০৪:৫২ পি.এম
চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাবে সোমবার এ বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ফ্রান্স। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সোমবার, দেশের অর্ধেক অঞ্চলে সর্বোচ্চ মাত্রার তাপ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তীব্র গরমের ফলে দেশটির কয়েক শত স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই তাপপ্রবাহ ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপ প্রবাহের মতো মারাত্মক হতে পারে। ওই তাপদাহে সারা দেশে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
ফ্রান্সের বোর্দো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে। আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স জানিয়ে দিয়েছে, সোমবার বিকেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বোর্দোতে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং প্যারিসে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের মোট ৬০ হাজার স্কুলের মধ্যে ৮০০টির বেশি স্কুল বন্ধ রাখা হচ্ছে। আরও ১ হাজার ৮০০ স্কুলে পাঠদানের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে।
গত সপ্তাহ থেকে আরও কিছু স্কুল অভিভাবকদের সন্তানদের বাড়িতে রাখার অথবা দুপুরে স্কুল থেকে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে তারা অতিরিক্ত গরম শ্রেণিকক্ষ থেকে নিরাপদে বের হতে পারে।
সোমবার সকালে প্যারিস অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে যে, গণপরিবহনে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
প্যারিস অঞ্চলের প্রধান ভ্যালেরি পেক্রেস বলেছেন, ‘আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। কারণ ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেললাইন সহ্য করতে পারে না।’
তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীতে ঠাসা ট্রেনে শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি যথেষ্ট হবে না।’
মে মাসে অস্বাভাবিক গরমের ফলে দেশের অর্ধেক অঞ্চলে তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে ফেলার পর এটি ফ্রান্সের এ বছরের দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, বারবার তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সুস্পষ্ট লক্ষণ। কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে মূলত এই উষ্ণায়ন ঘটছে।
আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা
তারা সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ আরও ঘনঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হতে পারে। মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালের পর দেশজুড়ে রেকর্ড হওয়া ৫১টি তাপপ্রবাহের মধ্যে ৩৪টি ঘটেছে ২০০০ সালের পর এবং ২৬টি ঘটেছে ২০১১ সালের পর।
২০০৩ সালে ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল ও স্পেনে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ওই তাপ প্রবাহে ১৬টি দেশে ৭০ সহস্রাধিক মানুষ মারা গিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন