বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৭ পি.এম
বরিশালের পর এবার পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে বাণিজ্য মেলা নিয়ে আপত্তি তুলেছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি। মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এমন একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যাদের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার অভিযোগ ও মামলা থাকার দাবি করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. কামাল হোসেনের সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মেলা পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর না করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তথ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন নথি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির দাবি, আলোচিত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আমির হোসেনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, আমির হোসেন সিলেটের একটি নিষিদ্ধ মহানগর যুবলীগের পদে ছিলেন এবং আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে সিলেটে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ঘিরে সিলেটে সংঘটিত একটি মামলায় ‘আমির হোসেন খান’ নামের একজনকে আসামি করার তথ্য পাওয়া গেছে।
মেলা আয়োজনের দায়িত্ব কাদের দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, “আপনার তথ্য-প্রমাণ দিন। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব। যদি তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা চুক্তি বাতিল করব।”
এদিকে, একটি সূত্র দাবি করেছে, মেলাটি চেম্বার অব কমার্সের কাছ থেকে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চেম্বারকে অগ্রিম হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দিয়েছে। তবে এই অর্থের বাইরে চেম্বার অব কমার্সের কোনো এক কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে আরও বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। ওই অর্থের বিনিময়েই মেলার দায়িত্ব বিতর্কিত হিসেবে উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রটির দাবি।
তবে এ অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির পক্ষ থেকে জনস্বার্থের বিষয়টি উল্লেখ করে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককেও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা। একই বিষয়ে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারকেও অবহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির বক্তব্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের রয়েছে। বিশেষ করে মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অতীত কার্যক্রম, মামলা এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে তাদের আপত্তির বিষয়টি উপেক্ষা করে বিতর্কিত হিসেবে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে মেলার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে তারা আইনগত পথে এগোবে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে তাদের কাছে থাকা নথি, মামলা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে সংগঠনটির সদস্যরা মনে করছেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাওয়ার আগেই পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসন বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এর আগেও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় দুমকিতে একটি বিতর্কিত মেলা বন্ধ করা হয়েছিল। ওই মেলার বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে মেলাটি বন্ধের নির্দেশ দেন বলে সংগঠনটির দাবি।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে এর আগেও শিল্প ও বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ২২ মে পটুয়াখালীর ঝাউতলা মাঠে চেম্বারের আয়োজনে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করা হয়। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
এবারের মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কাদের দেওয়া হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা কতটুকু এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন ও চেম্বার কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়—সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের নজরে রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর নজরে চেম্বার অব কমার্সের আয়োজনে বাণিজ্য মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আনা হয়েছে। মেলা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষের উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবি সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মতামত জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এখন দেখার বিষয়, চেম্বার অব কমার্স ওই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে মেলার দায়িত্ব দিলে জেলা প্রশাসন মেলার অনুমোদন দেবে কি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচির কারণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থা আজও অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয়ের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং শাপলা চত্বর এলাকায় চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। দুই পক্ষের কর্মসূচির কারণে মতিঝিল এলাকায় পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সকাল থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার নিচে অবস্থান নিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা। তারা বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। এর আগে টানা চার দিন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে, শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে- ‘দফা এক, দাবি এক, চাকরি ফেরত চাই’। চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও চাকরিচ্যুত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই কর্মসূচিতে যোগদান করেছেন।
এই কর্মসূচির কারণে মতিঝিল এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে পুলিশ।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেছেন, "ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।" তিনি আরও বলেন, "গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।"
তিনি ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে, এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করারও দাবি করেন তিনি। তার মতে, অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধাগুলো সমন্বয় করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, "এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।"
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে মুতাসিম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের সময় অনেককে যথাযথ নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ব্যাংকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি ছিল না।
তিনি বলেন, পরে চাকরিতে রাখার সুযোগ তৈরির জন্য একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। যারা ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের অনেকেই বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরত। তবে আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের অনেকেই ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাই তাদের পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে ফোরামের আপত্তি রয়েছে।
মুতাসিম বিল্লাহ আরও দাবি করেন, আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা এবং এস আলম গ্রুপের সময় ব্যাংক থেকে ঋণ বিতরণ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করার পর কোনো ধরনের নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা টিপু বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।"
তিনি বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। চাকরি হারানোর পর পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে আছি। আমরা চাকরি ফেরত চাই। এ বিষয়ে আর কোনো তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।"
পরে তারা প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
দুই পক্ষের পৃথক অবস্থান ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, দিলকুশা ও শাপলা চত্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমতলীতে মাদক বিরোধী অভিযানে মঙ্গলবার রাতে সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডস্থ দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী গ্রামে আলিশার মোড়ে অবস্থিত মিরাজ টেলিকম দোকানে এসআই মো: শাহরিয়ার নাঈম রোমানের এর নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে মো: মিরাজ মোল্লা(২০)কে ০৫ (পাচ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতর বিরুদ্ধে আমতলীতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, গ্রেফতারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে নতুন যাত্রা শুরু করেছে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), যা ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে হয়েছে।
বাহিনী প্রধান আহসান হাবীব পলাশ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নতুন নামের যাত্রা শুরু করার কথা জানান। তিনি বলেন, "এসআরবি নামে গেজেট হয়েছে। আমরা র্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি নাম দিয়ে সকল কাজ আজ থেকে শুরু করেছি।"
সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে বাহিনীটি যে লোগো ব্যবহার করেছে, তাতে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা রয়েছে, যেখানে র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে, লোগোর নকশা অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন লোগো বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও দেখা গেছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারির পর তা আইনে রূপ নেয়। পরদিনই নতুন নামে যাত্রা শুরু করল বাহিনীটি।
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গঠিত হয়েছিল র্যাব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সফলতার পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাহিনীটিকে বিলুপ্তির দাবি উঠেছিল।
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও বাহিনীর সাত কর্মকর্তার উপর যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায় বিএনপি গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার বিষয়ক কমিটি।
এ ধারাবাহিকতায় এবার কাঠামোগত ও কর্মপরিধি পুনর্বিন্যস্ত করে সরকার বাহিনীটিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে মাঠে রাখল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জে কথিত ভুয়া ডাক্তার হিসেবে পরিচিত নাজমুল ইসলাম মিঠুকে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ মাসের কারাদ-ের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এ দ-াদেশ প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে জানা গেছে, মামলার নম্বর ৯৬/২০২৬। মামলায় প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তাসলিমা জান্নাত। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২২ ধারায় নাজমুল ইসলাম মিঠুকে দোষী সাব্যস্ত করে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদ- এবং পাঁচ মাসের কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়।
নাজমুল ইসলাম মিঠু সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘মিঠু ডাক্তার’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের স্বীকৃত ডিগ্রি বা বৈধতা ছাড়াই তিনি রোগী দেখছেন এবং চিকিৎসার নামে অর্থ আদায় করছেন।
এর আগে চলতি বছরের ৯ মার্চ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এহসান আহমেদ খান কথিত ভুয়া ডাক্তার নাজমুল ইসলাম মিঠুকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিঠু প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী দেখতেন এবং রোগীপ্রতি ফি নিতেন। স্থানীয়দের দাবি, এতে প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। এছাড়া, তার নিজস্ব ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ কিনতে রোগীদের বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ফার্মেসি থেকে মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করতেন মিঠু।
রোগী রহিমা বেগম বলেন, "ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাড়ি বিক্রির টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ থেকে ২ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়।"
আরেক রোগী আলতাফ অভিযোগ করে বলেন, "বুকের ব্যথা নিয়ে মিঠুর কাছে গেলে তার ফার্মেসি থেকে জ্বর ও মাথাব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়। এতে ওই ব্যক্তির চিকিৎসক পরিচয় নিয়ে তার সন্দেহ হয়।"
এদিকে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে কয়েকজন রোগীর প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা করা হলে জানা যায়, মিঠুর কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি নেই এবং তার প্রেসক্রিপশন দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ