বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৪:৪৬ পি.এম
জাপানে একটি ট্রেনের ধাক্কায় চারজন রেলশ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে টোকিওর উত্তরে কানুমা শহরের শিন-কানুমা স্টেশনে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের উল্লিখিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাতজন শ্রমিকের একটি দল রেললাইনের পাশে আগাছা পরিষ্কার করছিলেন, যখন একটি এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের ওপর চড়াও হয়।
দমকল বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনজনকে ট্রেনের নিচে আটকা অবস্থায় এবং একজনকে প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান।
নিহত চারজনই পুরুষ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছিল। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, তবে তাঁদের মধ্যে কেউ আহত হননি।
ট্রেনটি ছিল তোবু নিক্কো লাইনের 'স্পাসিয়া এক্স এক্সপ্রেস', যা টোকিও অঞ্চল থেকে তোচিগি এলাকার জনপ্রিয় পর্যটন শহর নিক্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করে।
এক যাত্রী ট্রেনের ধাক্কার সময়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা পরে ট্রেনটি জরুরি ব্রেক করে থেমে যায়। এরপর যাত্রীদের জানানো হয়, শব্দের কারণ খুঁজে দেখতে ট্রেনটি থামানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জাপানের রেলব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ হিসেবে পরিচিত।
উন্নত প্রযুক্তি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের ফলে দেশের ভেতরে রেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটার ঘটনা বিরল।
তবে ২০০৫ সালের এপ্রিলে জাপানের আমাগাসাকি শহরে একটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার সময় ১০৭ জন নিহত এবং ৫০০ এরও বেশি লোক আহত হন। অতিরিক্তভাবে, ১৯৬৩ সালে আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৬১ জন নিহত হয়েছিল। উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে জাপানের শিনকানসেন বুলেট ট্রেন চালু হওয়ার পর থেকে কোনো যাত্রী ট্রেনের লাইনচ্যুত বা সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দূরদেশে যুদ্ধ করার আমেরিকান অভ্যাস ভাঙতে পারলেই বদলে যেতে পারে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র। আমেরিকা বহু দশক ধরে এমন এক যুদ্ধনীতিতে অভ্যস্ত—যুদ্ধ হবে অন্যের ভূখণ্ডে, মরবে অন্য দেশের মানুষ, ধ্বংস হবে অন্য দেশের শহর; কিন্তু আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থাকবে নিরাপদ।
ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অভিঘাত পৌঁছে যাবে বাগদাদ, কাবুল, তেহরান, ত্রিপোলি কিংবা অন্য কোনো রাজধানীতে—কিন্তু সেই যুদ্ধের ধোঁয়া, আতঙ্ক ও ধ্বংস সাধারণ আমেরিকান নাগরিকের ঘরের দরজায় কড়া নাড়বে না।এই যুদ্ধনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই। যে জনগণ যুদ্ধের মূল্য নিজের চোখে দেখে না, সেই জনগণের কাছে যুদ্ধ অনেক সময় একটি টেলিভিশন-চিত্র মাত্র।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সংঘাত তাই কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বনাম ক্ষেপণাস্ত্রের যুদ্ধ নয়। এটি আরও বড় একটি প্রশ্নের যুদ্ধ—যুদ্ধের মূল্য কে দেবে?
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা, পরবর্তী পাল্টা আঘাত, জুনের সমঝোতা এবং তার ভেঙে পড়ার পর সংঘাত আবার ভয়ংকর মোড় নিয়েছে। ১৭ আগস্ট ৬০ দিনের সমঝোতার সময়সীমা শেষ হয়েছে; ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছে। ইরান এখন আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে এবং হরমুজকে কেন্দ্র করে সংঘাতের চাপ বাড়ছে। এখানে ইরানের সামনে সবচেয়ে বড় কৌশলগত প্রশ্নটি হলো—কীভাবে এমন প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, যাতে আমেরিকা বুঝতে পারে যুদ্ধ কেবল অন্যের ঘরে আগুন লাগানোর নাম নয়।
আমেরিকার নিরাপদ দূরত্বের যুদ্ধঃ
ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির একটি অনন্য সুবিধা হলো দূরত্ব। বিশ্বের এক প্রান্তে বসে মার্কিন বাহিনী অন্য প্রান্তে অভিযান চালাতে পারে। বিমানবাহী রণতরী যায়, বোমারু বিমান যায়, ক্ষেপণাস্ত্র যায়—কিন্তু আমেরিকার শহরগুলোতে যুদ্ধের বাস্তবতা পৌঁছায় না।
এই দূরত্বই রাজনৈতিক সুবিধা। কারণ একজন আমেরিকান নাগরিক যদি প্রতিদিন নিজের শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান না দেখে, বিস্ফোরণের শব্দ না শোনে, পরিবারকে নিরাপদে রাখার জন্য রাত জাগতে না হয়—তাহলে বিদেশের যুদ্ধ তার কাছে অনেক দূরের একটি ঘটনা হয়ে থাকতে পারে।
ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সাফল্য তাই ওয়াশিংটন দখল করা নয়। সাফল্য হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রমাণ করেই সেই নিরাপদ দূরত্বের ধারণাটিকে ভেঙে দেওয়া। অর্থাৎ এমন প্রতিরোধক্ষমতা দেখানো, যাতে আমেরিকার নীতিনির্ধারকেরা আর নিশ্চিত থাকতে না পারেন যে যুদ্ধের সব ক্ষতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই আটকে থাকবে।এটি সামরিকের চেয়েও বড় একটি রাজনৈতিক বার্তা।
এখানেই ‘আমেরিকার মাটিতে পৌঁছানোর সক্ষমতা’ গুরুত্বপূর্ণ যে, ইরানের গোপন ICBM আছে কি না, অথবা গোপন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত আছে কি না—এসব নিয়ে নানা দাবি, জল্পনা ও প্রচার রয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই ইরান আই সি বি এম এবং পরমাণু অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করেছে এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের উপর পারমাণবিক হামলার সম্ভাব্য খবর প্রকাশের পর ইরানের পক্ষ থেকেও তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ সমানে সমান প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার অর্থ দাঁড়ায় ইরানের হাতেও রয়েছে এবং সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পৌঁছতে পারে এমন আইসিবিএম হয়তো তাদের কাছে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে এক প্রসূতি ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় নানা অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান কেন্দ্রটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত প্রসূতি শ্রাবণী (১৯) উপজেলার প্রজাপাড়া এলাকার রিকশাচালক মতিয়ার রহমানের মেয়ে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রসববেদনা উঠলে তার মা শিমা বেগম তাকে নগর মাতৃসদনে ভর্তি করেন। এই স্থানেই তার এবং তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু ঘটে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ হচ্ছে, বাড়ির কাছাকাছি জায়গা থাকায় শ্রাবণী তার মা ও খালার সঙ্গে হেঁটে নগর মাতৃসদনে আসেন। সেখানে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর সিজারের জন্য ১০ হাজার ৫০০ টাকা নগদ পরিশোধ করতে বলা হয়। পরে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়। এর পর একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে রংপুরে পাঠানো হয়েছিল।
শ্রাবণীর বাবা মতিয়ার রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে জানানো হয়, তাকে ওষুধ কেনার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছিল।
ফিরে এসে তিনি দেখেন, তার মেয়েকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার কাজ চলছে এবং তার মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কি ঘটেছে, সে বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি। পরবর্তীতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শ্রাবণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই দিনই তার মরদেহ দাফনের কাজ সম্পন্ন হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে নগর মাতৃসদনের ব্যবস্থাপক ডা. মো. আহ্সানুল আবেদীন মামুন স্বজনদের কোনো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধের জন্য একাধিকবার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।’
পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও মাহমুদুল হাসান জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে পৌরসভার তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কাজ বন্ধ রয়েছে। কর্মরত চিকিৎসকের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, ওই রোগী এক্লাম্পসিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে তার খিঁচুনি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সিভিল সার্জনের তদন্তের পর নিশ্চিত হতে সক্ষম হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার প্রসূতি শ্রাবণীর স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নগর মাতৃসদন কেন্দ্র ঘেরাও করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের সব কার্যক্রম আপাতত বন্ধ ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজা সিটিতে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এই হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি রয়েছে, যাদের মধ্যে নারী পুলিশ বিভাগের প্রধান, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। খবরটি এসেছে আল জাজিরার মাধ্যমে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) গাজা সিটি ও নুসেইরাতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়। গাজা সিটির পুলিশ সদর দফতরে পরিচালিত এই হামলায় নারী পুলিশ বিভাগের প্রধান ফাতিনা আল-সাহহার এবং কয়েকজন পুলিশ কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে এবং একে ‘নতুন যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আবারও অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছে। দুই দিন আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার মধ্যপ্রাচ্য সফর সম্পন্ন করেছেন। তবে তার সফরে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এদিকে, ২০২৪ সালে গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাতজন ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ফৌজদারি মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে অস্ট্রেলিয়া ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে। নিহতদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক জোমি ফ্র্যাঙ্ককমও ছিলেন।
মিশরে ত্রাণ সহায়তা কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি গাজায় ‘উল্লেখযোগ্যভাবে আরও বেশি মানবিক সহায়তা’ প্রবেশ নিশ্চিত করতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ই-১ বসতি প্রকল্পের জন্য ইসরাইলি সরকারের দরপত্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। তিনি এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে ইসরাইলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলবের ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, আল জাজিরার মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের রামাল্লা এলাকার উম আল-সাফা গ্রামে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা বুলডোজার ও যানবাহন ব্যবহার করে বসতি স্থাপনের জন্য রাস্তা নির্মাণ করছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, এর মাধ্যমে তারা গ্রামের জমির প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৪৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে, প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, যা না পরলে তাদের জন্য আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন। এই বিষয়ের সত্যতা কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, হৃদয় মিয়া ওরফে মাইন উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম এবং শরিফুল ইসলাম ওরফে শরীফ। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের সময় সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ছোট সাদিপুর এলাকা, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের ওপর রিলাক্স কিং পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
এই তল্লাশির সময় শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ, হৃদয় মিয়া ওরফে মাইন উদ্দিন এবং সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ৪৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক ওজন ছিল চার কেজি ৬০০ গ্রাম এবং এর বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
এই ঘটনায় সোনারগাঁ থানার এসআই মো. ইমরান হোসেন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৭ জানুয়ারি তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামির বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন।’ তিনি আরও জানান, রায়প্রাপ্তদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি হৃদয় মিয়া ওরফে মাইন উদ্দিন এবং সাইফুল ইসলাম আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ