০৯:৫৩ পি.এম
এক হাত ও এক পা অচল অবস্থায় থাকা ইশরাক হোসেন, যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে মোকাবিলা করে আসছিলেন বরিশালের এলাকার বাসিন্দা।
তিনি তার মায়ের একমাত্র সন্তান। যখন তার মায়ের চিকিৎসার খরচ ও সংসারের ব্যয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়, তখন বরিশাল সিটি করপোরেশন মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইশরাক হোসেনকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখায় চাকরি দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। ইশরাককে জনসংযোগ দপ্তরে সহকারী হিসেবে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণে মামলা গ্রেপ্তার নেই
ইশরাক নগরীর কলেজ এভিনিউ এলাকার শওকত হোসেনের ছেলে। অসুস্থতার কারণে তার ডান হাত ও ডান পা অকেজো হয়ে গেছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তিনি এক হাতে কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষ।
ইশরাকের মা জানান যে, তার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। সংসারে একমাত্র সন্তান ইশরাককে নিয়ে তার জীবন কাটছে। ছেলের একদিকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিল। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি।
তরুণ ইশরাকের চাকরির আশায় তার মায়ের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। মানবিকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসক তাকে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে আমার ডান হাত ও ডান পা অকেজো। তারপরও কাজ করার ইচ্ছা ছিল। এখন সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখায় সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এতে আমি এবং আমার মা অনেক উপকৃত হব।’
আরও পড়ুন: বান্দরবানে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, কয়েক দিন ধরে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী তার শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে অফিস কক্ষে দাঁড়িয়ে থাকতেন। বিষয়টি জানার পর, ওই নারী তাদের অসহায়ত্বের কথা জানান।
পরে মানবিক দিক বিবেচনা করে ইশরাকের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসক বলেন, ‘ইশরাক এক হাতে ভালোভাবে কম্পিউটার পরিচালনা করতে পারে। তাই তার সক্ষমতা বিবেচনা করে তাকে জনসংযোগ দপ্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে ইশরাকের চোখেমুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়ের পর কাজের সুযোগ পাওয়ায় তিনি নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তার মা-ও যেন ফিরে পেয়েছেন ভরসার জায়গা—অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে আর শুধু অসহায় হয়ে থাকতে হবে না, এবার নিজের যোগ্যতায় ইশরাকও দাঁড়াতে পারবেন।
আরও পড়ুন: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে আছে সরকার, ‘সংখ্যালঘু’ বলতে কোনো শব্দ নেই: প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর এমপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন