ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চুয়াডাঙ্গায় গরুবাহী ট্রলি খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ২


চুয়াডাঙ্গায় গরুবাহী ট্রলি খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ২

চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর নূরনগর মুন্নামোড়ে একটি গরুবাহী পাওয়ার ট্রলি খাদে পড়ে ১ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় ২টি গরুরও মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম হেলাল উদ্দিন (৩৮), যিনি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার সবুজনগর গ্রামের নয়াল মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন পাওয়ার ট্রলির চালক তারাচাঁদ এবং শিপন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেলাল উদ্দিন পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মঠবাড়িয়া থেকে ১১টি গরু কিনে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়কের নূরনগর মুন্নামোড়ে পৌঁছালে পাওয়ার ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গরু ব্যবসায়ী হেলাল মারা যান। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এসে হতাহতদের উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন: মণ্ডপের দেয়ালে শিল্পকর্মে বাবার আত্মত্যাগের গল্প ও কৃষকের অবদান

চালক তারাচাঁদ জানান, তারা ৩ জন রোববার বিকেলে ১১টি গরু নিয়ে মঠবাড়িয়া থেকে রওনা দিয়েছিলেন। ভোরে হঠাৎ তার চোখে ঘুম চলে আসলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে যায় এবং দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজান জানান, নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। লাশটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে আগুনে পুড়ে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


সৌদিতে আগুনে পুড়ে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানে আগুন লেগে মো. শামীম রেজা নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু ঘটেছে। তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি টানতে। কিছুদিন আগে তিনি ফাইনাল এক্সিট ভিসা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার পূর্বেই তিনি এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন।

এই দুর্ঘটনা ঘটেছে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের কাছে।

নিহত শামীম রেজা সিরাজগঞ্জ জেলার চক খাদুলী গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিন প্রামাণিকের পুত্র। তার ছোট ভাই নুরুল ইসলাম এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের মাঝামাঝি এলাকায় শামীম রেজার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরে যায়। এতে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সিমুচি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে পরিবার ও পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন শামীম রেজা। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ফাইনাল এক্সিটও নিয়েছিলেন। তার ভিসার মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই তার জীবনের এমন করুণ পরিণতি পরিবার ও স্বজনদের শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত নিহতের ছোট ভাই নুরুল ইসলাম শামীম রেজার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কাভার্ড ভ্যানে আগুনের সূত্রপাতের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’

‘লাল হিট জনতা পার্টি’ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে দিল্লিতে মাঠে নেমেছে। রোববার দিল্লির মালব্য স্মৃতি ভবনে সংগঠনটির প্রথম সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির প্রধান অয়ন ভাটনগর।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কনট প্লেসসহ দিল্লির বিভিন্ন স্থানে সিজেপির বিক্ষোভের সমালোচনা করেন বক্তারা। বক্তাদের অভিযোগ, এই ধরনের কর্মসূচিগুলি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি করছে।

ভাটনগর মন্তব্য করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ না থেকে জনগণকে রাজপথে নামতে হবে। তিনি দাবি করেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আহ্বান জানালে আরো বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হবেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সমর্থনে সিজেপি সরকারবিরোধী আন্দোলন চালাচ্ছে।

সিইসির পদত্যাগের দাবির সমালোচনা করে ভাটনগর বলেন, এ ধরনের দাবি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা দুর্বল করতে পারে। তিনি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। তার ভাষায়, দশেরা থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ পতনের সূচনা হবে।

লাল হিট জনতা পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ করা। সংগঠনটির দাবি, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও তারা সমর্থন পাচ্ছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশ গড়তে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৮ এম


দেশ গড়তে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

আজ রোববার রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।’

সংকটকালে দেশের জনগণ সব সময় দেশ রক্ষায় রাজপথে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। সেসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিনও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।’

দেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হচ্ছে-এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

রাতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান।

সেখানে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজেদের অবস্থান থেকে কাজ করা। আমরা সকলেই একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের অবশ্যই কাজ করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই কাজের সূচনা করেছিলেন।

আজ রোববার, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। তিনি ২০০৩ সালে ফাউন্ডেশনের ‘একটি উদ্যোগ’ একটু চেষ্টা’ স্লোগানটি লিখেছিলেন। আজ ২৭ বছর পর আমরা এখানে পৌঁছেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি এবং আমরা সেটি সফলভাবে করেছি। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা’ স্লোগান বাস্তবায়িত হবে এবং দেশে স্বনির্ভরতা আসবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব এবং তাদের জন্য কাজ করতে পারব।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান বলেন, আমার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আমি ভাবতে শুরু করি তিনি রাজনীতিতে কোন কোন কাজগুলো করেছেন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা হত্যা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পত্রিকার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এগুলো রাজনৈতিক বিষয় হলেও, তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যারা দেশের অর্থনীতির একটি শক্তি। তিনি দেশের শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন এবং শিক্ষার আলো মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্যও তিনি কাজ করেছিলেন।

সরকার প্রধান বলেন, ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হলেও বিএনপি তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল না। এ কারণে বিএনপি তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত করতে পারেনি। মানুষের কষ্ট, দেশের সমস্যা এবং গণতন্ত্রের বিষয়গুলো বিএনপি তুলে ধরেছে, যার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরেও আমরা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি এবং শহীদ জিয়ার কাজগুলোকে সামনে এগিয়ে নিতে পারি, সেই লক্ষ্যেই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভিডিওতে দেখানো কাজগুলো আমাদের প্রচেষ্টার ফল।

শহীদ জিয়ার কাজগুলো আমরা মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, আমরা সেই কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। কৃষকদের মধ্যে শস্যের বীজ পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। শহীদ জিয়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে চেয়েছিলেন, আমরাও গ্রামের অসহায় ও খেটে খাওয়া নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চেষ্টা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া দেশের পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। আমরাও সেই কাজ শুরু করেছি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ঢাকায় কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। তবে রাজনীতির পাশাপাশি সমাজের জন্য কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি করাও জরুরি। ২৭ বছর আগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।

অনুষ্ঠানটি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। পরে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সেবামূলক কাজ নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শিত হয়।

ফাউন্ডেশনের সকল সদস্য ও কর্মীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তবে সংগঠনটিকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের অনেক সদস্য বিভিন্ন রকম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, কাজ করতে চাইলে ইচ্ছাই সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা দেখেছি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি আছেন, যারা তাদের সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন। যদি তারা তাদের সম্পদের সামান্য অংশ সমাজের জন্য ব্যবহার করেন, তাহলে অনেকের কাছে শান্তি পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন।

তারেক রহমান বলেন, সব সময় অর্থ মুখ্য নয়। সবসময় সামর্থ্যও মুখ্য নয়। সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যের সেই প্রবল ইচ্ছা রয়েছে, যা একটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হোক যতদিন আমরা সুস্থ ও সফল থাকব, ততদিন মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার লক্ষ্যে জেডআরএফ প্রতিষ্ঠা করেন।

‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ স্লোগানকে ধারণ করে গরিব এবং অসহায় মানুষের কাছে ছুটে চলেছে জেডআরএফ। ইতোমধ্যে মানবসেবার অসংখ্য দৃষ্টান্তমূলক কাজের মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম লাভ করেছে সংগঠনটি।

জেডআরএফ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গরিব ও দুস্থ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে ঘর নির্মাণ, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও সেলাই মেশিন বিতরণ, বহু চিকিৎসা ও সেবাদান কেন্দ্র স্থাপন, শীতবস্ত্র বিতরণ, সামাজিক বনায়ন, শস্যবীজ সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ পুনর্বাসন, শিক্ষা বৃত্তি প্রকল্প ও ভার্চুয়াল বিজ্ঞান মেলার আয়োজনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত ও প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। বিশেষ করে দেশে যখনই কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে, তখনই জেডআরএফ তার সাধ্যমতো মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%