রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৪ পি.এম
পেপারবিহীন, আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংসদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি এবং কমিটির সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও এ বি এম মোশাররফ হোসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষার সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে সংসদীয় নথি ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংরক্ষণ এবং আদান-প্রদান আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর হবে।
ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডেপুটি স্পিকারকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি গঠনের জন্য স্পিকার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই কমিটি প্রস্তাবিত সিস্টেমের কাঠামো, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
সাক্ষাৎকালে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেমের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনের জন্যও স্পিকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এই প্রেজেন্টেশনে প্রস্তাবিত সিস্টেমের কার্যপদ্ধতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হবে।
এসময় উল্লেখ করা হয়, ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। এই ব্যবস্থা চালু হলে সংসদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও নথি ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। ফলে কাগজের ব্যবহার কমে যাবে এবং সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় সাশ্রয় হবে, পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে গতি, দক্ষতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ইউএনডিপি, দাতা দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করা হবে। পেপারবিহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর সংসদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি ওয়ার্ডে রফিক আহমদ ফাউন্ডেশন ও ‘টিম জার্নালিস্ট কুলাউড়া’র যৌথ উদ্যোগে ১০টি ব্যাকআপ লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ‘টিম জার্নালিস্ট কুলাউড়া’র সদস্যরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে পুরুষ ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড এবং হাম-রুবেলা আইসোলেশন সেন্টারে এসব লাইট স্থাপন করেন। লাইটগুলোতে বিদ্যুৎ চলে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠার সুবিধা রয়েছে।
রফিক আহমদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কানাডাপ্রবাসী আহমেদ রিপনের অর্থায়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’-এর কুলাউড়া প্রতিনিধি ও ‘টিম জার্নালিস্ট’-এর সদস্য মোহাম্মদ আলী শোভন পেটের ব্যথা নিয়ে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তাকে দেখতে গিয়ে টিমের সদস্যরা হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড ও হাম-রুবেলা আইসোলেশন সেন্টারে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকার হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পান।
বিষয়টি নজরে আসার পর ‘টিম জার্নালিস্ট’-এর উপদেষ্টা ও ‘রাশিদ আলী ফাউন্ডেশন’-এর বাংলাদেশ পরিচালক মোক্তাদির হোসেন হাসপাতালের ওই তিনটি স্থানে দ্রুত ব্যাকআপ লাইট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সদস্যদের নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দিনের মধ্যে ১০টি ব্যাকআপ লাইট স্থাপন করা হয়।
লাইট স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন ‘টিম জার্নালিস্ট’-এর উপদেষ্টা ও ‘রাশিদ আলী ফাউন্ডেশন’-এর বাংলাদেশ পরিচালক মোক্তাদির হোসেন, ‘দৈনিক ভোরের পাতা’র প্রতিনিধি রুবেল বখখ পাভেল, ‘দৈনিক আমাদের নতুন সময়’-এর প্রতিনিধি সামসু উদ্দিন বাবু, ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’-এর মাল্টিমিডিয়া জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ মিছবাহ উল রায়হান, ‘দৈনিক জনবাণী’র প্রতিনিধি জামাল হোসেন তারেক, ‘দৈনিক বাংলার জাগরণ’-এর প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম, ‘দৈনিক জনতা’র প্রতিনিধি কামরুজ্জামান জুয়েল, ‘নাগরিক টিভি’র প্রতিনিধি মাহফুজর রহমান মাহি, ‘কুলাউড়া টোয়েন্টিফোর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. রেজাউল ইসলাম শাফি এবং ‘দৈনিক আজকের জনবাণী’র প্রতিনিধি আহমেদ আক্তার রানাসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ কমাতে ব্যাকআপ লাইট স্থাপনের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। এতে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতি লিটারে কম তেল দেওয়ার অভিযোগে মেসার্স আরেফিস ট্রেডার্সকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার সময় সদর উপজেলার ভাদুঘর মোল্লাবাড়ি মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানটি পরিচালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী।
তিনি উল্লেখ করেন, মেসার্স আরেফিস ট্রেডার্সে পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের প্রতি লিটারে কম তেল দিচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় প্রতি পাঁচ লিটার তেলে ২০০ মিলিলিটার করে কম দেওয়ার সত্যতা প্রমাণিত হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুসলিম আহমেদ শাহেদকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া, তাকে এ ধরনের অনিয়ম সংশোধনের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিদর্শনের সময় দুটি বিদ্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখে হতবাক হন।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা ভারপ্রাপ্ত অফিসার আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ ১১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছেন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। বিদ্যালয় দুটি হলো টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের হরিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লাতুরি খোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হলেন আলী আকবর সাজ্জাদ ও নাসিমা আক্তার।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমত স্কুলে আসা-যাওয়া করেন এবং দুপুরের পর কিছু কিছু স্কুলে ক্লাস না করিয়ে ছুটি দিয়ে দেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের হরিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লাতুরি খোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করে ইউএনও সত্যতা পান এবং দুই স্কুলে তালা ঝুলতে দেখে বিস্মিত হন। ইউএনও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং সশরীরে ইউএনও অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২:৩০ টায় ইউএনও সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, কর্মচারী এবং কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি এবং সব শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ ছিল।
এটি সরকারি বিধি ভঙ্গের শামিল। কর্তব্যে অবহেলার কারণে কেন আপনার এবং আপনার অধীনস্থ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, তার কারণ আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এস.এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি তারা যুক্তিযুক্তভাবে জবাব না দিতে পারেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘অনেক সময় শিক্ষকরা নিয়ম না মেনে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন এবং দুপুরের পর ছুটি দিয়ে চলে যান-এমন অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ইউএনও সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
১১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এখন থেকে সবাই নিয়ম মেনে চলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পৃথক ঘটনায় তিন কারাবন্দীর মৃত্যু ঘটেছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আনার পর তাদের মৃত্যু হয়।
মৃত্যুবরণকারী তিনজন হলেন— হাজতি আবুল বাশার (৫৮), হাজতি আবদুল কাইয়ুম (৬২) ও কয়েদি শাহাদাত হোসেন লিটন (৪৮)।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান তিন কারাবন্দীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে অসুস্থ অবস্থায় আবুল বাশারকে কারারক্ষী শহিদসহ কয়েকজন রবিবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আবুল বাশার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাজতি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সেকান্দার আলীর ছেলে।
অন্যদিকে, সকাল ৯টা ৫ মিনিটে অসুস্থ অবস্থায় আবদুল কাইয়ুমকে কারারক্ষী হেমায়েত হোসেনসহ কয়েকজন ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কাইয়ুম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুদু মিয়ার ছেলে।
এ ছাড়া কয়েদি শাহাদাত হোসেন লিটন ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে মারা যান। অসুস্থ হয়ে গত ২৮ আগস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শাহাদাত খুলনার দৌলতপুর থানার পাবলা গ্রামের মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ