রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০৭ পি.এম
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে মালদ্বীপের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপে ইউনিসেফের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ট্র্যাক টু কপ-৩১’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রী আলী শরীফ।
হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম তরুণ অংশগ্রহণকারীদের উদ্যম, সৃজনশীলতা ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে টেকসই, জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু ক্রমবর্ধমান পরিবর্তন দুই দেশের জনগণের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও অন্যান্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
হাইকমিশনার বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে মালদ্বীপের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর ও কার্যকর করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলের সদর উপজেলায় ছয় শিশুছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সদর থানা পুলিশ এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় এক ছাত্রের মায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকের নাম মাহবুবুর রহমান, বয়স ২৫ বছর। তিনি মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের পুত্র এবং নড়াইল পৌরসভার ওই মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক।
মামলার বিস্তারিত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী এক শিশুর মা তার সন্তানকে দেখতে ডুমরতলা গ্রামে অবস্থিত মাদরাসায় যান। সেখানে ভুক্তভোগী শিশু (৮) তার মাকে জানায় যে, মারাসার শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে তাকে ধর্ষণ করেছে। শিশুটির মা সঙ্গে সঙ্গে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব কিছু খুলে বলে।
এ সময় মাদরাসায় উপস্থিত অন্য পাঁচ ছাত্রও অভিযোগ করে যে, তাদেরও ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রকাশের পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান। ভুক্তভোগী শিশুর মা শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ১০ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।
নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘এক ভুক্তভোগী নারী তার বাচ্চাকে ধর্ষণ করেছে এমন অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন।
বিষয়টি আমরা নিয়মিত মামলা রুজু করি। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এজহারনামীয় আসামি মাহবুবুর রহমানকে মামলা রুজুর ১০ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করি। আজ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের ১০ দিন পর ৬৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে কাদামাটির স্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার নুয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় উদ্ধারকারীরা তাঁর ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে জানালা ভেঙে তাঁকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয়।
উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধার নাম চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠা। তিনি বেত্রাবতী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা। গত ২৬ আগস্ট হড়পা বানের পানির স্রোত ও কাদামাটির নিচে তাঁদের চারতলা বাড়ির নিচের তিনটি তলা সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায়। বাড়িটির চতুর্থ তলারও একটি অংশ কাদায় ডুবে ছিল।
নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (এপিএফ) জানিয়েছে, ওই এলাকায় এর আগে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তখন কাউকে জীবিত থাকার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে এলাকাটি পরিষ্কার করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।
এপিএফের ইনস্পেক্টর সুমন বিকে জানান, শনিবার বাড়িটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ খুব ক্ষীণ একটি শব্দ শুনতে পান তাঁরা। এরপর দ্রুত কাদা সরানোর কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়িটির চতুর্থ তলার একটি জানালা ভেঙে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢোকেন উদ্ধারকারীরা। তখন চণ্ডিকার কণ্ঠস্বর আরও স্পষ্টভাবে শোনা যায়।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন কীভাবে ওই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে ছিলেন চণ্ডিকা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায় তিনি তেমন কিছু বলতে পারেননি। পরে নেপালি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেয়া হয়।
চণ্ডিকার পরিবারের চার সদস্যও ওই দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এমনকি তাঁকে মৃত ধরে নিয়ে পরিবারের জীবিত সদস্যরা তাঁর শেষকৃত্যের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন।
চণ্ডিকার আত্মীয় রমেশ মান শ্রেষ্ঠা বলেন, উদ্ধারের খবর শুনে তাঁরা হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে চণ্ডিকাকে জীবিত দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়ে পড়েন।
উদ্ধারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হড়পা বানের স্রোতে ওই এলাকার ভূমি প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে গেছে। অনেক তিনতলা বাড়ি পুরোপুরি কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে। কিছু বাড়ি আবার স্রোতের সঙ্গে ভেসে গেছে।
নেপালে ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন শনিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের লালপুর উপজেলায় মসজিদ কমিটি গঠন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আড়বাব ইউনিয়নের কারিগরপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর কারিগরপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠন এবং মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আফসার আলী গ্রুপ এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। যদিও ওই সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পরে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া বাজার এলাকা থেকে বিএনপিপন্থী নেতা কালু, যিনি আলাল মেম্বারের ছেলে, তার নেতৃত্বে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক আফসার আলীর পক্ষ নিয়ে কারিগরপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন। পরে উভয় পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন-কচুয়া গ্রামের আলাল মেম্বারের ছেলে মিজানুর রহমান কালু (৪২), তার ছেলে মুন্না (১৮), অপর ছেলে শুভ (২৯), মাহাবুলের ছেলে মাহমুদুল হাসান (১৪), মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে চম্পা (৩৫), বড় শেরপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৮), কেশববাড়িয়া গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে বনি আমিন (২১), আনসার আলীর ছেলে মাহাতাব হোসেন (৩৮) এবং হাঁসবারিয়া গ্রামের আবুল হাশেম কবিরাজের ছেলে মাসুদ রানা (৪৫)।
আহতদের প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মাসুদ রানার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদ কমিটি নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করা তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা ও ফ্যাশন আইকন ছিলেন সালমান শাহ। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি পরপারে চলে যান। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, মাত্র ২৫ বছর বয়সে, এই নায়কের মৃত্যুর সময় কয়েকটি সিনেমার শুটিং চলছিল।
কিছু সিনেমার অর্ধেক কাজ ছিল বাকি, কিছু সিনেমার ক্লাইম্যাক্স অসমাপ্ত ছিল, আবার কোথাও গান ও ডাবিং শেষ হয়নি। তবে তার সিনেমাগুলোর কাজ থেমে যায়নি।
অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর পর নির্মাতাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছিল; অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর কী হবে? কেউ গল্প পরিবর্তন করেছেন, কেউ ডামি ব্যবহার করেছেন। আবার কেউ নতুন নায়ককে পর্দায় এনেছেন। কিছু সিনেমায় সালমান শাহর শুট করা অংশ বাদ দিয়ে অন্য অভিনেতাকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।
৩০ বছর পর ফিরে দেখা যাক, সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলো শেষ করেছিলেন কারা এবং কীভাবে।
শাবনূরকে সামনে রেখে শেষ ‘প্রেম পিয়াসী’
সালমান শাহর মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘প্রেম পিয়াসী’। ১৯৯৭ সালের ১৮ এপ্রিল সিনেমাটি মুক্তি পায়। এই ছবিতে সালমান শাহ গান, ক্লাইম্যাক্সসহ বেশ কয়েকটি দৃশ্যের কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। ফলে সিনেমাটি শেষ করতে নির্মাতাদের ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করতে হয়।
গানের দৃশ্যে নায়িকা শাবনূরকে সামনে রেখে শুটিং করা হয়। সালমানের উপস্থিতি দেখানোর জন্য কয়েকটি দৃশ্যে ডামি ও দূর থেকে নেওয়া শট ব্যবহার করা হয়। শেষ পর্যন্ত গল্পের শেষ অংশেও পরিবর্তন আনতে হয় নির্মাতাকে। সালমানের মৃত্যুর পর ‘প্রেম পিয়াসী’সহ কয়েকটি সিনেমা অন্য অভিনেতা ও ডামিশিল্পীদের সহায়তায় শেষ করার তথ্য বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
‘স্বপ্নের নায়ক’ শেষ করেন আমিন খান
সালমান শাহকে ছাড়া একটি সিনেমার গল্প কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়; তার সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ ‘স্বপ্নের নায়ক’। সিনেমাটির অর্ধেকের কম কাজ করেছিলেন সালমান শাহ। এরপর গল্প পরিবর্তন করে মাঝপথেই তাঁর চরিত্রের মৃত্যু দেখানো হয়।
এরপর সিনেমার গল্প এগিয়ে নিতে যুক্ত হন আমিন খান। অর্থাৎ, সালমান শাহর অসমাপ্ত চরিত্রের জায়গায় সরাসরি কাউকে বসানো হয়নি; বরং গল্পের মধ্যেই তার চরিত্রের সমাপ্তি ঘটিয়ে নতুন চরিত্রকে সামনে আনা হয়। ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মুক্তি পায় সিনেমাটি।
ডামির সাহায্যে শেষ ‘শুধু তুমি’
‘শুধু তুমি’র অবস্থা ছিল আরও জটিল। সালমান শাহ সিনেমাটির মাত্র ৩০ শতাংশের কম কাজ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তার অনুপস্থিতিতে বাকি গল্প এগিয়ে নেওয়া ছিল কঠিন। শেষ পর্যন্ত ডামি ব্যবহার এবং গল্পে পরিবর্তন এনে সিনেমাটির কাজ শেষ করা হয়। তবে ডামির ব্যবহার দর্শকদের চোখ এড়ায়নি।
১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি তাই সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নির্মাতাদের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল।
‘আনন্দ অশ্রু’: শেষ করেন নির্মাতা শিবলি সাদিক
‘আনন্দ অশ্রু’র বেশির ভাগ শুটিং সালমান শাহর জীবদ্দশাতেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু বাকি ছিল শেষ দৃশ্য, কয়েকটি গানের শুটিং এবং ডাবিং। পরিচালক শিবলি সাদিকের সিনেমাটি পরে সম্পন্ন করা হয় সালমান শাহকে ছাড়াই।
১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট মুক্তি পাওয়া ‘আনন্দ অশ্রু’ সালমান শাহর মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত সিনেমা। তার অসমাপ্ত কাজের মধ্যে এটি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি সম্পন্ন অবস্থায় ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
সালমানের জায়গায় এলেন ফেরদৌস
সবচেয়ে অভিনব সমাধানটি আসে ‘বুকের ভিতর আগুন’ সিনেমায়। পরিচালক ও প্রযোজক ছটকু আহমেদের সিনেমাটির উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ বাকি ছিল সালমান শাহর মৃত্যুর সময়। শুধু ডামি ব্যবহার করে সিনেমাটি শেষ করা সম্ভব ছিল না। তখন গল্পেই আনা হয় বড় পরিবর্তন।
কাহিনিতে দেখানো হয়, প্লাস্টিক সার্জারির কারণে চরিত্রটির চেহারা বদলে গেছে। সেই পরিবর্তিত চরিত্রে পর্দায় আসেন ফেরদৌস আহমেদ।
এভাবেই সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমা শেষ করতে যুক্ত হন নতুন একজন নায়ক। ‘বুকের ভিতর আগুন’ ছিল ফেরদৌসের বড় পর্দায় অভিষেকের সিনেমা এবং সালমান শাহ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিও এটি। সিনেমাটির কাজ শেষ করতে গল্প পরিবর্তন করে ফেরদৌসকে যুক্ত করার কথা পরিচালক ছটকু আহমেদ নিজেও বলেছেন।
সালমানের দৃশ্য বাদ দিয়ে আসেন রিয়াজ
সব অসমাপ্ত সিনেমা ডামি বা গল্প পরিবর্তন করে শেষ করা হয়নি। ‘মন মানে না’র ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত। সালমান শাহ সিনেমাটির কিছু অংশের কাজ করেছিলেন। পরে তাঁর মৃত্যুর পর সেই অংশ বাদ দিয়ে রিয়াজকে নিয়ে সিনেমাটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
অর্থাৎ, এখানে সালমান শাহর অসমাপ্ত চরিত্র শেষ করার চেষ্টা করা হয়নি। বরং সিনেমাটিই নতুন নায়ককে নিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে সালমান শাহর মৃত্যুর সময় সিনেমাটির উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ওমর সানী ও অমিত হাসানের হাতে নতুন করে নির্মাণ
একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আরও কয়েকটি সিনেমার ক্ষেত্রে। সালমান শাহর কিছু অংশের শুটিং করা দৃশ্য বাদ দিয়ে ওমর সানীকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয় ‘কে অপরাধী’। অন্যদিকে অমিত হাসানকে নিয়ে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় ‘তুমি শুধু তুমি’।
অর্থাৎ, এই সিনেমাগুলোতে সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজকে জোড়া লাগানো হয়নি। তার শুট করা অংশ বাদ দিয়ে নতুন অভিনেতাকে নিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন শুটিং। সালমান শাহর মৃত্যুর পর অসমাপ্ত কয়েকটি সিনেমা অন্য নায়কদের দিয়ে নতুন করে নির্মাণের তথ্য বিভিন্ন চলচ্চিত্রবিষয়ক সূত্রে পাওয়া যায়।
যে সিনেমাটি শেষই হয়নি
সব সিনেমার ভাগ্য অবশ্য এক ছিল না। ‘প্রেমের বাজি’ শেষ পর্যন্ত আর সম্পন্ন হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। সালমান শাহর মৃত্যুর পর অন্য অভিনেতাকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি সিনেমাটি। ফলে তাঁর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে এটি রয়ে যায় অসমাপ্ত ইতিহাস হিসেবেই।
সবমিলিয়ে সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর গল্পে তাই একাধিক মানুষের নাম জড়িয়ে আছে। কিন্তু ৩০ বছর পরও এসব সিনেমা দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে; সালমান শাহর জায়গা কেউ পূরণ করতে পারেননি। নির্মাতারা সিনেমা শেষ করেছিলেন, গল্প বদলেছিলেন, নতুন নায়ক এনেছিলেন, আবার কোথাও কোথাও ডামি ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু দর্শক পর্দায় বারবার খুঁজেছেন সেই মানুষটিকেই, যিনি সিনেমাগুলো শুরু করেছিলেন—কিন্তু শেষ দৃশ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ