ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এবার ‘এরদোয়ান কার্ড’ খেলছেন নেতানিয়াহু, তুরস্ক-ইসরায়েল যুদ্ধ কি আসন্ন?


এবার ‘এরদোয়ান কার্ড’ খেলছেন নেতানিয়াহু, তুরস্ক-ইসরায়েল যুদ্ধ কি আসন্ন?

ইসরায়েলের আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন একটি হিসাব-নিকাশের উন্মোচন ঘটেছে। তেল আবিবের প্রধান হাইওয়েতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টি যে বিশাল নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপন করেছে, তাতে স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের শত্রু হিসেবে তুরস্ককে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট রাতে ড্রোনের মাধ্যমে দৃশ্যমান হওয়া ওই বিলবোর্ডে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছবি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির পাশে স্থাপন করা হয়েছে। হিব্রু ভাষায় লেখা নির্বাচনী স্লোগানটি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট, "তারা চায় নেতানিয়াহু হেরে যাক। তাদের জিততে দেবেন না।"

বিলবোর্ডের এই বার্তা প্রকাশের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়টিকে রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে সামরিক সংঘাতে রূপান্তর করা হয়। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত আবু আল-দাহুর বিমানঘাঁটিতে আকস্মিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের একটি উদীয়মান সামরিক উপস্থিতি গড়ে উঠছিল, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। তবে নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাসের কিছু বেশি সময় বাকি থাকায়, প্রচারণামূলক বার্তার পরপরই এই সামরিক অভিযান একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নেতানিয়াহু কি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাস্তব কোনো নিরাপত্তা হুমকি নস্যাৎ করেছেন, নাকি ব্যালট বাক্সে নিজের অবস্থান শক্ত করতে একটি সংকটকে কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে তুলছেন?

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নেতানিয়াহু সব সময় ইসরায়েলের মিস্টার সিকিউরিটি হিসেবে পরিচিত হয়েছেন, যিনি দেশের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম। তবে সংকটকে রাজনৈতিক সুবিধায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার দীর্ঘ দুর্নাম রয়েছে।

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

এই হামলার বিরুদ্ধে বিরল ও প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত ও তুরস্কে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত টম বারাক। তিনি এই হামলাকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হিসেবে অভিহিত করে পডকাস্টার মারিও নাউফালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের দিকে ইঙ্গিত করেন। বারাক বলেন, "এটি কেবল তুরস্ককে প্ররোচিত করার একটি ইসরায়েলি চেষ্টা হতে পারে।" তার ভাষায়, "এটি অত্যন্ত আগ্রাসী একটি পদক্ষেপ, তবে নির্বাচনের মুখে জনগণের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি চমৎকারভাবে কাজ করতে পারে।"

সরকারিভাবে ইসরায়েল এই হামলাকে নিছক সামরিক ও অভিযানের বাধ্যবাধকতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দুজনেই জানিয়েছেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিল যে তুরস্ক ওই বিমানঘাঁটিতে তাদের সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সামরিক সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) খবর পেয়েছিল যে আঙ্কারা সেখানে কর্মী, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসাতে যাচ্ছে। এর ফলে সিরিয়ার আকাশে ইসরায়েলের স্বাধীন চলাচলের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ত এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য বদলে যেত। এই গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্প প্রশাসন এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে জানানো হয়েছিল বলেও নিশ্চিত করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় উত্তেজনা প্রশমনে গত রবিবার জর্ডানে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান রোমান গফম্যানের মধ্যে আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

তবে এই সামরিক অভিযানের সময় নিয়ে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ইসরায়েলি ব্যাখ্যাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে তুরস্ক নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অক্টোবর মাসের নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় বিস্তারবাদী ও অস্থিতিশীল নীতি অনুসরণের অভিযোগ তুলেছে। তুর্কি সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিরীয় সরকারের সঙ্গে আইনি কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

এদিকে নেতানিয়াহু ও কাৎজ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হামলার কথা অস্বীকার করে সিরিয়ায় তুর্কি সামরিক শক্তিকেন্দ্র গড়ে ওঠার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক বার্তা দিয়ে চলেছেন। নেতানিয়াহু পরিষ্কারভাবে বলেছেন, "আমরা কোনোভাবেই সিরিয়ায় তুর্কি সামরিক উপস্থিতি শিকড় গাড়তে দেব না, যা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।"

একই সময়ে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে নিজের বাগাড়ম্বর ও ভাষা আরও কঠোর করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে সরাসরি এরদোয়ানকে "নিজের জনগণকে নিপীড়নকারী এক ইহুদি-বিরোধী স্বৈরাচারী" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দুই নেতার এই বৈরিতা অবশ্য নতুন নয়; গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধের পর থেকে তা আরও তীব্র রূপ নেয়। এরদোয়ান নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করে গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছেন, অন্যদিকে নেতানিয়াহু অভিযোগ করে আসছেন যে এরদোয়ান হামাসকে সমর্থন দিচ্ছেন। সম্প্রতি আঙ্কারার কাছে মার্কিন এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান বিক্রিরও তীব্র বিরোধিতা করে নেতানিয়াহু অঞ্চলের ওপর এরদোয়ানের আগ্রাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

বামপন্থী সংবাদপত্র হারেৎজের প্রবীণ নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমোস হারেল মনে করেন, এই ঘটনায় নিরাপত্তা ও রাজনীতি; দুইটি দিকই সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি নিশ্চিত করেন যে ইসরায়েলের প্রতি এরদোয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত শত্রুতাপূর্ণ এবং তুর্কিরা সিরিয়ায় এমন কিছু সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে যা আইডিএফকে উদ্বিগ্ন করেছে। তবে একই সঙ্গে হারেল এটিও উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহু সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক একটি কৌশল গ্রহণ করেছেন। এটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা থেকে শেখা এক শিক্ষা; সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা বাফার জোন গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিটি ফ্রন্টে আগেই আঘাত হানা। ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার ভেতরে ইসরায়েল যে ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছিল, তা এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে নির্বাচনের এমন মুহূর্তে বিরোধীদের মধ্যে সন্দেহ কেবল ঘনীভূতই হচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ সামরিক অভিযানকে সঠিক বললেও এর পর ইসরায়েলের বিজয়ী প্রচারণাকে তিরস্কার করেছেন। তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যে প্রয়োজন হলে আঘাত হানা জরুরি, তবে আঘাত হানার পর চুপ থাকাই শ্রেয়।"

আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার

অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান বিষয়টিকে প্ররোচনামূলক ও বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়ে লিখেছেন, "এই উত্তেজনার পেছনে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা জনগণকে আতঙ্কিত করে নির্বাচনের মাঠে সুবিধা পাওয়ার জন্য সাজানো হয়েছে।"

সব মিলিয়ে জনমত জরিপে নেতানিয়াহু এবং তার রাজনৈতিক জোট যখন পিছিয়ে রয়েছে, তখন সমালোচকরা ভয় পাচ্ছেন যে এই নতুন নিরাপত্তা সংকট রাজনৈতিক পটভূমিকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে এবং নেতানিয়াহুকে নির্বাচনী এজেন্ডা নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ করে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন শেষ মুহূর্তে একটি নিরাপত্তা জরুরি অবস্থা তৈরি করাটাই রাজনীতিতে টিকে থাকার ও নির্বাচনে জেতার একমাত্র উপায়। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের অধীনে ইরানের ওপর ইসরায়েলের বড় যুদ্ধের পরিধি সীমিত করে দিয়েছে এবং গাজা ও লেবাননে সেনা তৎপরতা সংকুচিত করেছে, তখন তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তই তার কাছে একমাত্র বিকল্প ফ্রন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আপাতদৃষ্টিতে সামরিক নিরাপত্তার কথা বলা হলেও, এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সন্দেহটাই এখন ইসরায়েলের ভেতরে ও বাইরে সবচেয়ে বেশি জোর পাচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে নদীতীরের বাঁধ সংস্কারে ১ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকার প্রকল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


ফেনীতে নদীতীরের বাঁধ সংস্কারে ১ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকার প্রকল্প

ফেনীর পরশুরামসহ মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থায়ী সমাধানের জন্য ১ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, চলতি বছর প্রকল্পের কাজ শুরু হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে পরশুরামের মুহুরী ব্রিজসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা বাঁধের কারণে প্রতি বর্ষায় এই অঞ্চলের মানুষ বন্যার শিকার হন। এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য গৃহীত প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যার ঝুঁকি কমবে এবং কৃষি ও স্থানীয় মানুষের জানমাল রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ভারতের উজান থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, ভারত একটি বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে আগ্রাসনের মানসিকতা থেকে দূরে থাকবে, এমনটাই তাঁদের আশা।

মন্ত্রী জানান, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী ফেনীর এই এলাকায় সফরে আসবেন।

বাঁধ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


মাদারীপুরে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদীতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে পিতার ক্রয়কৃত ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী আছালাত শিকদার ও তার স্বজনরা। মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাড়ির পাশে বিরোধপূর্ণ জমিতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

এসময় প্রতিপক্ষ জসিম বেপারী ও নজরুল বেপারীর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আছালাত শিকদার বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার শিড়খাড়া ইউনিয়নের বাহিরচর শ্রীনদী মৌজার ২৪৮১ দাগে সাড়ে ১০ শতাংশ সহ মোট সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি স্থানীয় জসিম বেপারীর কাছ থেকে ক্রয় করেন আছালাত শিকদারের পিতা মৃত বছিরউদ্দিন শিকদার। গত ৩ বছর ধরে সেই জমির মালিকানা দাবি করে দখল করে আসছেন জসিমের ছেলে নজরুল বেপারী। এ নিয়ে দ্বন্দ্বর সৃষ্টি হলে উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে নজরুল বেপারী। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারসহ ন্যায্য জমি বুঝে পেতে সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা।

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, আমাদের বাহিরচর শ্রীনদী মৌজার ২৪৮১ দাগে সাড়ে ১০ শতভাগ জমির মধ্যে আমরা ৯ শতাংশ জমি দখলে আছি আর বাকি দেড় শতাংশ জমি জোর পূর্বক দখল করে জসিম বেপারী বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। আমরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি আমাদের দলিল অনুযায়ী জায়গা বুজিয়ে দেন এবং আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

অভিযুক্ত জসিম বেপারীর স্ত্রী মমতাজ বেগম বলেন, ২৪৮১ দাগে তারা পাবে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। কিন্তু তারা দলিল নিয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। এ নিয়ে তারা আদালতে একটি মামলা করেছেন। আমি সেই মামলার জবাব দিয়েছি।

মাদারীপুরের শ্রীনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন, তাদের দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কিছুদিন আগে বিশৃঙ্খলার সংবাদ পেয়ে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু কোন পক্ষই আমাদের কাছে অভিযোগ দেননি। তবে সদর থানায় দিয়েছে কিনা জানা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাণ্ডারিয়ায় মাছে ক্ষতিকারক রং মেশানোর দায়ে ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


ভাণ্ডারিয়ায় মাছে ক্ষতিকারক রং মেশানোর দায়ে ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাছে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা কৃত্রিম রং মেশানোর অপরাধে তিন মৎস্য ব্যবসায়ীকে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভাণ্ডারিয়া পৌর শহর ও স্থানীয় বাজারে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারায় তাদের এ জরিমানা করা হয়। অভিযানের বিচারকার্য পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে মো. মিলন হাওলাদার (৩৭)কে ১ হাজার টাকা, মো. মনসুর মোল্লাকে ১ হাজার টাকা এবং জহির (৪০)কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাসিবুল হাসান বলেন, অসাধু উপায়ে মাছে কৃত্রিম রং মিশিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করার অপরাধে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমতলীতে নেক্সাস প্রোগ্রামিং শক্তিশালীকরণে অ্যাডভোকেসি সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


আমতলীতে নেক্সাস প্রোগ্রামিং শক্তিশালীকরণে অ্যাডভোকেসি সভা
 
মঙ্গলবার সকালে আমতলী উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। অ্যাক্টিভিস্তা বরগুনার উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সার্বিক সহযোগিতা করে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস।
 
এনএসএসের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন এনএসএসের নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী।
 
আমতলী সরকারি কলেজের সাবেক প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, আমতলী উপজেলা সাংবাদিক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আলী কাজী ও সাংবাদিক আবদুর রহমান সালেহসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সভায় বক্তব্য দেন।
 
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আলম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দীন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, বন কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি জসিম শিকদার, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক মহসীন মাতুব্বর, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আবু জিহাদ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি আমতলী শাখার সাধারণ সম্পাদক জোসেফ মাহতাব। 
 
সভায় কমিউনিটি কনসালটেশনের ফলাফল ও উপজেলা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন তারুণ্যের আলো যুব ফোরামের সভাপতি মুক্তা রানী ও ওয়াহিদুল করিম তনু। অনুষ্ঠানের শুরুতে নেক্সাস প্রোগ্রামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি সচেতনতামূলক নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। পরে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের দাবিতে সংগীত পরিবেশন করা হয়।
 
সভায় বক্তারা বলেন, দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে উপকূলীয় এলাকার মানুষের বসতবাড়ি ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারের ব্যয়ও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতার ঘাটতি থাকায় জরুরি সাড়াদানে বিলম্ব হয় এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
 
বক্তারা আরও বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর সমন্বয় এবং সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, যুবসমাজ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
 
অ্যাডভোকেসি সভায় সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, যুব সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ২০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%