ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরগুনায় ১৪৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়


বরগুনায় ১৪৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়

বরগুনা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। দুর্গোৎসবের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মৃৎশিল্পীরা দেবী দুর্গার রূপকে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত রয়েছেন।

বরগুনা জেলায় এবারের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে ১৪৭ টি মণ্ডপে, যা গত বছরের তুলনায় ৯ টি বেশি। মৃৎশিল্পীরা শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছেন। রঙের প্রলেপ শেষে এখন প্রতিমাকে সর্বোচ্চ সুন্দর করে সাজানোর কাজ চলছে।

কাশফুলের উপস্থিতি জানাচ্ছে শরৎ এসেছে। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এবারে দেবী দুর্গা হাতিতে চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন। বছর ঘুরে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নতুন পোষাক কেনা, মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন এবং মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করার জন্য বিভিন্ন বয়সের মানুষ উৎসব উদযাপনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ৩ লাখ টাকার ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, গ্রেপ্তার ২

জেলার পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ, নৌ-বাহিনী, এসআরবি, আনসার এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন, পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক টিমও উপস্থিত থাকবে।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১৪৭ টি পূজা মণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে। বরগুনা সদর উপজেলায় ২৬ টি, আমতলী উপজেলায় ১৬ টি, তালতলী উপজেলায় ১১ টি, বেতাগী উপজেলায় ৩৪ টি, বামনা উপজেলায় ১৫ টি এবং পাথরঘাটা উপজেলায় ৪৫ টি মণ্ডপ থাকবে।

বরগুনা সার্বজনীন আখড়াবাড়ী মন্দিরের সভাপতি দিলীপ কর্মকার বাসসকে জানিয়েছেন, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে। তিনি জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখার সদস্য সচিব জয়দেব রায় বাসসকে জানিয়েছেন, এ বছর গত বছরের তুলনায় মন্দিরগুলোতে সরকারের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসন মণ্ডপগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সুষ্ঠ পরিবেশে ও সুশৃঙ্খলভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

আরও পড়ুন: বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ: রাশেদ খান

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বাসসকে বলেন, ১৪৭ টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নজরদারি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার বাসসকে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে জেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা ও আইপি ক্যামেরা থাকবে এবং মনিটরিং করা হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আলাদা পোষাক ও পরিচিতি কার্ড থাকবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১৬ অক্টোবর বোধন পূজার মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুরু হবে।

আরও পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি আইনসহ বিভিন্ন আইন সংশোধনের উদ্যোগ: তথ্যমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর জন্য পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


জাপানে সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর জন্য পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : কর্মব্যস্ততা ও ঘুমের অভাবে ভোগা জাপানে এবার একটি ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা কে সবচেয়ে দ্রুত ঘুমাতে পারেন এবং সবচেয়ে গভীর ও প্রশান্ত ঘুমে আচ্ছন্ন হতে পারেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করেন। এতে অংশ নেন কয়েক ডজন প্রতিযোগী।

সোমবার টোকিওতে গদি প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

‘ম্যাট রেস’ নামের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের ধরন ও মান পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ যন্ত্র পরিয়ে আরামদায়ক গদিতে শুয়ে পড়তে দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট ঘুমানোর এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর জন্য পুরস্কার রাখা হয়েছে ২০ লাখ ইয়েনের বেশি, যা প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন ডলারের সমান।

প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা তত্ত্বাবধানকারী ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রিইচিরো নাকামা জানান, ‘জাপানকে প্রায়ই ঘুমের অভাবে ভোগা একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এখানকার মানুষও অত্যন্ত কর্মঠ।’

একটি মৃদু আলোয় সাজানো কক্ষে প্রতিযোগীরা মাথায় পর্যবেক্ষণযন্ত্র লাগিয়ে ঘুমান। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিছানায় নরম খেলনা বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

নাকামা আরও বলেন, ‘ঘুমকে এ ধরনের একটি আয়োজনে পরিণত করার মাধ্যমে মানুষকে একসঙ্গে ঘুমানোর সুযোগ করে দেওয়া এবং ঘুমের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব বলে আমি মনে করি।’

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের মানুষ দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ঘুমান। ওইসিডির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ সময় ছিল সবচেয়ে কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যাতায়াতে বেশি সময় ব্যয় ও রাতের ব্যস্ত বিনোদন জীবন জাপানিদের কম ঘুমানোর অন্যতম কারণ।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৩২ বছর বয়সী চিসাতো হোন্ডা এএফপিকে জানান, ‘মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। ইশ্, যদি আরেকটু বেশি সময় ঘুমাতে পারতাম!’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি ছিল আনন্দের একটি প্রতিযোগিতা।’

কত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া যাচ্ছে এবং ঘুম কতটা গভীর ও প্রশান্ত হচ্ছে—এই দুই বিষয় বিবেচনা করে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সুইমি বলেন, ‘আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই। তাই পুরস্কারের অর্থ দিয়ে বাসা বদলের খরচ মেটানোর কথা ভাবছি।’

তিনি আরও জানান, ‘আমি রাজকুমারীর মতো একটি বিছানাও চাই। তাই সেই বিছানাটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোটালীপাড়ায় সরকারি খাল দখল করে বাড়ি নির্মাণ, প্রশাসন উদ্ধার করতে পারেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


কোটালীপাড়ায় সরকারি খাল দখল করে বাড়ি নির্মাণ, প্রশাসন উদ্ধার করতে পারেনি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় লোহারংক খাল দখল করে কাঁচা-পাকা বাড়ি-ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কিছু প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। প্রশাসন মাঠে নেমে দখলকৃত খাল শনাক্ত করলেও, দখলদারদের উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লোহারংক গ্রামের মনির বিশ্বাস, সেলিম বিশ্বাস, বাবুল মোল্লা, ইমারত মোল্লা, আমজাদ মোল্লা, মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া, সেকেন্দার দাড়িয়া, আউয়াল দাড়িয়া, মানির দাড়িয়া, কাসেম দাড়িয়া, ইব্রাহিম দাড়িয়া, কিবরিয়া বিশ্বাস, রতন দাসসহ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সরকারি খাল ভরাট করে দখল করে নিয়েছেন। দখলকৃত খালের ওপরে কাঁচা-পাকা বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।

সম্প্রতি, খালটি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে লোকারংক গ্রামের ফরিদ দাড়িয়াসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মাঠে নেমেছে খালটি উদ্ধারের জন্য।

গত কয়েক দিন ধরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ সরেজমিনে গিয়ে খালটি শনাক্ত করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত খালটি দখলমুক্ত করতে পারেনি। কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও খালটি দখলমুক্ত না হওয়ায় আবেদনকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে আবেদনকারী ফরিদ দাড়িয়া বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে লোহারংক খাল দখল করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘরবাড়ি তুলে ভোগদখল করে আসছে। খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই গ্রামটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তাই আমরা গ্রামবাসী মিলে খালটি দখলমুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আবেদন করি। আমাদের আবেদনের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন মেপে খালটি শনাক্ত করে লাল নিশান দিয়েছে। এরপর কয়েক দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত খালটি দখলমুক্ত করতে পারেনি।’

দখলদার মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া বলেন, ‘আমার দলিলের জায়গার ওপর দিয়ে গ্রামের লোকজন সরকারি রাস্তা নিয়ে আমাকে খালের জায়গা দিয়েছে। এখন রাস্তার জায়গা আমাকে ছেড়ে দিলে আমি খালের জায়গা ছেড়ে দেব।’

অপর দখলদার মনির বিশ্বাস বলেন, ‘খালের জায়গা দখল করে আমি বাড়ি-ঘর নির্মাণ করেছি। প্রশাসন থেকে আমাকে যখন বলা হবে, আমি তখন খালের জায়গা ছেড়ে দেব।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীন জানান, খালটি মেপে জায়গা নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে। পরবর্তী সময়ে উচ্ছেদের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদির ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলে ফাটল, চ্যালেঞ্জের মুখে রাজনৈতিক কৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


মোদির ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলে ফাটল, চ্যালেঞ্জের মুখে রাজনৈতিক কৌশল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক কৌশল বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। বিরোধীদের দুর্বল করা, গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের কৌশল, যা তিনি এতদিন সুফল পেয়েছেন, ক্রমবর্ধমান জন-অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনপ্রিয় নির্বাচিত নেতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। বৈশ্বিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন নেতা হিসেবেও তার ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘকাল ধরে রয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, মোদির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থার প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। এর ফলে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বিভক্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে, স্বাধীন গণমাধ্যমের কাজের পরিসর সংকুচিত হয়েছে এবং বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মীরা কারাবন্দি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী মোদি সরকারের এই রাজনৈতিক কৌশলের সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের সহিংস পরিস্থিতির ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারের কঠোর শাসনপদ্ধতি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

তরুণদের আন্দোলনে বাড়ছে চাপ

দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের নেতৃত্বে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক অসন্তোষ নতুন মাত্রা পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের কারণে আন্দোলন জোরালো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনা সরকারের সমালোচনা আরও বাড়িয়েছে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের প্রতিবাদ করার অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে মোদি সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে কতদিন জনঅসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব?

পুরোনো কৌশল কি আর যথেষ্ট নয়?

মোদির রাজনৈতিক সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল শক্তিশালী নেতৃত্বের ভাবমূর্তি, বিরোধী দলগুলোর দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর সরকারের প্রভাব। কিন্তু নতুন প্রজন্মের আন্দোলন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত প্রতিবাদ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সেই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মোদির জন্য আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিরোধিতা মোকাবিলায় আরও কঠোর হওয়ার পরিবর্তে সরকারের সামনে জনঅসন্তোষের কারণগুলো সমাধান করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে।

রাজধানীর সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বিক্ষোভ শুধু আইনশৃঙ্খলার সংকট নয়; বরং মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনারও একটি পরীক্ষা। জনসমর্থন ধরে রাখা, বিরোধীদের মোকাবিলা করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দেওয়া—এই তিনটি বিষয় এখন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা মোদির ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনৈতিক ছক ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে কতটা টিকে থাকবে, তা এখন ভারতের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সূত্র: দ্য জাপান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শঙ্কা, ২০২৭ এশিয়ান কাপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শঙ্কা, ২০২৭ এশিয়ান কাপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

২০২৭ সালের এশিয়ান কাপের আয়োজক সৌদি আরবের পরিস্থিতি নিয়ে ‘গভীর নজর’ রাখছে ফুটবল অস্ট্রেলিয়া। এই তথ্যটি ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলার পর প্রকাশিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এএফপিকে এই বিষয়টি জানায়।

সোমবার, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আল নাসরের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়েছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে আসছিল এবং সেটি তারা ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে এশিয়ার মহাদেশীয় সেরা টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি দেশটি হুতিদের একের পর এক হামলার শিকার হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে তেলের স্থাপনা, ট্যাংকার এবং পরিবহন কেন্দ্র। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এশিয়ান কাপ শুরু হতে এখন তিন মাসেরও কম সময় বাকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফুটবল অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের পরিস্থিতির ওপর ‘গভীর নজর’ রাখছে।

সংস্থাটির একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়, কর্মী ও সমর্থকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অভিজ্ঞ নিরাপত্তা দল সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং তারা নিয়মিত খবর জানাচ্ছে। জাতীয় দলের প্রতিটি ক্যাম্পের পরিকল্পনায় আমরা ঝুঁকি যাচাই করি। জানুয়ারির প্রস্তুতিতেও এটি আমাদের প্রধান মনোযোগের বিষয় হবে।’

মুখপাত্র আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল কর্তৃপক্ষ এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। টুর্নামেন্ট নিয়ে এএফসির পরিকল্পনা জানতেই এই যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এএফপি এ বিষয়ে এএফসির মন্তব্য জানতে চেয়েছে। এশিয়ান কাপ ৭ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা এবং খেলা অনুষ্ঠিত হবে রিয়াদ, জেদ্দা ও আল খোবারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%