০৯:৫৬ পি.এম
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাত এক নজিরবিহীন এবং বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উভয় দেশই একে অপরের ওপর স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এই হামলার ফলে দুই দেশের সাধারণ বেসামরিক নাগরিক এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ইউক্রেন, চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা রাশিয়ার ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চালিয়েছে। এই হামলার জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ওপর ভরসা করে সুরক্ষা মিলছে না: কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি সউদী আরব
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে অন্তত ১৭টি অঞ্চল লক্ষ্য করে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন হামলা সম্পন্ন করেছে।
রুশ প্রশাসনের দাবির ভিত্তিতে জানা যায়, ইউক্রেনের ৮২২টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়া। এর মধ্যে মস্কো অঞ্চলকে নিশানা করেই প্রায় ৬০০ ড্রোন হামলা হয়েছে।
মস্কোর কাছাকাছি পোডলস্ক এলাকায় রাশিয়ার সর্ববৃহৎ ই-কমার্স জায়ান্ট ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। আড়াই লাখ বর্গমিটারের বিশাল এই স্থাপনাটিতে ভয়াবহ আগুন ধরিয়া যায়।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাশিয়া এই বাণিজ্যিক গুদামগুলোকে সামরিক রসদ সরবরাহের কাজে ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজের ১০টি প্রধান লজিস্টিক কেন্দ্রের মধ্যে ৭টিকে তারা অচল করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইশরাকের মতো ত্যাগীদের পদত্যাগ হলে হাইব্রিডরা বিএনপির ক্ষতি করলেও টু শব্দ হয় না: জুমা
ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চল এবং মস্কোসহ নানা স্থানে ইউক্রেনীয় হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মস্কো অঞ্চলে ৮৩ বছর বয়সী বৃদ্ধ এবং বেলগোরোদের একটি বেসামরিক বাসে হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায়, রুশ বাহিনীও ইউক্রেনের বেসামরিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েকশ ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে রাতভর হামলা চালিয়েছে।
ক্রিভি রিহরে, অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত উৎপাদন কারখানা ‘আর্সেলরমিত্তালে’ রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে ২ জন নিহত এবং ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এই কারখানাটি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর।
কিয়েভে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় চার বার বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। রুশ হামলার ফলে কিয়েভের ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় ‘পোচাইন’ বইয়ের বাজারটি আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। এতে বহু দুর্লভ বই এবং ভিনাইল রেকর্ড ধ্বংস হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ২০২৩ সালে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
এছাড়া, ওডেসা অঞ্চলের দানিয়ুব নদী সংলগ্ন বন্দরের অবকাঠামোতেও রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
রাশিয়ার এই সর্বশেষ হামলায় ইউক্রেনজুড়ে অন্তত ৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫১ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই এখন স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি আকাশযুদ্ধকে মূল কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা একে অপরের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন