ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
জুলাই গণঅভ্যুত্থান

অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি নুরুল হকের


অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি নুরুল হকের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেছেন। এই কথাগুলি তিনি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদের বিচার প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়তে হবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় এসে গুম, খুন ও দমন-পীড়ন চালাতে না পারে, সেজন্য আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনের গণঅভ্যুত্থানেই শুধু নয়, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন বা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের তালিকা প্রণয়ন করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র এবং ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী বিতর্কিত সরকারের নীলনকশার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেশকে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পিলখানা বিদ্রোহের নামে মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করেছিল। কারণ, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী যখনই জনবান্ধব অবস্থান নিয়েছে, তখনই জনগণের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।' প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার পাশাপাশি ইসলামপ্রিয় আলেম-ওলামাদের ওপর শাপলা চত্বরে নির্মম, নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।' বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের প্রসঙ্গে নুরুল হক বলেন, 'জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে পৈশাচিকভাবে বের করে দেওয়া হয়েছিল।' তিনি দাবি করেন, 'সে সময় উল্লাস করে বলা হয়েছিল যে যেদিন আমাকে ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, সেদিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তাকে ওই বাড়ি থেকে বের করব।' বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন; বরং সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক আহত ও পঙ্গু জুলাইযোদ্ধা যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিতে হবে।' তিনি বলেন, 'বর্তমানে অনেকেই বিপ্লবী বক্তব্য দিচ্ছেন, অথচ তারা দীর্ঘ ১৮ মাস সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। কিন্তু ওই সময়ে আহতদের ক্ষতিপূরণ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি।' এমনকি আহতদের তালিকা প্রণয়নেও নানা ধরনের অনিয়ম ও নয়ছয়ের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলডিসি উত্তরণে এফটিএ ও অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের আহ্বান ডিসিসিআইয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৯ এম


এলডিসি উত্তরণে এফটিএ ও অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের আহ্বান ডিসিসিআইয়ের

এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ওপর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কর্তৃপক্ষ গুরুত্বারোপ করেছে। একইসঙ্গে সংগঠনটি আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এসব বিষয় তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, এলডিসি উত্তরণ পর বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি রফতানি বাজার বৈচিত্র্যকরণে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর ও বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষিখাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য সরাসরি পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জবাবে বলেন, আফ্রিকাসহ সম্ভাবনাময় দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক বাণিজ্য চুক্তির স্বাক্ষরে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের উৎপাদিত পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, ফলমূল এবং সিরামিক পণ্যের উল্লেখযোগ্য বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর দেশের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বেসরকারি খাতের সক্ষমতা পুরোদমে বাড়ানো প্রয়োজন। সেইসঙ্গে রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।

সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অনুবিভাগ) ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেষ হচ্ছে দেশম অধ্যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১০ এম


শেষ হচ্ছে দেশম অধ্যায়

স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে হারানো ফ্রান্সের জন্য শুধুমাত্র বিশ্বকাপের স্বপ্নই ভাঙেনি, বরং এটি শেষ করে দিয়েছে জাতীয় দলের ইতিহাসের একটি সফল অধ্যায়। এই ঘটনায় ফরাসি দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে চলে যাচ্ছেন দিদিয়ের দেশম, যা ঘটতে চলেছে ১৪ বছরের দীর্ঘ কালে। দেশমের বিদায়ের ফলে শুরু হতে যাচ্ছে জিনেদিন জিদানের নতুন যুগ।

বিশ্বকাপের শুরুতেই দেশম ঘোষণা করেছিলেন যে, আসর শেষে তিনি দায়িত্ব কার্যকর করবেন না। স্পেনের বিপক্ষে ২-০ গোলের পরাজয়ের পর তার সেই ঘোষণাই বাস্তবে পরিণত হতে যাচ্ছে। তবে বিদায়ের আগে তার সামনে রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে শেষবারের মতো দেখা যাবে এই সফল কোচকে ফ্রান্সের ডাগআউটে।

১৯৯৮ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার সময় ফ্রান্স পুনর্গঠনের পথে ছিল। দেশমের নেতৃত্বে দলটি ধীরে ধীরে ফিরে পেয়েছে নিজেদের শক্তির পরিচয়। তার অধিনায়ত্বে ২০১৪ বিশ্বকাপে ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে, ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়, ২০২২ সালে রানার্সআপ এবং ২০২৬ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। তিনি টানা চারটি বিশ্বকাপেই দলকে শেষের দিকে নিয়ে যাওয়ার বিরল কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন।

এবারের বিশ্বকাপে দেশমের সামনে একটি নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল। যদি তিনি টানা তৃতীয়বার ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলতে পারতেন, তবে সেটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হত। আর যদি শিরোপা জয় করতে পারতেন, তবে খেলোয়াড় এবং কোচ দুজনের মিলিয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জয় করার অনন্য কীর্তিতে পৌঁছে যেতেন তিনি। কিন্তু স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে হারিয়ে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল।

ফরাসি ফুটবলে দেশমের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন এবং দুই দশক পর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে দেশের জন্য ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার শিরোপা এনে দেন। ২০২২ সালে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারে স্বপ্নভঙ্গ হলেও তিনি দলের সাফল্যের ধারায় বাধা সৃষ্টি করেননি।

তার কোচিং অধ্যায়ের পরিসংখ্যানও অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। ১৮৫ ম্যাচে দায়িত্ব নিয়ে ১২০ জয় পেয়েছেন তিনি। ৩৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে, এবং মাত্র ৩০টি ম্যাচে তিনি পরাজিত হয়েছেন।

দেশমের বিদায়ের পর ফ্রান্সের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দেশের আরেক কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। তার খেলোয়াড়ি গল্পে বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি রয়েছে এবং কোচ হিসেবে ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এবার জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে নতুন স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবেন তিনি।

ফরাসি ফুটবল এখন এক যুগের সমাপ্তি এবং নতুন যুগের সূচনার অপেক্ষায় রয়েছে। দেশমের গড়া শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে জিদানের লক্ষ্য হবে দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ আসনে ফিরিয়ে নেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই চান স্পেন কোচ, জানালেন বিশেষ কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১১ এম


ফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই চান স্পেন কোচ, জানালেন বিশেষ কারণ

ফ্রান্সকে হারানোর পর ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে যাওয়ার নিশ্চয়তা পেয়ে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, তার পছন্দের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা। তিনি উল্লেখ করেছেন, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে তার দীর্ঘ সময়ের একটি ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব আছে। এটি তিনি টিওয়াইসি স্পোর্টসের খবরের মাধ্যমে জানিয়েছেন।

সেমিফাইনালে জয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘স্কালোনির সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আছে। সে কারণে আমি চাই, ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে। তবে ইংল্যান্ডও একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। আমার পক্ষে মনে হয়েছে যে, দুটি সেমিফাইনালই ছিল ফাইনালের পূর্বের একটি ফাইনাল।’

বিশ্বকাপের শেষ চারের প্রতিযোগিতার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে স্পেনের এই কোচ জানান, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে সেমিফাইনালে এসেছেন। তাই ফাইনালে যে দলই চলে আসুক না কেন, সেই ম্যাচটি অনেক কঠিন হবে।

ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়কে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন দে লা ফুয়েন্তে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলির মধ্যে একটি দলের বিপক্ষে খেলেছি। তবে তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, তারা খেলেছে বিশ্বের সেরা সাংবাদিকতার সঙ্গী—এটাই হলো পার্থক্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ফুটবলাররা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের নিবেদন, উদারতা ও প্রতিভা চমৎকার। আজ তারা অসাধারণ ফুটবল খেলেছে।’

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের পূর্বে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পেনের কোচের প্রশংসা করেন। স্কালোনি বলেন, ‘লুইসের জন্য আমি খুবই আনন্দিত। তিনি অসাধারণ একজন ব্যক্তি এবং এই সাফল্যের পুরোপুরি প্রাপ্য। কোচিং কোর্স করার সময় তিনি সবসময় আমাকে সহযোগিতা করেছেন।’

একটু রসিকতা করে আর্জেন্টিনা কোচ আরো বলেন, ‘আমি তাকে ফোন করব কি না, সেটা আমাদের ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। আমরা জয়লাভ করলে ফোন করব না, আর যদি হারি তবে হয়তো তার কাছে সাহায্য চাইব। তবে আমি আশা করি, ফাইনালের আগে তার কাছে ফোন করার প্রয়োজন হবে না।’

এছাড়া, উল্লেখ্য যে, লিওনেল স্কালোনি স্পেনের রয়্যাল ফুটবল ফেডারেশনের কোচিং কোর্সে অংশ নেওয়ার সময় লুইস দে লা ফুয়েন্তে ছিলেন তার অন্যতম প্রশিক্ষক। এখান থেকেই তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কারণে নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৩ এম


যে কারণে নীল জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

আজ দিবাগত রাত একটার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সির পরিবর্তে তারা গাঢ় নীল জার্সি পরে খেলবে। এই বিশেষ জার্সিকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের একাংশের মধ্যে রয়েছে ‘অভিশপ্ত’ তকমা, তবে এর পেছনে রয়েছে বিশেষ একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা।

২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিদায়ের ম্যাচে দলটির পরনে ছিল একই রকমের নীল জার্সি। ফলে অনেক সমর্থক এর দিকে অশুভ হিসেবে নজর দেন।

এদিকে ফিফার জার্সি-সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, যদি দুই দলের প্রথম পছন্দের জার্সির রঙ কাছাকাছি হয়, তবে একটি দলকে গাঢ় এবং অন্য দলকে হালকা রঙের জার্সি পরতে হয়। সেমিফাইনালে স্বাগতিক বা ‘হোম’ দল হিসেবে ইংল্যান্ড তাদের ঐতিহ্যবাহী সাদা জার্সি পরবে। এর ফলস্বরূপ, আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সির পরিবর্তে গাঢ় নীল জার্সি পরা হয়ে যাচ্ছে নিয়ম মেনে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই জার্সি ব্যবহারের নির্দিষ্ট বিষয়টি নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফার কাছে অনুমতি চেয়েছে।

গাঢ় নীল জার্সি নেওয়ার পিছনে একটি প্রতীকী কারণও রয়েছে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচে গাঢ় নীল জার্সি পরেই খেলেছিল আর্জেন্টিনা। ঐ ম্যাচে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা দুই গোল করেছিলেন, যার একটি বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল হিসেবে স্মরণার্হ।

সেই স্মরণীয় জয়ের আবহ ফিরিয়ে আনতে আজকের ম্যাচে গাঢ় নীল জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা।

সূত্র : বিবিসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%