১১:৪৩ এম
হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট মঙ্গলবার দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান আন্দ্রাস বাকারাকে নির্বাচিত করেছে। তার এই নির্বাচনকে দেশটির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পরিবর্তন হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
এর কারণ হলো, নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান দীর্ঘদিনের ক্ষমতার প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন।
বাকা মূলত আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাসম্পন্ন প্রেসিডেন্ট পদে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী তিসা পার্টির ভোটে নির্বাচিত হন। উল্লেখযোগ্য হলো, বিরোধী ফিদেস পার্টির সংসদ সদস্যরা ভোটে অংশ নেননি। শপথ গ্রহণের পর দেওয়া বক্তব্যে বাকা আগের সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: স্পেনে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে
তিনি বলেছেন, অরবানের শাসনামলে একটি দল রাষ্ট্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষমতার শাখার মধ্যে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ছিল না। একইসঙ্গে, ক্ষমতার ভারসাম্য ও একে অপরকে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও কার্যকর ছিল না।
তবে নতুন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, হাঙ্গেরির জন্য নতুন ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হলে ন্যায়বিচারের পাশাপাশি আত্মসংযমও অত্যন্ত প্রয়োজন।
তার মতে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হলো দেশের সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করা, এমনকি যারা তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন তাদেরও। বাকা বলেছেন, নতুন হাঙ্গেরি কোনোভাবেই প্রতিশোধের ভিত্তিতে গড়ে তোলা যাবে না। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রতিশোধ নেওয়ার পথে না গিয়ে ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।
এপ্রিলের নির্বাচনে পেতের মাগিয়ারের জয় ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। ক্ষমতা নিয়েই মাগিয়ার হাঙ্গেরিতে গণতান্ত্রিক মানদণ্ড ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।
আরও পড়ুন: শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল
একই সঙ্গে, অরবানের দল ফিদেসের মাধ্যমে নিয়োগ বা নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করার আহ্বান জানান তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট তামাশ শুইয়ককে পদ থেকে সরানোও মাগিয়ারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল। মাগিয়ার তাকে অরবানের ‘পুতুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। গত মাসে শুইয়ক তিসা পার্টির পাস করা একটি সংবিধান সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেন। এর পরই তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হয়।
নতুন সংবিধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দ্রাস বাকা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী, এই মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হতে পারবে। এদিকে, বিরোধী ফিদেস পার্টির সংসদ সদস্যরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটে অংশ নেননি। ভোটের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটি অভিযোগ করেছে, তিসা পার্টি ‘ইচ্ছামতো এবং বেআইনিভাবে’ শুইয়ের মেয়াদ শেষ করেছে। দলটি ক্ষমতাসীন তিসা সরকারকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও অভিযোগ করেছে। এর আগে ফিদেস মাগিয়ারের সরকারকেও কর্তৃত্ববাদী বলে অভিযোগ করেছিল। তবে তিসা পার্টি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন