মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৯ পি.এম
আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে ব্রাজিল নিজেদের দখলে রেখেছে দুই ম্যাচের সিরিজ। ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে ৫২ হাজার ৪২৩ জন সকারুস দর্শকের উল্লাস সেলেসাওদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রথমার্ধে ২-২ সমতা থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের আক্রমণাত্মক খেলার ধারায় ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় রাফিনহারা।
এবিসি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিল চমক দেখায়। মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় একটি চমৎকার বিল্ড-আপ থেকে লক্ষ্যভেদ করে দলের জন্য এগিয়ে যান ডিফেন্ডার ভ্যান্ডারসন।
তবে শুরুতে এই ধাক্কা সামলে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে টনি পোপোভিকের অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের ২৮ মিনিটে আলেসান্দ্রো সিরকাটি গোলে পুরো গ্যালারি উল্লাসে ফেটে পড়ে।
কনর মেটকালফের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ ফ্লিকে অস্ট্রেলিয়াকে ১-১ সমতায় ফেরান আলেসান্দ্রো সার্কাটি। শুরুর দিকে অফসাইডের বাঁশি বাজালেও ভিএআর পরীক্ষার পর গোলটি বহাল থাকে।
সমতায় ফেরার মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের এক দর্শনীয় দূরপাল্লার শটে সকারুজদের ২-১ ব্যবধানে লিড এনে দেন মিডফিল্ডার কনর মেটকালফে।
প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে, বক্সের ভেতরে দানিলো ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের সাহায্যে ব্রাজিল পেনাল্টি পায়। স্পট-কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ম্যাচ ২-২ সমতায় নিয়ে আসেন রাফিনহা।
দ্বিতীয়ার্ধে কার্লো আনচেলত্তির দল আরো বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। ৬৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় এন্ড্রিকের বাড়ানো পাস থেকে দারুণ এক মাইনাসে বল পেয়ে জালে জড়াতে ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক ব্রুনো গিমারায়েস। এতে ৩-২ ব্যবধানে লিড পুনরুদ্ধার করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
৮০ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বক্সের ভেতর ফাউল করা হলে ম্যাচ রেফারি ব্রাজিলের পক্ষে দ্বিতীয় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। নিজের আদায় করা পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। ফলে ৪-২ গোলে জয় নিশ্চিত করে আনচেলত্তির শিষ্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘বিগ বস্ ২০’-এর সাম্প্রতিক পর্বে উদিতি সিং তার পুরনো সম্পর্ক এবং বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, সেই বিচ্ছেদটি তার ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। উদিতি এই অভিজ্ঞতাকে ‘ছদ্মবেশে আশীর্বাদ’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
উদিতির বক্তব্য অনুযায়ী, ‘আমার জীবনে বিচ্ছেদটা সত্যিই ছদ্মবেশে আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল।’
তিনি প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পেছনের কারণ নিয়েও কথা বলেন। উদিতি জানান, লকডাউনের সময়ে তারা গোল্ডেন রিট্রিভার প্রজাতির একটি কুকুর দত্তক নিয়েছিলেন। তাদের কুকুরের নাম ছিল নোয়া। কিন্তু পরে সেই পোষ্যের দেখভাল নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ দেখা দিত।
উদিতির ভাষায়, ‘পোষ্যকে নিয়ে প্রবল ঝগড়া হতো।’
শুধু পোষ্য নিয়েই নয়, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তাদের মধ্যে পার্থক্য ছিল বলেও জানান তিনি। উদিতি বলেন, ‘আমার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পদ্ধতি আলাদা, ওর আলাদা।’ ঘরদোর পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন অভ্যাস—দুজনের প্রত্যাশা ও পদ্ধতিতে এই অমিল সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছিল।
এছাড়া, বয়সের ব্যবধানও তাদের সম্পর্কের সমীকরণে প্রভাব ফেলেছিল বলে তিনি দাবি করেন। উদিতির অভিযোগ, তার প্রাক্তন সঙ্গী প্রায়ই তার ওপর কর্তৃত্ব ফলানোর চেষ্টা করতেন। তিনি বলেন, ‘তুমি এটা পারবে না, তুমি জানো না ওটা কী ভাবে করতে হয়।’
সেই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে উদিতি বলেন, ‘সঙ্গীই যদি আপনাকে নিরুৎসাহিত করে…’
তবে শেষ পর্যন্ত উদিতির উপলব্ধি হলো, সব চেষ্টা করেও কিছু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি দু’জন মানুষের সম্পর্ককে তারার অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে সময় এবং পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। আবার সময়-পরিস্থিতি সহায়ক হলে একই সম্পর্ক সুন্দরভাবেই এগিয়ে যেতে পারে।
২০১৯ সালে উদিতি ও করণ ওয়াহীর সম্পর্কে জড়ানোর খবর প্রকাশ্যে আসে। যদিও সে সময় তারা নিজেদের সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেননি। ‘বিগ বস্ ২০’-এর এই পর্বে উদিতি জানান, লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁ নিয়ে ইনস্টাগ্রামে করণকে বার্তা পাঠানোর পর তাদের যোগাযোগ শুরু হয়। করণ লন্ডনে গেলে তাদের দেখা হয়। এরপর প্রায় দু’মাস নিয়মিত কথা বলার পর তারা সম্পর্কে জড়ান বলে জানান উদিতি।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাদের সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে। সে সময় করণ সমাজমাধ্যমে উদিতির সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে তাদের সম্পর্কের কথা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোংলা বন্দর পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটিতে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন কার্গো এবং ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নাব্যতা উন্নয়ন, দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) খুলনার খালিশপুরের পোর্ট অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন। আগের অর্থবছরের তুলনায় কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বৃদ্ধি ঘটেছে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টন বা ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার টিইইউএস। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস। এক বছরে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বা ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
বন্দর ব্যবহারের বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে জাহাজ ও গাড়ি আমদানিতেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত অর্থবছরে মোংলা বন্দরে ৮১৫টি জাহাজ এসেছে। একই সময়ে আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি।
মোংলা বন্দরের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য নাব্যতা বৃদ্ধিকে কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমানে জেটির সামনে ৭ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বার্থিং করতে সক্ষম। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তা ৯ দশমিক ৫ মিটারে উন্নীত করার কাজ চলছে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।
তিনি উল্লেখ করেন, পশুর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করা হলে জেটি পর্যন্ত ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আনা সম্ভব হবে। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভারতীয় এলওসি-৩-এর অর্থায়নে এই প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড ও ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে।
এছাড়া জাহাজ চলাচল ও জরুরি সেবা আরও শক্তিশালী করতে দুটি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বন্দর চেয়ারম্যান জানান, ব্যবহারকারীদের সেবা সহজতর করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে। পারমিশন, যন্ত্রপাতি বুকিং ও বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে। ই-পেপার সার্ভিসের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কনটেইনারবাহী জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ১ দশমিক ৮০ দিন এবং অন্যান্য জাহাজের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৪৪ দিন। ছয়টি কনটেইনার ইয়ার্ডে প্রায় ৬ হাজার টিইইউএস কনটেইনার এবং দুটি কার পার্কিং ইয়ার্ডে প্রায় ২ হাজার গাড়ি রাখার সুবিধা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কমান্ডার এস এম আফজালুল ইসলাম, পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ, হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য বন্দর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বৈধ অভিবাসনের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে শিগগিরই অভিবাসন সংক্রান্ত ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত এবং হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যে অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের সাথে যুক্ত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং কয়েকটি এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সরকারের আগামী ৫ বছরে ১ কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বিপুল জনশক্তি পাঠানো এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। একই সঙ্গে তিনি ইথিক্যাল মাইগ্রেশন, বৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করা এবং উচ্চ ব্যয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ থেকে যাতে কর্মীরা বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করবে ইইউ। তিনি বাংলাদেশে ‘ইউরোপিয়ান ট্রেইনিং ফাউন্ডেশন’ আনয়ন এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে ইইউর অব্যাহত সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে এক বাংলাদেশি বাবার মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের নাম মোহাম্মদ আবদুর রহিম, যিনি ৬২ বছর বয়সী ছিলেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে ঘটেছে। স্থানীয় সময় রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ওয়ার্নার অ্যাভিনিউ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আবদুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। গাড়ি চালানোর অনুশীলনের সময় মেয়ের চালানো গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাবাকে ধাক্কা দেয়। গাড়িটি তাকে কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুর রহিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর তার মেয়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার পেছনে মাদক বা অ্যালকোহলের কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওয়ারেন পুলিশের ট্রাফিক দুর্ঘটনা তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রহিমের বাড়ি ঢাকার ধানমন্ডিতে। তিনি প্রায় সাত বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন, এবং তার একমাত্র ছেলে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবদুর রহিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মিশিগানের বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর মতো একটি সাধারণ পারিবারিক মুহূর্ত যে এভাবে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শেষ হবে, তা কেউই ভাবেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ