০৩:৪০ পি.এম
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান একটি রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ফ্যাসিবাদ দেশে পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং কেউ যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়।" যারা অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে চোখ বন্ধ করে রয়েছেন, তাদের চোখ খুলতে হবে। দেশ গড়ার কাজে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী দেশের মানুষের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "দেশের অধিকাংশ মানুষের চোখে আলো আছে।" কিন্তু যাদের এই দেশ গঠন করার কথা, মানবিক মূল্যবোধের কথা বলার কথা, তাদের মধ্যে অনেকেই মানুষের অধিকার দেখতে পাচ্ছেন না। তারা আত্মকেন্দ্রিকতায় ভুগছেন।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
তিনি আরও বলেন, "অনুষ্ঠানে আসা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যেকের মুখের দিকে তাকালে তাদের মধ্যে সততা ও মানবিকতার ছাপ দেখা যায়।" অথচ সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাদের চোখে আলো আছে, কিন্তু তারা মানুষের অধিকার ও অন্যায় দেখতে পান না।
আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, "জুলাই বিপ্লবের সময় ২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায় হত্যা করা হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৩০০ মানুষ হাত হারিয়েছেন, কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ মাথা হারিয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "তার মাথার একটি অংশ নেই।" এসব ঘটনার পরও চোখে আলো থাকা অনেক মানুষ এখনো বলছেন, "কিছুই হয়নি।"
আইনমন্ত্রী বলেন, "মানুষের মতো মুখ আছে, কিন্তু মানুষের মুখোশ পরে রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।" কারও ভাই, কারও বোন, কারও মা, কারও স্বামী এখনো নিখোঁজ। অথচ তাদের চোখে আলো রয়েছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন যারা, তাদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "আপনারা যে যেখানে থাকুন, চোখ খুলুন।" তিনি বলেন, "আমরা যদি অপরাধ করি, আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন।" নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি আপনাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
আইনমন্ত্রী বলেন, "প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ একদিন আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে উঠবে।" তিনি সবাইকে বিবেকের জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, "দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে। তবে সেই ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।" জন্মভূমির প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, "জননী এবং জন্মভূমির থেকে আপন কিছু নয়।" কখনো কখনো জন্মভূমি জননীর থেকেও বড় হয়ে দাঁড়ায়।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "এমন একটি বাংলাদেশের পথে হাঁটতে হবে, যেখানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে।" ফ্যাসিবাদ যেন আবার পুনর্বাসিত না হয় এবং আমরাও যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি, সে জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তিনি বলেন, "শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়।" যারা ফ্যাসিস্টদের খুন-খারাপি দেখছেন না, তাদের বলব, "আপনারা চোখ খুলুন। আল্লাহ প্রদত্ত দুটি চোখ খুলুন।" তা যদি না পারেন, অন্তর চক্ষু খুলুন। তাহলে দেখতে পাবেন।
আইনমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আসুন, একসঙ্গে হাঁটি, একসঙ্গে চলি।" দেশ গড়ার কাজে আমরা মনোনিবেশ করি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সিলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন