০৮:৫৮ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের উত্তর কুট্রাপাড়া (খুরশেদ ভবনের) ৩ এনজিও অফিসে ঘটে যাওয়া ডাকাতির মামলার প্রধান আসামী পেশাদার ডাকাত গাফ্ফার (৩৫) বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। গত ২৪ আগস্ট সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় সরাইল থানার এস আই রাজিব বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল গাফ্ফারকে গ্রেপ্তার করে। গাফ্ফার সদর উপজেলার খাঁটিহাতা গ্রামের কাদির মিয়ার পুত্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ডাকাতির ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে। পুলিশ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। গাফ্ফারের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল, ঢাকাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও দস্যুতার একাধিক মামলা রয়েছে। তবে তার একাধিক আত্মীয় এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, প্রকৃত অপরাধীরা যেন পার পেয়ে না যায়।
পুলিশ, মামলা ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার গভীর রাতে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন সরাইল সদরের কুট্রাপাড়া এলাকায় সামছুদ্দিন মিয়ার বহুতল ভবনের (খুরশেদ ভবন) প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলায় ৩টি এনজিও অফিসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা সংঘবদ্ধ ডাকাতদল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ওই অফিস থেকে নগদ ৫ লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন কর্মকর্তারা। বাঁধা দেওয়ায় রাব্বি মিয়া নামের এক হিসাব রক্ষককে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে ডাকাতরা। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রাব্বি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। গার্কের ফিল্ড অফিসার স্বপন রাজবংশী, সারোয়ার ও এরিয়া ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, "তালা কাটার শব্দে ঘুম থেকে উঠেছি। ডাকাতরা প্রথমেই বাহিরের দিকে আমাদের দরজার চিটকারি লাগিয়ে দিয়েছে। চিৎকার করছি কেউ খুলেনি। ভোর বেলা কাজের বোয়া এসে খুলে দিয়েছেন।" ডাকাতরা সিসি টিভির রেকর্ড বক্সটি নিয়ে গেছে। তবে আমাদের দক্ষিণ পাশের ভবনে সিসি টিভি আছে। এত বড় ভবনে কোন সিকিউরিটি গার্ডও নেই। পরের দিন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরাইল থানার পুলিশ। উপজেলা সদরে হাইওয়ে থানা ও সরাইল থানার নিকটবর্তী স্থানে মহাসড়ক ঘেঁষা ভবনে এমন দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ লোকজন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এমন জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত, গ্রেপ্তার এবং বিচার দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। আহত রাব্বি মিয়া পুলিশকে জানায়, মুখোশ পরা ডাকাতরা ডাকাতি ও তাকে মারধর করার সময় হঠাৎ একজনের মুখোশ খুলে যায়। এ সময় দেখা ওই ডাকাতের শরীরের গঠন, রং, মুখের অবয়ব, মাথা ও চুলের অবস্থাসহ অন্যান্য সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা দেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদেরের নেতৃত্বে পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় আসে দুই ব্যক্তি। তাদের একজন খাঁটিহাতা গ্রামের প্রয়াত কাদির মিয়ার ছেলে গাফ্ফার। গত ২৩ আগস্ট রোববার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার খাঁটিহাতা গ্রামে অভিযান চালান সরাইল থানার এস আই রাজিব বড়ুয়া। অভিযানকালে তিনি ডাকাত গাফ্ফারকে আটক করার সময় তার স্বজন ও এলাকাবাসী পুলিশের উপর চড়াও হয়। তারা ধস্তাধস্তি করে পুলিশের কাছ থেকে গাফ্ফারকে ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করে। পরে স্থানীয় ও জেলার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সমঝোতা ঘটনার নিস্পত্তি হয়। পরের দিন জেলা শহর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর মডেল থানার সহায়তায় সরাইল থানার পুলিশ ডাকাত গাফ্ফারকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গাফ্ফারের অপকর্মের শিকর অনেক গভীরে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও দস্যুতার অভিযোগে ঢাকায় ১টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় ৩টি ও সরাইল থানায় ১টি সহ মোট ৫টি মামলা রয়েছে। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের বলেন, "প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এনজিও অফিসে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা শিকার করেছে। বিস্তারিত জানতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাই আমরা আদালতের কাছে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছি। আগামী রোববার ওই আবেদনের শুনানি হতে পারে।"
আরও পড়ুন: নাগেশ্বরীতে ১,১৭০ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেফতার
যেভাবে দূর্ধর্ষ ডাকাত গাফ্ফার:
বিশ্বরোড মোড়ের পাশের খাঁটিহাতা গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করা গাফ্ফার বেড়ে উঠেছে নানা অপকর্ম ও অপরাধীদের মাঝে। জীবনের প্রয়োজনে গাফ্ফার এক সময় চলে যায় প্রবাসে। কিছুদিন পরই আবার ফিরে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও সরাইলের সীমানায় বিশ্বরোড মোড় ঘেঁষেই তাদের বসবাস। এ মোড়টি রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলার ট্রানজিট পয়েন্ট। ব্যস্ততম এই মোড়ে মাদকসেবন ও ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, ফুটপাতের দোকানে চাঁদাবাজি, সড়কে যানবাহনে চাঁদাবাজি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে অহরহ। দেখতে দেখতে এক সময় গাফ্ফারের বন্ধু মহলের আকার বৃদ্ধি পায়। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে গাফ্ফার। সকাল দুপুর রাত শুধু টাকার সন্ধান করতে থাকে। মা বাবা শেষ করে সড়কের পাশের ফুটপাতের ব্যবসায়িদের কাছ থেকে দৈনিক চাঁদার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মাদক ও জুয়ার ছোবলে গাফ্ফারের জীবন এলোমেলো হয়ে যায়। টাকার জন্য উশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। জড়িয়ে পড়ে চুরি ছিনতাই আর ডাকাতির মত ঘটনায়। পরবর্তীতে তার অপরাধের শিকর শাখা প্রশাখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার রয়েছে বিশাল এক সিন্ডিকেট। গাফ্ফারের নাম শুনলেই চমকে উঠেন বিশ্বরোড মোড়ের ব্যবসায়ি ও যান চালকরা। পুলিশের দেয়া তথ্য মতে গাফ্ফারের ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরাই এনজিও অফিসে দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন