ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘এটি সহজ ছিল না’, চুক্তি সইয়ের সময় বললেন ট্রাম্প


‘এটি সহজ ছিল না’, চুক্তি সইয়ের সময় বললেন ট্রাম্প

দীর্ঘ দেন দরবারের পর অবশেষে ইরান যুদ্ধ বন্ধে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) রাতে ফ্রান্সের প্যারিসের কাছে প্যালেস অব ভার্সাইয়ে এক নৈশভোজ চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিপত্রে সই করেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে সইয়ের সময়, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এটি সহজ ছিল না।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ট্রাম্পকে এই মন্তব্য করতে দেখা যায়। ম্যাক্রোঁ ওই নৈশভোজ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে আতিথ্য দেন।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

ভিডিওটির সঙ্গে দেয়া পোস্টে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘১৪ দফার এই পরিকল্পনা স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে।’ তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যও কমে আসবে।

ইরানের সাথে এই ঐতিহাসিক চুক্তির পরও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনই সেনা সরাচ্ছে না। প্যারিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, চুক্তি হলেও মার্কিন বাহিনী আরও কিছুদিন ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে।

চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। তেহরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করার চেয়ে, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেটিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মজুত ধ্বংস করা অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইরানও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে জানান, ইরানের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই চুক্তিতে সই করেছেন।

আরও পড়ুন: কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট

এদিকে চুক্তি সই হলেও ওয়াশিংটনের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি জানান, এই শান্তি চুক্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না। শত্রুপক্ষ যুক্তির ভাষা না বুঝলে তেহরান আবারও শক্তির ভাষায় জবাব দেবে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে ৪৮ দলের বিশ্বমঞ্চে ১৩টি মুসলিম দেশের রেকর্ড অংশগ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে ৪৮ দলের বিশ্বমঞ্চে ১৩টি মুসলিম দেশের রেকর্ড অংশগ্রহণ

শুরু হয়েছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ।

এবার আয়োজন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মতো নামি দেশগুলোতে।

এটি প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজনকৃত এই টুর্নামেন্ট বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করার প্রচেষ্টা করেছে।

তবে এই আসরের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো রেকর্ডসংখ্যক ১৩টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের অংশগ্রহণ, যা বৈশ্বিক ফুটবলের মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফুটবল দীর্ঘকাল ধরে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার আধিপত্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

কিন্তু গত দুই দশক ধরে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মুসলিম দেশগুলো ধাপে ধাপে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদেশি কোচিং স্টাফ, ইউরোপীয় লিগে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফলস্বরূপ, এই দেশগুলো এখন নিছক অংশগ্রহণকারী নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ১৩টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলো মরক্কো, সেনেগাল, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিসর, সৌদি আরব, কাতার, ইরান, ইরাক, জর্ডান, উজবেকিস্তান, তুরস্ক এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

এই দেশগুলো আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হলেও তাদের মধ্যে একটি বড় মিল হলো ইসলাম ধর্মাবলম্বী জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, যা অনেক ক্ষেত্রেই ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশের মধ্যে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে আফ্রিকান ও এশিয়ান মুসলিম দেশগুলোর এই সম্মিলিত উপস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ক্রীড়া অংশগ্রহণ নয়, বরং বৈশ্বিক ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন।

উত্তর আফ্রিকার মরক্কো, এই তালিকার সবচেয়ে আলোচিত দল।

এ দেশে প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ মুসলিম।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তারা প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্বের ফুটবল ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় রচনা করেছে।

তাদের সাফল্য কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল পরিকল্পনা, শক্তিশালী একাডেমি এবং ইউরোপে খেলা প্রবাসী খেলোয়ाड़দের সমন্বয়ের ফল।

আশরাফ হাকিমি, ইউসেফ এন-নেসিরি, সোফিয়ান আমরাবাত ও ব্রাহিম দিয়াজদের মতো তারকাপূর্ণ মরক্কো এখন বিশ্ব শিরোপার স্বপ্ন দেখছে।

অভিজ্ঞता ও সংগঠনের জন্য আফ্রিকার সবচেয়ে সংগঠিত ফুটবল কাঠামোর একটি হিসেবে তারা স্থানীয় ফুটবলের স্থায়ী শক্তি হয়ে উঠেছে।

সেনেগাল আফ্রিকার আরেক মহান শক্তি, যেখানে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম।

২০০২ সালে অভিষেক বিশ্বকাপে তারা তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়, যা আজও আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম বড় বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমানে সাদিও মানে, কালিদু কুলিবালি, এডুয়ার্ড মেন্ডির মতো ইউরোপীয় লিগের খেলা বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের নিকট গঠিত সেনেগাল নিয়মিত আফ্রিকান প্রতিযোগিতায় শিরোপার জন্য লড়াই করে।

শৃঙ্খলা ও শারীরিক শক্তির সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

প্রায় ৯৯ শতাংশ মুসলিম দেশ আলজেরিয়া এবার আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেছে দীর্ঘ বিরতির পর।

২০১৪ বিশ্বকাপে তারা জার্মানির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।

রিয়াদ মাহরেজ, ইসমাইল বেনাসের ও ইউসেফ আত্তালদের নিয়ে গঠিত দলটি এবার আরও পরিণত।

আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলের এই দলটি আক্রমণাত্মক ফুটবল ও কৌশলগত শৃঙ্খলার জন্য সুপরিচিত।

তিউনিসিয়ার পুরো জনসংখ্যাই মুসলিম।

এরা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আফ্রিকার স্থিতিশীল দলগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিত।

২০২২ সালে তারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।

তিউনিসিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের দলগত শৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষামূলক কৌশল।

যদিও তারা বড় তারকাপ্রবণ দল নয়, তবে সংগঠিত ফুটবল বিপরীত দিকে যেকোনো বড় দলকে সমস্যায় ফেলতে সক্ষম।

মিসরের জনসংখ্যার অধিকাংশই মুসলিম এবং এটি আফ্রিকার একটি ঐতিহ্যবাহী ফুটবল দল।

রেকর্ড সাতবার আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ী মিসর এবার নতুন প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে।

মোহাম্মদ সালাহ তাদের সবচেয়ে বড় তারকা, এবং লিভারপুলের এই ফরওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে মিসরের আক্রমণভাগ তৈরি হয়েছে।

আফ্রিকার সবচেয়ে সফল ক্লাব ইতিহাসের সঙ্গে জাতীয় দলের এই সংমিশ্রণ তাদের বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

প্রায় ৯৭ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ সৌদি আরব, এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম।

১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের তিরিশ বছর পর, তারা নিয়মিত বিশ্বমঞ্চে অংশ নিচ্ছে।

২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা ফুটবল বিশ্বে একটি চমক সৃষ্টি করে।

সেই জয় আজও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমানে সৌদি আরব ঘরোয়া লিগে বিপুল বিনিয়োগ করছে, যেখানে বিশ্বসেরা তারকারা খেলছেন।

এই বিনিয়োগ জাতীয় দলের শক্তি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কাতারের জনগণের একটি বড় অংশ মুসলিম, যা প্রায় ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি।

২০২২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।

এবার তারা প্রথমবারের মতো স্বাভাবিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে।

অ্যাসপায়ার অ্যাকাডেমির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কাতারের ফুটবল উন্নয়নের ভিত্তি।

আকরাম আফিফ ও আলমোয়েজ আলী মতো তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত দলটি এখন আরও পরিণত ও প্রতিযোগিতামূলক।

প্রায় ৯৯ শতাংশ মুসলিম, দেশ ইরান এশিয়ার সবচেয়ে অভিজ্ঞ দলগুলোর একটি।

এটি তাদের টানা বিশ্বকাপে উপস্থিতির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।

ইরানের ফুটবল সবসময়ই শৃঙ্খলা, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য পরিচিত।

মেহেদি তারেমি, আলিরেজা জাহানবখশ এবং এহসান হাজসাফির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটি এবার আরও দূর যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।

রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও তাদের ফুটবলে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

প্রায় পুরোপুরি মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইরাক, দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এসেছে।

যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যেও ইরাকের ফুটবল টিকে আছে, যা তাদের প্রত্যাবর্তনকে আরও অর্থবহ করে।

২০০৭ সালের এশিয়ান কাপ জয়ী দলের উত্তরসূরিরা এখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণের অপেক্ষায় আছে।

তাদের লক্ষ্য অন্তত গ্রুপ পর্বে কিছু ভালো অর্জন করা এবং বিশ্বকাপে প্রথম জয় অর্জন করা।

জর্ডানের প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম।

এই দেশটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

২০২৪ সালের এশিয়ান কাপের ফাইনালে পৌঁছে তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়।

মুসা আল-তামারির মতো ইউরোপীয় লিগে খেলা খেলোয়াড় জর্ডানের বৃহত্তম ভরসা।

সীমিত সম্পদ ও অবকাঠামোর মধ্যেও তাদের এই অর্জন বিশ্ব ফুটবলে অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

মধ্য এশিয়ার প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম দেশ উজবেকিস্তান এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে।

এটি তাদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন।

দীর্ঘদিন কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর, তারা অবশেষে বিশ্বমঞ্চে জায়গা পেয়েছে।

এলদোর শোমুরোদভ ও আবদুকোদির খুসানভদের সহযোগিতায় গঠিত দলটি ভবিষ্যতের এক শক্তিশালী এশিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গৃহীত হচ্ছে।

প্রায় ৯৯ শতাংশ মুসলিম দেশ তুরস্ক, ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এসেছে।

২০০২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে তারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।

হাকান চালহানওলু, আরদা গুলের ও কেনান ইয়িলদিজদের মতো প্রতিভাবান প্রজন্ম নিয়ে তুরস্ক এবার ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরতে চায়।

তাদের লক্ষ্য আগের সফলতার পুনরাবৃত্তি করা।

বলকান অঞ্চলের এই দেশের প্রায় ৫১ শতাংশ মানুষ মুসলিম।

এটি তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ।

সীমিত জনসংখ্যা ও সম্পদের সত্ত্বেও ইউরোপের কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে তাদের এই উঠানো একটি বড় অর্জন।

দেশটির ফুটবল ইতিহাস রাজনৈতিক বাস্তবতা ও যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

সুতরাং, তাদের প্রতিটি আন্তর্জাতিক সাফল্যই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী এই ১৩টি মুসলিম দেশের মধ্যে আফ্রিকা থেকে পাঁচটি, এশিয়া থেকে ছয়টি এবং ইউরোপ থেকে দুটি দেশ সেটিতে রয়েছে।

এই সকল দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা বহু ৭০০ মিলিয়নেরও বেশি মুসলিম জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি বড় পরিবর্তন আনয়ন করেছে।

ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার একচেটিয়া আধিপত্য ধীরে ধীরে বৈশ্বিক রূপ নিচ্ছে,

যেখানে আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মরক্কোর ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল, সেনেগালের ধারাবাহিক উত্থান, সৌদি আরবের আর্জেন্টিনা বধ, কাতারের সংগঠিত উন্নয়ন, ইরাক ও জর্ডানের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন এবং উজবেকিস্তানের অভিষেক এই বিশ্বকাপে মুসলিম বিশ্বের ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচনা করছে।

এই আসর কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি পরিবর্তিত বিশ্ব ফুটবল বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে নতুন শক্তিগুলো এখন শিরোপার লড়াইয়ে সক্রিয় অংশীদার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসিই সর্বকালের সেরা, সত্যটা মেনে নেওয়ার আহ্বান রোনালদোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


মেসিই সর্বকালের সেরা, সত্যটা মেনে নেওয়ার আহ্বান রোনালদোর

বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের পর ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিও তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে এই বিতর্কে পেলে, ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম উঠে আসে। কিন্তু এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রোনালদো নাজারিও বলেছেন, আর লুকিয়ে না থেকে সত্যটা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে। তাই মেসিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে তিনটি গোলই করে মেসি। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের সমতায় পৌঁছেছে। এই পথে তিনি কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গার্ড মুলার এবং রোনালদো নাজারিওকে ছাড়িয়ে গেছেন।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, মিরোস্লাভ ক্লোসার ও রোনালদোর মতো খেলোয়াড়দের পাশে নিজের নাম দেখতে অবশ্যই সম্মানের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলো কেবল পরিসংখ্যান। তিনি যে রোনালদোকে খেলতে দেখেছেন, তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

মেসির এমন মন্তব্যে রোনালদো নাজারিও মুগ্ধ হয়ে তার প্রশংসা করেছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, মেসি প্রতি মৌসুমে, এমনকি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ পারফর্ম করে যাচ্ছে। এটি একটি ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় রাত, যা ফুটবল ইতিহাসে চিরদিন লেখা থাকবে।

মেসির একের পর এক রেকর্ড ভাঙা নিয়ে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি বিস্মিত নন। তার ভাষায়, রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য। আর যে এসব রেকর্ড ভাঙছে, তা কোনো ফুটবলপ্রেমীকেই আর অবাক করে না। আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, আর মেসি তার নেতৃত্ব দিয়েই ইতিহাস তৈরি করে চলেছে।

বিশ্বকাপ মঞ্চে নতুন কীর্তি গড়ার পর মেসি আবারও ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। আর যখন রোনালদো নাজারিওর মতো কিংবদন্তি তার প্রশংসায় মুখরিত, তখন ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হওয়া স্বাভাবিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির নতুন সম্পর্কের সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির নতুন সম্পর্কের সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই ভারত সফরের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি ভারত সফর করবেন। এভাবেই দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সের এভিয়ান-লেস-বেইন্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর বসানোর পরিকল্পনার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা চাপের মধ্যে ছিল।

সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ওমান উপসাগরে তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বৈঠকে মোদি ওই ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেন। দুই নেতা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন, তবে জোরপূর্বক শ্রম ঠেকানোর বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আমদানি কর পরিকল্পনার কারণে আলোচনায় কিছু বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প মোদিকে ‘কঠিন আলোচক’ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং ভারতের দিকে দ্রুত সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ভারত আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি কেউ ওই ব্যক্তিকে আক্রমণ করে, আমরা এখানে থাকব।” তবে নতুন নেতৃত্ব আসলে পরিস্থিতি কেমন হবে, সে সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন।

জি-৭ বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব এবং ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে নিজের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে দিল্লি বিরক্ত হয়েছিল। ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, কাশ্মীর বিষয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ তারা গ্রহণ করবে না।

এদিকে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার প্রভাবও আলোচনায় এসেছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে এবং এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প ও মোদির এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের একটি নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, ফার্মেসি মালিক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ এম


মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, ফার্মেসি মালিক গ্রেপ্তার

সাভারের আশুলিয়া এলাকায় মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে ১১ বছরের এক শিশু ধর্ষণের ঘটনার শিকার হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে আশুলিয়ার কুমকুমারি বাজার এলাকায় এই পাশবিক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ফার্মেসি মালিক সিয়াম মোল্লাকে (২৬) স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত সিয়াম মোল্লা আশুলিয়ার কুমকুমারীর একজন বাসিন্দা এবং তিনি স্থানীয় একটি ফার্মেসির মালিক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটি তার অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে קুমকুমারি বাজারের ওই ফার্মেসিতে যায়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশুটি ঘরে না ফেরায় তার মা চিন্তিত হয়ে ফার্মেসিতে খোঁজ নিতে আসেন।

ফার্মেসিতে এসে তিনি মালিক সিয়াম মোল্লাকে দোকানের পেছনের কক্ষ থেকে বের হতে দেখতে পান। ঠিক সেই মুহূর্তেই ভেতর থেকে ভুক্তভোগী শিশুটি চিৎকার করে ওঠে। মেয়ের চিৎকার শুনে মা দ্রুত পেছনের কক্ষে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

কক্ষ থেকে উদ্ধারের পর শিশুটি তার মায়ের কাছে ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। এ সময় শিশুটির মায়ের আর্তনাদ এবং বিস্তারিত জানতে পেরে আশপাশের ক্ষুব্ধ লোকজন সেখানে ছুটে আসেন। তারা অভিযুক্ত ফার্মেসি মালিক সিয়াম মোল্লাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দিয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশকে খবর দেয় এবং পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মারফত খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখান থেকে অভিযুক্তকে আটক করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা করার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গ্রেপ্তারকৃত আসামি সিয়াম মোল্লাকে যথাযথ পুলিশ পাহারায় আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই জঘন্য ঘটনার পর কুমকুমারি বাজার ও আশেপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%