাদ কর্মীর আসার খবর শুনে বাড়িতে দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় মাইন উদ্দিনের স্ত্রী নিউজ না করার জন্য সংবাদ কর্মীদের টাকার অফার করেন।
ত্রিশাল থানা অফিসার ইনচার্জ মুনসুর আহমেদ বলেন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ