প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরের পীরগঞ্জে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে এক প্রসূতি ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় নানা অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান কেন্দ্রটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত প্রসূতি শ্রাবণী (১৯) উপজেলার প্রজাপাড়া এলাকার রিকশাচালক মতিয়ার রহমানের মেয়ে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রসববেদনা উঠলে তার মা শিমা বেগম তাকে নগর মাতৃসদনে ভর্তি করেন। এই স্থানেই তার এবং তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু ঘটে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ হচ্ছে, বাড়ির কাছাকাছি জায়গা থাকায় শ্রাবণী তার মা ও খালার সঙ্গে হেঁটে নগর মাতৃসদনে আসেন। সেখানে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর সিজারের জন্য ১০ হাজার ৫০০ টাকা নগদ পরিশোধ করতে বলা হয়। পরে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়। এর পর একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে রংপুরে পাঠানো হয়েছিল।
শ্রাবণীর বাবা মতিয়ার রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে জানানো হয়, তাকে ওষুধ কেনার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছিল।
ফিরে এসে তিনি দেখেন, তার মেয়েকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার কাজ চলছে এবং তার মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কি ঘটেছে, সে বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি। পরবর্তীতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শ্রাবণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই দিনই তার মরদেহ দাফনের কাজ সম্পন্ন হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে নগর মাতৃসদনের ব্যবস্থাপক ডা. মো. আহ্সানুল আবেদীন মামুন স্বজনদের কোনো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধের জন্য একাধিকবার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।’
পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও মাহমুদুল হাসান জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে পৌরসভার তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কাজ বন্ধ রয়েছে। কর্মরত চিকিৎসকের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, ওই রোগী এক্লাম্পসিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে তার খিঁচুনি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সিভিল সার্জনের তদন্তের পর নিশ্চিত হতে সক্ষম হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার প্রসূতি শ্রাবণীর স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নগর মাতৃসদন কেন্দ্র ঘেরাও করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের সব কার্যক্রম আপাতত বন্ধ ঘোষণা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন