শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৫ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাকলা বিলে এক লাখ মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের কাছাইট পূর্বপাড়া কবরস্থান ঘাটসংলগ্ন শাকলা বিলে এ পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। এ সময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার, সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী কাউছার আহমেদ, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শাকলা বিলের নিকটবর্তী একটি নার্সারি পুকুরে প্রায় চার মাস আগে এক কেজি রুইজাতীয় মাছের রেণু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই রেণু থেকে উৎপাদিত এক লাখ মাছের পোনা শাকলা বিলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পিরোলীতে মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি রোগী নির্বাচন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিরোলী খানকাহপাড়া সবুজ সংঘের আয়োজনে এবং যশোরের আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পিরোলী খানকাহ শরীফ মাঠে এই ক্যাম্পের কার্যক্রম চলে। এতে মোট ২৪৫ জন রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা শেষে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চোখের ছানীজনিত ৪৫ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসা ও বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত রোগীদের যশোরের আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোগীদের যাতায়াত, অস্ত্রোপচার এবং সার্বিক সহযোগিতার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করছে আয়োজক সংগঠন খানকাহপাড়া সবুজ সংঘ।
ক্যাম্পের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শাহ্ মোহাম্মদ এনায়েত কবির কাজল। পরে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো: মাহমুদুল হক আবু জাফর। এসময় উপস্থিত ছিলেন আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ রবিউল আলম, সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আলতাফ উদ্দিন, কালিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম মোর্শেদ শেখ, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আলফাজ শেখ, বাদশাহ শেখ, আদনান খানসহ সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ ধরণের মানবিক কার্যক্রমে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা দূর-দূরান্তের উপকারভোগীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, আর্থিক সংকটের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে চোখের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বাড়ির কাছেই এমন বিনামূল্যে উন্নত পরীক্ষা এবং বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের সুযোগ পেয়ে তারা আয়োজক সংগঠন ও আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। খানকাহপাড়া সবুজ সংঘের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান বাপ্পী বলেন, "গ্রামের অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের আলো ফেরাতেই আমাদের এই মানবিক উদ্যোগ। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা এম. সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে আজ এম. সাইফুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
পরে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
এ সময় এম. সাইফুর রহমানের ছেলে এম. নাসের রহমান এমপি, সিলেট জেলা বিএনপি এবং মৌলভীবাজারের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, এম. সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে আজ বাদ মাগরিব হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া মাহফিলে এম. সাইফুর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেন, এম. সাইফুর রহমানের মতো নেতার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পথ আমরা অতিক্রম করেছি, সেই সময়ে তিনি ছিলেন আমাদের জন্য একজন অভিভাবকতুল্য নেতা।
সিসিক প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ সময় সিলেটের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এখন দেশের মানুষ নতুন করে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সিলেটের মানুষ বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছেন। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সিলেটের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। আমরা যারা রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছি, আমাদের প্রত্যেকের লক্ষ্য হওয়া উচিত সিলেটের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নেওয়া।
দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দীন লস্কর, কামরুল হাসান শাহিন, আহমেদুর রহমান চৌধুরী মিলু, জিল্লুর রহমান সোয়েব, কোহিনুর আহমদ, শাকিল মোর্শেদ, অ্যাডভোকেট আল আসলাম মুমিন, লোকমান আহমদ, সালিক আহমদ, মনিরুল ইসলাম তোরন, সোলেমান আহমদ, শওকত মিয়া, শাহিন আলম জয়, আতাউর রহমান কাচা, সেলিম আহমদ, সাহেদ আহমদ, মিজানুর রহমান বেলাল, মোস্তাক আহমদ মোস্তাক, মাহবুব আলম, জাহেদূর রহমান, মুক্তার আহমদ, জুনেদ আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দর্শক সারিতে বসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।
এর আগে, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান ধারণ করে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও আমন্ত্রিত গুণীজনেরা আলোচনায় অংশ নেন।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সভাটি পরিচালনা করেন।
পরে জাসাসের উদ্যোগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।
সংগীত পরিচালক ও গীতিকার ইথুন বাবুর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী সাজ্জাদ হুসাইন পলাশ, মৌসুমী চৌধুরী, পরান আহসান, আকলিমা মুক্তা, গামছা পলাশ, শেহমান, আব্দুর রউফ, রোদসী, সানি, সাদমান পাপ্পু, শাহিনুর, রাফিজা আলমসহ আরও অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি বাহিনী এবং ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৯ জনে পৌঁছেছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলোর দখল নিয়ে এই তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা এবং মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে।
সামরিক ও চিকিৎসাসূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে অন্তত ৬৬ জন সরকারি সেনা এবং ৬২ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া, সংঘাতে একজন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে।
হুথিরা রকেট এবং ড্রোন হামলার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ধরনের স্থল আক্রমণ চালালে, ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা আল-জারাফির দক্ষিণ দিক থেকে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে হাইস জেলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে এবং তাইজ প্রদেশের হাইফান জেলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উচ্চভূমি নিজেদের দখলে নিয়েছে। এর পাশাপাশি, তাইজ ও হুদাইদার পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান, জমায়েত ও গাড়িবহর লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমানগুলো অন্তত পনেরোটিরও বেশি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে।
এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযোগকারী সংকীর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালী, যা এশিয়া, ইউরোপ এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যকার প্রধান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ।
মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের চালান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য এই লোহিত সাগর রুটটির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। হুথিরা মূলত মখা বন্দর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশের উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা সফল হলে তারা এই জলসীমায় চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে সহজে হামলা চালাতে সক্ষম হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এডেন থেকে তাইজে প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমী কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, হুথিদের এই অগ্রসর হওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা তাদের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ও কঠোর যুদ্ধে পরিণত হবে।
২০২২ সালের একটি ভঙ্গুর চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শান্ত থাকা এই সংঘাতের পরিবেশ গত জুলাই মাসে নতুন করে চরম অবনতির দিকে মোড় নেয়। সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণ এবং পরবর্তীতে সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার মাধ্যমে সেই শান্তিচুক্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। এর পাশাপাশি, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ধারাবাহিক বিঘ্ন ঘটিয়ে আসছিল হুথি বিদ্রোহীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ