১২:৩২ পি.এম
ভারতের আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের উদ্যোগে দুই দিনের মধ্যে ১ হাজারেরও বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযানে অধিকাংশ পরিবার বাঙালি মুসলিম। নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
রাজ্যটিতে প্রান্তিক জনগণের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলিমদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো এখন একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোববার, অভিযানের দ্বিতীয় দিনে নগাঁও জেলার লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল কর্তৃপক্ষ ছয় শতাধিক মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো বনভূমির জমি অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করছিল।
আরও পড়ুন: মুসলিমরা এখন নেতা বানাবে না, নিজেরাই নেতৃত্ব দেবে: ওয়াইসি
এর আগের দিন শনিবার, তিন জেলায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
লুটুমারিতে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছিল।
সংবাদমাধ্যম স্ক্রলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা মূলত বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং সরকারই তাদের সেখানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছিল।
গত জুনে অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপলস আসাম সরকারকে লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গ্রামবাসীদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল। সংগঠনটির যুক্তি ছিল, ওই এলাকার চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের ঔপনিবেশিক আমলে চালু হওয়া বন ব্যবস্থাপনার ‘তাউঙ্গিয়া’ পদ্ধতির আওতায় সেখানে বসতি স্থাপন করা হয়েছিল। সুতরাং, তাদের সাধারণ অবৈধ দখলদার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা নীতি ফাঁকা বুলি, দাবি বিরোধীদলীয় নেতা গাডি আইজেনকট
রোববার উচ্ছেদ অভিযানে বাড়িঘর হারানো লুটুমারির ৪৪ বছর বয়সী বাসিন্দা আবদুল নূর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘১৯৭৪ সালে সরকার আমাদের এখানে বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করেছিল। আমরা মূলত কাছের জুরিয়া শহরের বাসিন্দা। আমাদের পূর্বপুরুষেরা ভূমিহীন ছিলেন বলে সরকার আমাদের এখানে বসতি গড়ার ব্যবস্থা করে। সব মিলিয়ে ৩০০টি ভূমিহীন পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল।’
এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানে ১০টিরও বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্ক্রল-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদ ৫০ বছরেরও বেশি পুরনো।
সূত্র: মাকতুব মিডিয়া
আরএ
আরও পড়ুন: শিক্ষা, ব্যয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ: যুবসমাজ ইউরোপজুড়ে ফুঁসে উঠেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন