০৪:৫৯ পি.এম
মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশরের মধ্যে নতুন জনশক্তি রফতানি পরিধি বাড়ানোর আগে, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য দাবি জানিয়েছে দেশটির বেসরকারি মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংস্থা ‘তেনাগানিতা’ শীর্ষক।
সোমবার (২২ জুন) সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক গ্লোরিন এ. দাস এক বিবৃতিতে জানান, নতুন কোনও শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে সরকারি অনুমোদিত চ্যানেলে এসেও যেসব কর্মী বর্তমানে বেকার, অর্ধ-বেকার, ঋণগ্রস্ত কিংবা অবৈধ হয়ে পড়েছেন, তাদের বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে হাজার হাজার কর্মী বৈধভাবে এসেও উপযুক্ত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না, ঋণের জালে জর্জরিত হচ্ছেন এবং নিজেদের কোনো দোষ ছাড়াই অনথিভুক্ত হয়ে পড়ছেন, সেখানে নতুন করে কর্মী নিয়োগের যৌক্তিকতা কোথায়? বহু বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় আসার জন্য জমি-সম্পদ বিক্রি করে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বিপুল পরিমাণ অভিবাসন সফল ফি পরিশোধ করেছেন। কিন্তু এখানে আসার পর তারা দেখছেন যে প্রতিশ্রুত চাকরি নেই, চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে কিংবা নিয়োগকর্তারা তাদের কাজ দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
এই চরম বাস্তবতায়, তেনাগানিতা উভয় দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, নিয়োগ জালিয়াতি, চুক্তির হেরফের, কাজ না পাওয়া, ঋণের দাসত্ব এবং নিয়োগকর্তাদের ব্যর্থতার কারণে যারা অনথিভুক্ত হয়েছেন, তাদের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থা নির্ধারণে একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়াকে যেন কোনোভাবেই ব্যবসার হাতিয়ার বানানো না হয়, যেখানে পুরনো শোষিত কর্মীদের ফেলে রেখে কেবল নতুনদের আনা হবে। অভিবাসী শ্রমিকদের কেবল মুনাফা অর্জনের পণ্য বা রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবে না দেখে, তাদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনথিভুক্ত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ঢালাওভাবে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা অনুচিত। কারণ, তাদের অনেকেই বৈধভাবে প্রবেশ করার পর নিয়োগকর্তার প্রতারণা, পারমিট নবায়নে ব্যর্থতা, কোম্পানির বিলুপ্তি কিংবা শোষণমূলক কর্মপরিবেশের কারণে বাধ্য হয়ে অনথিভুক্ত হয়ে পড়েছেন।
তাহলে, তেনাগানিতা মালয়েশিয়া সরকারকে একটি অধিকার-ভিত্তিক নিয়মিতকরণ (বৈধকরণ) প্রক্রিয়া চালুর অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে এই ভুক্তভোগী কর্মীরা গ্রেফতার বা শাস্তির ভয় ছাড়াই পুনরায় আইনি মর্যাদা ফিরে পেতে পারেন। একই সাথে, অভিবাসন ব্যবস্থার এই সংকটের জন্য দায়ী নিয়োগকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ একটি সমন্বিত জাতীয় শ্রম অভিবাসন নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন