প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মোংলা বন্দর পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটিতে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন কার্গো এবং ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নাব্যতা উন্নয়ন, দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) খুলনার খালিশপুরের পোর্ট অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন। আগের অর্থবছরের তুলনায় কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বৃদ্ধি ঘটেছে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টন বা ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার টিইইউএস। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস। এক বছরে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বা ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
বন্দর ব্যবহারের বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে জাহাজ ও গাড়ি আমদানিতেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত অর্থবছরে মোংলা বন্দরে ৮১৫টি জাহাজ এসেছে। একই সময়ে আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি।
মোংলা বন্দরের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য নাব্যতা বৃদ্ধিকে কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমানে জেটির সামনে ৭ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বার্থিং করতে সক্ষম। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তা ৯ দশমিক ৫ মিটারে উন্নীত করার কাজ চলছে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।
তিনি উল্লেখ করেন, পশুর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করা হলে জেটি পর্যন্ত ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আনা সম্ভব হবে। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভারতীয় এলওসি-৩-এর অর্থায়নে এই প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড ও ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে।
এছাড়া জাহাজ চলাচল ও জরুরি সেবা আরও শক্তিশালী করতে দুটি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বন্দর চেয়ারম্যান জানান, ব্যবহারকারীদের সেবা সহজতর করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে। পারমিশন, যন্ত্রপাতি বুকিং ও বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে। ই-পেপার সার্ভিসের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কনটেইনারবাহী জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ১ দশমিক ৮০ দিন এবং অন্যান্য জাহাজের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৪৪ দিন। ছয়টি কনটেইনার ইয়ার্ডে প্রায় ৬ হাজার টিইইউএস কনটেইনার এবং দুটি কার পার্কিং ইয়ার্ডে প্রায় ২ হাজার গাড়ি রাখার সুবিধা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কমান্ডার এস এম আফজালুল ইসলাম, পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ, হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য বন্দর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন