১১:৪৩ পি.এম
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপটে প্রায়শই একটি প্রশ্ন উঠে আসে—যদি জমির দলিল একজনের নামে থাকে কিন্তু সরকারি রেকর্ড অন্য ব্যক্তির নামে থাকে, তাহলে আইনগতভাবে প্রকৃত মালিক হিসেবে কাকে বিবেচনা করা হবে? এই পরিস্থিতিতে দলিলের গুরুত্ব বেশি, নাকি জমির রেকর্ডের তা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।
অভিজ্ঞ আইনজীবী সাবের চৌধুরী বলেন, জমির মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলিল এবং খতিয়ান—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, শুধু রেকর্ডে নাম থাকার কারণে কোনো ব্যক্তি জমির চূড়ান্ত মালিক হয়ে যান না। জমির মালিকানা যাচাই করার জন্য বৈধ দলিল, পূর্ববর্তী মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণও বিবেচনায় নিতে হয়।
এটি একটি উদাহরণের মাধ্যমে পরিষ্কার করা যেতে পারে। ধরুন, কোনো জমির পূর্ববর্তী মালিকের নামে সিএস, এসএ এবং আরএস রেকর্ড বিদ্যমান। ওই মালিকের কাছ থেকে একজন ব্যক্তি ২০ বছর আগে বৈধ দলিলের মাধ্যমে জমিটি কিনেছিলেন। পরবর্তীতে ক্রেতা বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে বা জমির দেখাশোনা না করার কারণে জমিটির সঙ্গে তার যোগাযোগ কমে যায়। এই সুযোগে অন্য একজন বিএস জরিপে জমিটি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পিস্তল উঁচানো দৃশ্য ত্রাসের রাজত্বের প্রতীক: জামায়াত
এমন পরিস্থিতিতে, বিএস রেকর্ডে নাম থাকার কারণে নতুন রেকর্ডধারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমির বৈধ মালিক হয়ে যাবেন না। একইভাবে, দলিল থাকলেই সব পরিস্থিতিতে মালিকানা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়—এমনটিও নয়। দলিলটি বৈধ কি না, বিক্রেতার জমি বিক্রির অধিকার ছিল কি না এবং মালিকানার ধারাবাহিকতা ঠিক রয়েছে কি না, এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি।
আইনগতভাবে জমির খতিয়ান বা রেকর্ড মূলত জমির স্বত্ব ও দখলসংক্রান্ত তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। তবে, রেকর্ডে ভুল থাকতে পারে এবং উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়ায় তা সংশোধনের সুযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, নিবন্ধিত দলিল জমি হস্তান্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলেও দলিলের বৈধতা ও বিক্রেতার স্বত্বের বিষয়টি প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করতে হয়।
তাহলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী?
যখন জমির দলিল একজনের নামে এবং রেকর্ড অন্যজনের নামে থাকে, তখন শুধুমাত্র একটি নথির ভিত্তিতে প্রকৃত মালিক নির্ধারণ করা সঠিক নয়। দলিল, পূর্ববর্তী খতিয়ান, মালিকানার ধারাবাহিকতা, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিরোধ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনায় সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক পরিবহণমন্ত্রীর মন্তব্য
অতএব, জমির মালিকানা নির্ধারণে দলিল ও রেকর্ড—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, কোনো একটি নথিতে নাম থাকাকে এককভাবে চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ ধরে নেওয়া উচিত নয়; প্রকৃত স্বত্ব নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন