ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কালিয়াকৈরের হাট-বাজারে সবজির দামে আগুন,বিপাকে ক্রেতারা


কালিয়াকৈরের হাট-বাজারে সবজির দামে আগুন,বিপাকে ক্রেতারা

গাজীপুরের শিল্পনগরী কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কাঁচা বাজারে আগুন লেগেছে। অধিকাংশ সবজির দাম চড়া হওয়ায় ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি ফিরছে না। শীতের আগাম সবজির মৌসুম ঘনিয়ে এলেও কালিয়াকৈরের বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ ক্রেতা, বিশেষ করে ৬ লক্ষ পোশাক শ্রমিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে চরম চাপে পড়ছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি কালিয়াকৈরের বাজারে পড়েছে। তবে ক্রেতাদের মতে, এটি সিন্ডিকেটের কারসাজি।

শুক্রবার (০২ অক্টোবর) কালিয়াকৈর বাজার, চন্দ্রা ত্রিমোড় বাজার, পল্লী বিদ্যুৎ বাজার, মৌচাক বাজার, সফিপুর বাজার, কালামপুর ও ফুলবাড়িয়া বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আকাশছোঁয়া। সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। শিমের দাম সবচেয়ে বেশি, প্রতি কেজি ২০০ টাকা। বেগুন ৮০-১২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ১৬০ টাকা পিস (ছোট সাইজ), গাজর ১২০ টাকা কেজি, টমেটো ১২০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা কেজি, করলা ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, তরী (ঝিঙা) ৮০ টাকা, বাধাকপি ৮০ টাকা, বইকচু (মুখি) ৬০ টাকা, আলু প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা কেজি, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ টাকা।

আরও পড়ুন: খাদ্যমন্ত্রী ৩১ শ্রমিককে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা উপহার দিলেন

মুরগির বাজারে দাম তেমন পরিবর্তন নেই, তবে তা-ও চড়া। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি (সোনালী) মুরগি ২৮০ টাকা, লেয়ার ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৬০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ টাকা কেজি। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়ে প্রতি হালি ৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিম ৭০ থেকে ৮০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া। অন্যান্য মাছের দামও চড়া। রুই মাছ আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ছোট দেশি মাছ - পুঁটি, টেংরা, মলা ৪৫০-৬০০ টাকা কেজি, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

কালিয়াকৈর বাজারে বাজার করতে আসা পোশাক শ্রমিক আব্দুস সালাম (৩৫) ও মোকলেস বলেন, “প্রতিদিনই কোনও না কোনও পণ্যের দাম নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। ১০ হাজার টাকা বেতন পাই। ঘর ভাড়া ৪ হাজার। বাকি ৬ হাজার দিয়া সংসার চলে না। পরিবারের প্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনতে গেলে বাজেটের চেয়ে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। ১ কেজি শিম ২০০ টাকা, এইটা কি মগের মুল্লুক? বাজারে গেলে কান্না আসে।”

মৌচাকের গৃহিণী রহিমাখাতুন (৪২) বলেন, “আগে ৫০০ টাকা নিয়া বাজারে গেলে ব্যাগ ভরে যাইতো। এখন ১০০০ টাকায় এক বেলার বাজারও হয় না। বাচ্চারে একটা ডিম দিতে গেলেও হিসাব করতে হয়। শীতের সবজি বাজারে এলে দাম কিছুটা কমবে এটাই আশা করছি, কিন্তু এখন কি খামু?”

আরও পড়ুন: দেশকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: আবু হানিফ

সফিপুরের অটো চালক সিয়াম হোসেন (২৮) বলেন, “সারাদিন অটো চালাইয়া ৬০০ টাকা পাই। চাল কিনমু, ডাল কিনমু, নাকি সবজি কিনমু? সবকিছুর দাম বাড়তি। সরকার কি এই বাজার দেখে না? মনিটরিং নাই, কোনো অভিযান নাই। ব্যবসায়ীরা যা খুশি তাই দাম নিতাছে।” কালিয়াকৈর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মোঃ সহিদুল ইসলাম বলেন, “ভাই, আমরা বেশি দামে কিনি, বেশি দামে বেচি। শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমানে চাহিদা ও সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রতিদিনই কিছু পণ্যের দামে পরিবর্তন হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। বগুড়া, যশোর থেকে সবজি আনতে আগে ট্রাক ভাড়া লাগতো ৮ হাজার, এখন লাগে ১২ হাজার।” তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন খরচের দোহাই দিয়ে ১০ টাকার জিনিস ২০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিমের কোনো তৎপরতা নেই। ভোক্তা অধিকারের অভিযান না থাকায় ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া।

এই অস্থির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কালিয়াকৈর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী, শিক্ষানুরাগী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও গণমানুষের নেতা দেওয়ান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “কালিয়াকৈরের হাট-বাজারে যে আগুন লেগেছে, এটা কাঁচা বাজারের আগুন নয়, এটা গরীবের পেটে আগুন। আমাদের কালিয়াকৈর হলো ৬ লক্ষ পোশাক শ্রমিকের শহর। এই শ্রমিকরা রোদে পুড়ে, ঘাম ঝরিয়ে দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছে। অথচ আজ তারা বাজারে গিয়ে ২০০ টাকা কেজি শিম, ৯০ টাকা কেজি বেগুন কিনতে পারছে না। ভাত জুটলেও তরকারি জুটছে না। এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে? আমি আজ কালিয়াকৈর বাজার, মৌচাক, চন্দ্রা ঘুরে দেখেছি। ক্রেতারা কাঁদছে। কিন্তু প্রশাসনের কোনো মনিটরিং নেই, ভোক্তা অধিকারের কোনো অভিযান নেই। এই সুযোগে একটি অসাধু সিন্ডিকেট ১০ টাকার জিনিস ২০ টাকা নিচ্ছে। আমি এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছি - শ্রমিকের ঘামে গড়া এই শহরে লুটপাট চলতে দেব না। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে কালিয়াকৈরের প্রতিটি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করুন, প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা টানানো বাধ্যতামূলক করুন। পৌরসভার পক্ষ থেকে ন্যায্যমূল্যের অস্থায়ী কাঁচা বাজার চালু করতে হবে।

আল্লাহ যদি আমাকে পৌরসভার খেদমত করার সুযোগ দেন, তাহলে আমার প্রথম অঙ্গীকার হবে- কোনো বাজারে চাঁদাবাজি থাকবে না, প্রতিদিন সকালে পৌর ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে বাজার মনিটরিং হবে, কৃষক যাতে সরাসরি বাজারে সবজি বিক্রি করতে পারে সেই ব্যবস্থা করবো। মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট ভেঙে দেব। জনগণের পাশে ছিলাম, জনগণের পাশে আছি। এলাকা বাসী তার এই মানবিক ও জোরালো বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এমন জনবান্ধব নেতৃত্বই কালিয়াকৈরের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন। এলাকা বাসীর দাবি, দ্রুত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হোক। নইলে এই শিল্পনগরীর লক্ষ লক্ষ শ্রমিক পরিবার না খেয়ে মরবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতায় সমঝোতা স্বাক্ষর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে লাহোর, ঢাকা আছে কোথায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ এম


দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে লাহোর, ঢাকা আছে কোথায়?

আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ঢাকাও পিছিয়ে নেই, তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে।

আজ সকালে লাহোরের বায়ুমান সূচক বা একিউআই– ২০৪। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা তালিকায় ১৬৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এই একিউআই মানের কারণে বাতাসকে 'অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউ এয়ারের ওয়েবসাইটে সকাল সাড়ে ৮টার হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ভারতের কলকাতা রয়েছে, যার স্কোর ১৭৩। ঢাকার (১৬৯) ঠিক পরেই চতুর্থ স্থানে ভারতের দিল্লি, স্কোর ১৬৮ নিয়ে অবস্থান করছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি, স্কোর ১৬৫।

আইকিউ এয়ার বিভিন্ন শহরের বাতাসের মান রিয়েল টাইমে প্রকাশ করে। তাদের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান ০ থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত সবার জন্যই অস্বাস্থ্যকর। ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত খুবই অস্বাস্থ্যকর। আর ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে সেটাকে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ এম


আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি

দেশের বাজারে সোনার দাম সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিন দফা দাম কমানোর পর, প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে, ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে গত বুধবার সকাল ১০টা থেকে। আজ শনিবারও এই দামে বিক্রি হচ্ছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা হয়েছে এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, ২৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের এক ভরি সোনার গয়নার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছিল। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর আরও ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়। বর্তমানে, তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার গয়নার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

না জানিয়ে তৃতীয় দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের ৩ গোয়েন্দা কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


না জানিয়ে তৃতীয় দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের ৩ গোয়েন্দা কর্মকর্তা

ভারতে বাংলাদেশের তিনটি মিশনে কর্মরত একটি গোয়েন্দা সংস্থার তিন কর্মকর্তা অভিযোগ উঠেছে যে, তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মিশন থেকে অন্য দেশে চলে গেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই মিশন থেকেও একটি গোয়েন্দা কর্মকর্তা তৃতীয় দেশে চলে গেছেন। এই চার কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করেননি।

চার কর্মকর্তার মধ্যে সর্বশেষ গত জুলাইয়ে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ফিল্ড অফিসার আশরাফ হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এর আগে নয়াদিল্লি, কলকাতা ও দুবাই মিশন থেকে তিন কর্মকর্তা অন্য দেশে চলে যান। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে এখনও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। কূটনৈতিক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে উপহাইকমিশনার প্রীতি রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্রে জানা গেছে, চার কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) বিভিন্ন পদে ছিলেন। এ ঘটনায় সরকার বিব্রত হয়ে পড়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনসুলার শাখায় কর্মরত আশরাফ হোসেন সপরিবারে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলে মিশন ত্যাগ করেন। তাঁর বাংলাদেশে ফেরার জন্য টিকিটও করা হয়েছিল এবং তিনি মিশন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন। কিন্তু পরে তিনি বাংলাদেশে না ফিরে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রিপোর্টও করেননি।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আশরাফ হোসেনের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি মিশনের দেওয়া নোট ভারবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেন এবং তাঁর নামে মিশন থেকে কিভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হলো, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মিশনের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ সীমিত বলে কূটনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, একইভাবে নয়াদিল্লি হাইকমিশনের উপপরিচালক (ডিডি) নাসিরউদ্দিনও যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তিনি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লির হাইকমিশন থেকে দেশে ফিরে আসেন। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগ না দিয়ে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লি মিশনের কনসুলার শাখার মাধ্যমে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো কর্মকর্তা তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মিশনের নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস ভিসাপ্রক্রিয়ায় মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফলে নয়াদিল্লি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে কিভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদন কিভাবে এসেছিল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

কলকাতা ও দুবাই থেকেও দেশত্যাগের খবর এসেছে। কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে কর্মরত মাহমুদুল হাসান পলাশও দেশত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি লন্ডনে চলে যান। পরে সেখান থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত শেখ হাসিনার একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনেও তিনি বক্তব্য দেন। ছাত্রজীবনে তিনি বুয়েটে ছাত্রলীগের পদধারী ছিলেন।

এ ছাড়া দুবাই মিশনে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক বদরুল ইসলাম ৫ আগস্টের পর দুবাই থেকে অন্য দেশে চলে যান বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, কনসুলার শাখা বিদেশে মিশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। ভিসা, কনসুলার সেবা, বিভিন্ন সরকারি যোগাযোগ ও নথিপত্র নিয়ে এ শাখায় কাজ হয়। ফলে এ শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেশত্যাগের প্রক্রিয়া এবং তাঁদের তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিশন থেকে নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিনেসোটা: অভিবাসন অভিযানে মন্তব্য করায় ৭ বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


মিনেসোটা: অভিবাসন অভিযানে মন্তব্য করায় ৭ বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাত ফেডারেল বিচারকের বিরুদ্ধে বিচারিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে দেশটির বিচার বিভাগ। এই অভিযোগটি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) করা হয়, যা গত শীতের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তাদের দেওয়া বক্তব্যের ফলস্বরূপ।

বিচার বিভাগের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, বিচারকেরা নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গত শীতের ‘মেট্রো সার্জ’ অভিযানের সময় আদালতে তৈরি হওয়া চাপ এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মামলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই বিচারকদের মধ্যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

বিচার বিভাগের দাবি, চলমান বা আদালতের সামনে থাকা মামলাগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা এবং রাজনৈতিক বা নীতিগত বিষয়ে বিচারকদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিক বিধিনিষেধ রয়েছে। তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছে বিভাগটি।

মিনেসোটার ওই সাত বিচারককে অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যমে বিচারকদের বক্তব্যে পক্ষপাতের প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর মতে, এ কারণে ওই বিচারকদের সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারক হিসেবে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগটি অষ্টম ফেডারেল আপিল আদালতের প্রধান বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা বিচারকদের মধ্যে প্যাট্রিক শিল্টজের বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। গত জানুয়ারিতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০টি আদালতের আদেশ মানেনি।

একটি রায়ে শিল্টজ বলেছিলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, গত শীতে মিনেসোটার ফেডারেল আদালতে যা ঘটেছে, তা আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিল। উল্লেখ্য, শিল্টজকে সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।

তবে মিনেসোটা ফেডারেল আদালতের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আইন বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময় বিচারকেরা তাদের ওপর প্রযোজ্য নৈতিক বিধির মধ্যেই ছিলেন। শিল্টজও নিজের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার মন্তব্য কোনো নৈতিক বিধি লঙ্ঘন করেনি। তাঁর দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিচারিক আচরণবিধি–সংক্রান্ত একটি পরামর্শে বলা হয়েছে, বিচারকেরা আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। তিনি ঠিক সেটিই করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেডারেল আদালতের সঙ্গে বিচার বিভাগের টানাপোড়েন এর আগেও দেখা গেছে। প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু পদক্ষেপ আদালত স্থগিত করেছে। আবার কিছু উচ্চপর্যায়ের ফৌজদারি মামলাও আদালতে বাধার মুখে পড়েছে।

মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিচারককে ‘প্রশাসনের নীতির পথে বাধা’ হিসেবে সমালোচনা করে আসছে। তবে সমালোচিত কিছু সিদ্ধান্ত আবার ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারকদের কাছ থেকেও এসেছে।

নতুন অভিযোগের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ফেডারেল বিচার বিভাগের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে।

সূত্র: দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%