বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫৪ এম
বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আবু রায়হানকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রিয়াদ ইসলাম কিরনকে পুলিশ আটক করেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শহরের চারমাথা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, চারমাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই স্কুলছাত্রকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে শিক্ষক আবু রায়হানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষক ক্লাসে অতিরিক্ত দুষ্টুমি করার কারণে রিয়াদকে সতর্ক করেছিলেন। পাশাপাশি তার অভিভাবককে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার জন্যও বলেছিলেন। এর জের ধরে ওই ছাত্র শিক্ষকের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
লাঠির আঘাতে আবু রায়হানের থুতনি কেটে যায় এবং সেখানে আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। তার ঘাড়েও গুরুতর জখম হয়েছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ছাত্রকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র (টিসি) দিয়ে বহিষ্কার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ঈশ্বরদীতে আলোচিত দাদি হত্যার পাশাপাশি নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলার বিচারকাজ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এই মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত এখন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আলামত ও প্রমাণ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত সূত্রে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত সুফিয়া খাতুনকে হত্যার পর তাঁর নাতনি জামিলা আক্তার সেতুকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দাখিল করা অভিযোগপত্রে ৩১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে মোট ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রমাণ গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষে মামলার চূড়ান্ত রায়ের দিকে আদালত অগ্রসর হবে।
এর আগে, ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) মধ্যরাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন সন্দেহভাজন শরিফুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে এককভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় ১ মার্চ রাত ১২টার দিকে নিহত সুফিয়া খাতুনের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শাই হোপের ৫০ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৭ রানের একটি বড় সংগ্রহ গড়ে তুলেছিল। ভারতকে ২৪৮ রানের এই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে হলে বিস্ফোরক শুরু দরকার ছিল, যা স্যাঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে তারা পেয়ে যায়। কিন্তু কেমো পল শ্রেয়াস আইয়ারদের টুটি চেপে ধরেন।
পল ফাইফারের দেখা পান। ৪ ওভারে ৫ উইকেট নিতে তিনি ৪১ রান খরচ করেন, ফলে ভারত থামে ২২৩ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪ রানে জয়লাভ করে। এর ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ২-২ ব্যবধানে সমতায় এসে দাঁড়িয়েছে, একটি ম্যাচ হাতে রেখেই। ১৭ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর ম্যাচটি এখন অঘোষিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে।
হায়দরাবাদে স্যামসনের ঝড়ে ভারত ৩ ওভারেই বিনা উইকেটে ৫০ রান তুলে ফেলে। এরপর কেমো পল স্যামসন ও ইশান কিশানকে ফিরিয়ে ভারতের রানের গতি কমিয়ে দেন। অর্ধশতকের দেখা পাওয়া স্যামসন ২৩ বলে ৫৬ রান করেন। অভিষেক শর্মা ও আইয়ারদের কেউ আজ ভালো খেলতে পারেননি, তবে তিলক বার্মা ও নিতিশ কুমার রেড্ডি ভারতকে জয়ের দৌড়ে রাখেন।
বার্মা ৪৩ রান করে রোমারিও শেফার্ডের শিকার হন। ৪১ রানে নিতিশ কুমারকে আউট করেন পল। প্রিন্স যাদবের উইকেট নেওয়ার পর অক্ষর প্যাটেলকে দিয়ে তিনি ফাইফার পূরণ করেন।
১০২ রান করা হোপের এই সফরে এটি চতুর্থ সেঞ্চুরি। দুটি টি-টোয়েন্টিতে, এই ফরম্যাটে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা ৩ হলো। এর মাধ্যমে সেঞ্চুরির হিসাবে তিনি স্বদেশী ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে পেছনে ফেললেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ (বিশেষ জাতের গাঁজার ফুল প্রক্রিয়াজাত করে ‘কুশ’ হিসেবে বিক্রি হয়) ও ভারতীয় পাসপোর্টসহ অভিজিৎ দাস (৪০) নামের এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের নিচ তলায় আগমনী হলের গ্রীন চ্যানেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ঢাকা মেট্রো (উত্তর), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো: আবু সাঈদ মিয়া এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম বুধবার দুপুরে বিমানবন্দরের গ্রীন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে আসা ভারতীয় নাগরিক অভিজিৎকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষী এবং বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার সামনে তার ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করে কাপড়ের নিচে সুকৌশলে লুকানো ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া অভিজিৎ দাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তিনি মূলত বনগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের একজন সাধারণ কুলি।
তিনি আরও জানান, একটি আন্তর্জাতিক ও ত্রিদেশীয় মাদক চোরাচালান চক্র ভারতের নিম্নআয়ের মানুষদের ‘ভিসা ফ্রি’ সুবিধার সুযোগ নিয়ে কলকাতা থেকে ব্যাংককে নিয়ে যায়। এরপর তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের (যেমন: ভারতীয় শাড়ি) আড়ালে বিপুল পরিমাণ মাদক বাংলাদেশে চালান করা হয়। এই চক্রটি বাংলাদেশে কুশের এক নতুন বাজার তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। মূল পরিকল্পনানুযায়ী, বাংলাদেশে ২-৩ দিন অবস্থান করে মাদকের কিছু অংশ হস্তান্তর শেষে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার।
আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্মাণক্ষেত্রে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির লোভে দালালের হাতে সঞ্চয় ও ঋণের প্রায় ১০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশিরা। তাদের গন্তব্য ছিল রাশিয়া। কিন্তু মস্কো বিমানবন্দরে পা রাখার পর তাদের রঙিন স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয় তাদের। মাত্র ২১ দিনের সামরিক মহড়ার পর, কোনো ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি বা কৌশল ছাড়াই, তাদের ঠেলে দেয়া হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অন্ধকারে। তারা হয়ে ওঠে শত্রুপক্ষের ড্রোন ও কামানের গোলার সামনে এক একটি তাজা ‘হিউম্যান টোপ’ বা মানব-শিকার।
আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ জন নিরপরাধ বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটেছে। নবগঠিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি)-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই শিউরে ওঠার মতো তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যাটালিয়নের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহা. আসাদুজ্জামান এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের ৭ মে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ–এই তিন পাচারকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। নির্মাণকাজের কথা বলে পাঠানো হলেও সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেয়া হয়।
ডিআইজি আসাদুজ্জামান বলেন, “যাদের বাংলাদেশ থেকে নেয়া হয়েছে, তারা কেউ যুদ্ধ করার যোগ্য ছিলেন না। শারীরিক বা কৌশলগত–কোনো ধরনের প্রস্তুতিই তাদের ছিল না। আমাদের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, প্রতিপক্ষের অবস্থান ও দূরত্ব শনাক্ত করতে এদের একধরনের শিকার বা ‘টোপ’ হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রথম সারিতে পাঠানো হতো। ইউক্রেনীয় বাহিনী যখন তাদের ওপর ড্রোন হামলা চালাত, তখন সেই ড্রোনের গতিপথ ও উৎস দেখে শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত করত রুশ বাহিনী।”
এসআরবি জানায়, যুদ্ধের প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় ১৭ জন বাংলাদেশি ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় দেশে ফিরেছেন, দুজন চিকিৎসাধীন মস্কোর হাসপাতালে এবং বাকি ছয়জন এখনও যুদ্ধক্ষেত্রের অজানা স্থানে আটকা পড়ে আছেন।
মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে আসা আহত যুবক রাজনের বরাতে এই কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের স্প্লিন্টারে তার কোমর ভেঙে যায় এবং শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে পড়ে। ওই অবস্থাতেই জীবনের শেষ শক্তিতে বুকের ওপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার কাদা ও বরফের পথ হামাগুড়ি দিয়ে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান।
এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের অন্যতম মূল হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান (৫৫) ও তার সহযোগী আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে এসআরবি। ঘটনার সঙ্গে রাশিয়ার ইগর নামের এক ব্যক্তি এবং কিরগিজস্তানের জুলিয়া নামের এক নারী প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, পাবনা, ফরিদপুর ও গাজীপুরের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। স্বজনরা এখন প্রিয়জনের মরদেহটি অন্তত শেষবারের মতো দেখার আকুল আকুতি জানাচ্ছেন, কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। বিদেশে চাকরির নামে অর্থ লেনদেনের আগে এজেন্সির বৈধতা যাচাই করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ