০৭:৩৮ পি.এম
নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি চাকরিজীবীরা অক্টোবর মাসের বেতনসহ প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার অর্থ পাবেন। তবে প্রত্যেকের বকেয়ার পরিমাণ একরকম হবে না। এটি নির্ভর করবে গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন কাঠামোতে নির্ধারিত মূল বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখের ওপর।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ কার্যক্রম আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। চাকরিজীবীদের পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্ম তারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও যাচাই করতে হবে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে হাঙরের আক্রমণে ৬৫ বছরের নারীর মৃত্যু
যদি চাকরিজীবীরা পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট তথ্যও প্রদান করতে হবে। এসব তথ্যের সমর্থনে অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এসব তথ্য সঠিক না থাকে, তাহলে নতুন বেতন ও বকেয়া পাওনার হিসাব সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে না। ভুল তথ্যে হিসাবের গরমিল হতে পারে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নতুন কাঠামোর আওতায় কার মূল বেতন কত হবে, তা বেতন নির্ধারণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের কাছে এ প্রক্রিয়া পে ফিক্সেশন হিসেবে পরিচিত। নতুন ও আগের বেতনের পার্থক্য এবং কার্যকর তারিখের ভিত্তিতে বকেয়া হিসাব করতে হবে।
বর্তমান বিএনপি সরকার গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে মূল বেতন ছিল, তার ভিত্তিতে নতুন কাঠামোতে বেতন নির্ধারণ করা হবে। নতুন ও পুরনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রদান করা হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।
ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। চলতি অর্থবছরে দুই দফায় মূল বেতনের ৭০ শতাংশ দেওয়ার জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।
বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের ‘সেবা দেওয়া সক্ষম করতে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি’র (এসপিএফএমএস) আওতায় আইবাস প্লাস প্লাস এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (সিএএফও), বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (ডিএএফও) এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তা (ইউএও) কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া আইনপ্রণেতার ওপর হামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন