০৬:০৪ পি.এম
ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: দেশে আদৌ কোনো সরকার আছে কি না, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব করেন। ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য প্রস্তাবিত সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হলেও প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার অনুরোধ জানান। ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য তা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন।
তিনি কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহার করতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের উন্নয়ন নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন। তবে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের বহুভাষায় পারদর্শী করতে ল্যাংগুয়েজ ল্যাব স্থাপনের আহ্বান জানান। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়ারও আবেদন রাখেন।
এ সময় সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
আরও পড়ুন: জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়ে জাতি নতুন পথের দিশা পায়: রিজভী
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য পার্বত্য তিন জেলায় তাদের পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকা-ের আয় ও পাহাড়ি এবং সমতল অঞ্চলগুলির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদের বেতনভোগী আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও আমদানি শুল্ক হ্রাস নিয়ে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের চিংড়ি চাষের প্রসার ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য আমদানিতে সকল ধরনের আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন।
এছাড়া, স্থানীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা, ওষুধ ও স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত মধুর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং পিভিসি ও পেট রেজিনের ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। ফায়ার ডোর উৎপাদনের কাঁচামাল কোল্ড রোল্ড শিট এর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্কার প্রত্যাহারও অনুরোধ করেন।
বৈদ্যুতিক তার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের রিফাইন কপার আমদানির ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্কার প্রত্যাহার এবং ক্যাশনাট প্রসেসিং শিল্পের কাঁচামাল অপ্রক্রিয়াজাত বাদামের ১৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: আইসিএও অডিট টিমের প্রশংসা, বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি
জানান, স্থানীয়ভাবে এলইডি ল্যাম্প এবং প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বিল্ডিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানির রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বর্ধিত করার অনুরোধ করেন।
ব্যবসায়ীবান্ধব ভ্যাট ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও রৌপ্য অলংকারের ভ্যাটের হার পুনর্নির্ধারণ এবং কিছু ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্রিল্যান্সার ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার ৫শ কোটি টাকার বাজেট রেখেছে।’
এ ছাড়াও, আইডিয়াল ভ্যাট প্রদানের কিছু ক্ষেত্রে কো-এফিশিয়েন্ট দাখিলের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রীকে।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বাবা-মায়ের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাইকেলের ওপর সকল শুল্ক প্রত্যাহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলের নেতার প্রস্তাবটি আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিবেচনা করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এর আগে সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট বক্তব্যের প্রথমে অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
এরপর সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লবের চেতনা ও আজকের সংকট নিয়ে আলোচনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন