বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫৫ এম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ (বিশেষ জাতের গাঁজার ফুল প্রক্রিয়াজাত করে ‘কুশ’ হিসেবে বিক্রি হয়) ও ভারতীয় পাসপোর্টসহ অভিজিৎ দাস (৪০) নামের এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের নিচ তলায় আগমনী হলের গ্রীন চ্যানেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ঢাকা মেট্রো (উত্তর), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো: আবু সাঈদ মিয়া এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম বুধবার দুপুরে বিমানবন্দরের গ্রীন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে আসা ভারতীয় নাগরিক অভিজিৎকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষী এবং বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার সামনে তার ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করে কাপড়ের নিচে সুকৌশলে লুকানো ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া অভিজিৎ দাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তিনি মূলত বনগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের একজন সাধারণ কুলি।
তিনি আরও জানান, একটি আন্তর্জাতিক ও ত্রিদেশীয় মাদক চোরাচালান চক্র ভারতের নিম্নআয়ের মানুষদের ‘ভিসা ফ্রি’ সুবিধার সুযোগ নিয়ে কলকাতা থেকে ব্যাংককে নিয়ে যায়। এরপর তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের (যেমন: ভারতীয় শাড়ি) আড়ালে বিপুল পরিমাণ মাদক বাংলাদেশে চালান করা হয়। এই চক্রটি বাংলাদেশে কুশের এক নতুন বাজার তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। মূল পরিকল্পনানুযায়ী, বাংলাদেশে ২-৩ দিন অবস্থান করে মাদকের কিছু অংশ হস্তান্তর শেষে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার।
আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্মাণক্ষেত্রে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির লোভে দালালের হাতে সঞ্চয় ও ঋণের প্রায় ১০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশিরা। তাদের গন্তব্য ছিল রাশিয়া। কিন্তু মস্কো বিমানবন্দরে পা রাখার পর তাদের রঙিন স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয় তাদের। মাত্র ২১ দিনের সামরিক মহড়ার পর, কোনো ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি বা কৌশল ছাড়াই, তাদের ঠেলে দেয়া হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অন্ধকারে। তারা হয়ে ওঠে শত্রুপক্ষের ড্রোন ও কামানের গোলার সামনে এক একটি তাজা ‘হিউম্যান টোপ’ বা মানব-শিকার।
আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ জন নিরপরাধ বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটেছে। নবগঠিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি)-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই শিউরে ওঠার মতো তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যাটালিয়নের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহা. আসাদুজ্জামান এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের ৭ মে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ–এই তিন পাচারকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। নির্মাণকাজের কথা বলে পাঠানো হলেও সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেয়া হয়।
ডিআইজি আসাদুজ্জামান বলেন, “যাদের বাংলাদেশ থেকে নেয়া হয়েছে, তারা কেউ যুদ্ধ করার যোগ্য ছিলেন না। শারীরিক বা কৌশলগত–কোনো ধরনের প্রস্তুতিই তাদের ছিল না। আমাদের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, প্রতিপক্ষের অবস্থান ও দূরত্ব শনাক্ত করতে এদের একধরনের শিকার বা ‘টোপ’ হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রথম সারিতে পাঠানো হতো। ইউক্রেনীয় বাহিনী যখন তাদের ওপর ড্রোন হামলা চালাত, তখন সেই ড্রোনের গতিপথ ও উৎস দেখে শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত করত রুশ বাহিনী।”
এসআরবি জানায়, যুদ্ধের প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় ১৭ জন বাংলাদেশি ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় দেশে ফিরেছেন, দুজন চিকিৎসাধীন মস্কোর হাসপাতালে এবং বাকি ছয়জন এখনও যুদ্ধক্ষেত্রের অজানা স্থানে আটকা পড়ে আছেন।
মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে আসা আহত যুবক রাজনের বরাতে এই কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের স্প্লিন্টারে তার কোমর ভেঙে যায় এবং শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে পড়ে। ওই অবস্থাতেই জীবনের শেষ শক্তিতে বুকের ওপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার কাদা ও বরফের পথ হামাগুড়ি দিয়ে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান।
এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের অন্যতম মূল হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান (৫৫) ও তার সহযোগী আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে এসআরবি। ঘটনার সঙ্গে রাশিয়ার ইগর নামের এক ব্যক্তি এবং কিরগিজস্তানের জুলিয়া নামের এক নারী প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, পাবনা, ফরিদপুর ও গাজীপুরের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। স্বজনরা এখন প্রিয়জনের মরদেহটি অন্তত শেষবারের মতো দেখার আকুল আকুতি জানাচ্ছেন, কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। বিদেশে চাকরির নামে অর্থ লেনদেনের আগে এজেন্সির বৈধতা যাচাই করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোস্টগার্ড সদস্য অ্যাডওয়ার্ড পুডনির বাংলাদেশে আসার ঘটনা ২০২৪ সালের আগে ঘটে। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী বেলা, ১৬ বছর বয়সী সন্তান আলবার্ট ও ছোট ছেলে রালফ। প্রায় দুই বছর ধরে তারা বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল, এখানে তৈরি করা নৌযানটির মাধ্যমে সাগরপথে নিজ দেশে ফিরে যাবেন।
কক্সবাজারের স্থানীয় কারিগরদের সহযোগিতায় প্রায় দুই বছরের প্রচেষ্টায় ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামের নৌযানটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে ব্যয় হয়েছিল এক কোটি টাকার বেশি।
কিন্তু গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের সোনাদিয়া চ্যানেলে বড় ঢেউ ও তীব্র স্রোতের কারণে নৌযানটি ডুবে যায়। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় অ্যাডওয়ার্ড, তার স্ত্রী বেলা ও ছোট ছেলে রালফ প্রাণে বেঁচে যান। তবে তাদের ১৬ বছর বয়সী সন্তান আলবার্ট নিখোঁজ হয় এবং ৩২ ঘণ্টা পর সমুদ্রের উপকূলে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর ১৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে আলবার্টের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে হোটেল শৈবালে অবস্থান করছিলেন পরিবারের বেঁচে যাওয়া সদস্যরা।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে তারা নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। বাবা, মা ও ছোট ছেলে ফিরলেও আলবার্ট আর ফিরছে না। তাদের স্বপ্নের নৌযান ‘আইল্যান্ড গার্ল’ এখন বাঁকখালী নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
অ্যাডওয়ার্ড ও তার পরিবারের বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ তৈরি করা হয়েছিল। কক্সবাজারের স্থানীয় কারিগরদের সহযোগিতায় নৌযানটি নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল।
স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদারুল ইসলাম রুবেল জানিয়েছেন, নৌযানটিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ফ্রিজ ও রান্নাঘরসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল। এটি ব্যক্তিগত অ্যাডভেঞ্চার ও সমুদ্রভ্রমণের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল। নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল এক কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা করা হয়।
স্থানীয় জেলে আবদুর রহমান জানান, দুটি কাঠের নৌযান জোড়া দিয়ে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ তৈরি করা হয়েছিল। তার মতে, বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌযানটির সংযোগস্থল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে একটি অংশ দ্রুত ডুবে যায়, এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য অংশটিও তলিয়ে যায়।
দীর্ঘদিন ধরে বাঁকখালী নদীতে নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটির বিপরীত পাশে নোঙর করা ছিল নৌযানটি। দুর্ঘটনার পর সেটি ডুবন্ত অবস্থায় সেখানেই পড়ে রয়েছে।
নৌকাডুবির কয়েক মাস আগে, ওই নৌযানে ঘুরতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের পরিবারটি। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল রাতে কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া চরে তাদের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতকারী। পরদিন ৯ এপ্রিল কোস্টগার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, অ্যাডওয়ার্ড পরিবারসহ সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালে পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঠের নৌযানে সমুদ্রযাত্রার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারা।
নিরাপত্তার ঝুঁকি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পরিবারটিকে এ ধরনের সমুদ্রযাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিল। ১ মার্চ তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনাও দেয়া হয়। তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করে তারা সোনাদিয়া চরে নৌযানসহ অবস্থান করছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
হামলার খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে।
নদীতে পড়ে আছে ‘আইল্যান্ড গার্ল’
বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে তৈরি করা ‘আইল্যান্ড গার্ল’ এখন বাঁকখালী নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর পরিবারের ১৬ বছর বয়সী আলবার্টের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে কক্সবাজারে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছিলেন, আলবার্টের মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে নিউজিল্যান্ডের দূতাবাস ও পরিবারের সম্মতি নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে কক্সবাজারে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
যাত্রাটি শুরু হয়েছিল চারজনের নিয়ে, কিন্তু শেষ হলো তিনজনের দেশে ফেরা এবং একজনের চিরবিদায়ে। হয়তো কোনো একদিন বাঁকখালী নদী থেকে উদ্ধার করা হবে ‘আইল্যান্ড গার্ল’। কিন্তু পরিবারের হারানো সন্তান আর ফিরবে না। একসঙ্গে বিশ্বভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার স্বপ্নটিও আর পূরণ হবে না।
হোটেল শৈবালে শেষ ৫০ দিন
নৌকাডুবির পর থেকে কক্সবাজারের হোটেল শৈবালে ছিলেন অ্যাডওয়ার্ড ও তার পরিবারের অন্য দুই সদস্য। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাদের থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে পুলিশ প্রশাসন।
বিদায়ের আগে হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সময় কাটান পরিবারের সদস্যরা। একসঙ্গে ছবি তোলেন তারা। দীর্ঘদিনের আন্তরিক সম্পর্কের স্মারক হিসেবে তাদের হাতে দেশীয় পণ্য উপহার হিসেবে তুলে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ।
পর্যটন করপোরেশনের হোটেল শৈবাল ও মোটেল লাবণীর ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ সময় সংবাদকে জানান, ২৫ আগস্ট নৌকাডুবির পর উদ্ধার হওয়া নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের জেলা প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় হোটেল শৈবালে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময়ে তাদের খাবার, আবাসন ও লন্ড্রি সেবাসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রায়হান উদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে অবস্থানের কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার পরও বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা নিয়ে তারা দেশে ফিরছেন বলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন তিনি।
বিদায় উপলক্ষে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও দেশীয় পণ্য তুলে ধরতে হোটেলের পক্ষ থেকে তাদের স্মারক উপহার দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
যেভাবে হলো ফেরা
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান জানান, নৌকাডুবির পর জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের থাকা-খাওয়া ও সার্বিক বিষয়ে পর্যটন করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করেছেন।
তিনি সময় সংবাদকে বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে ৯ অক্টোবর তাদের ফেরার কথা থাকলেও পাসপোর্ট, ভিসা ও বিমান টিকিটসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে। সব প্রক্রিয়া শেষে ১৪ অক্টোবর তাদের দেশে ফেরার দিন নির্ধারণ করা হয়।
তাসনীম জাহান আরও বলেন, দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা কাটিয়ে পরিবারের সদস্যরা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সেটিই জেলা প্রশাসনের প্রত্যাশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় জামায়াতে ইসলামীর দুইপক্ষের মধ্যে মহানগর কমিটির পদ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহাবুবুর রহমানের গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর গাংচর এলাকায় ফারুকী হাউসের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের মহানগর কমিটির সেক্রেটারি পদ নিয়ে দলের দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর ফলে সন্ধ্যায় গাংচর এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষের সময় মহানগর সেক্রেটারি মাহাবুবুর রহমানের গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষে কেউ আহত হয়েছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গাড়ি ভাঙচুরের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জামায়াতের মহানগর কমিটির সেক্রেটারি পদ নিয়ে বিরোধের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দিন মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এবং ভুটানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রয়্যাল মনিটারি অথরিটি অব ভুটানের (আরএমএ) গভর্নর মিস ইয়াংচেন ছোগিয়েল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এই সাক্ষাৎ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে উভয় গভর্নর সার্কফাইন্যান্স ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় পক্ষ বৈঠকটিকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করে।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান এবং রয়্যাল মনিটারি অথরিটি অব ভুটানের ডেপুটি গভর্নর মিস উগিয়েন চৌদেন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ