প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরগুনা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। দুর্গোৎসবের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মৃৎশিল্পীরা দেবী দুর্গার রূপকে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত রয়েছেন।
বরগুনা জেলায় এবারের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে ১৪৭ টি মণ্ডপে, যা গত বছরের তুলনায় ৯ টি বেশি। মৃৎশিল্পীরা শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছেন। রঙের প্রলেপ শেষে এখন প্রতিমাকে সর্বোচ্চ সুন্দর করে সাজানোর কাজ চলছে।
কাশফুলের উপস্থিতি জানাচ্ছে শরৎ এসেছে। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এবারে দেবী দুর্গা হাতিতে চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন। বছর ঘুরে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নতুন পোষাক কেনা, মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন এবং মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করার জন্য বিভিন্ন বয়সের মানুষ উৎসব উদযাপনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
জেলার পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ, নৌ-বাহিনী, এসআরবি, আনসার এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন, পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক টিমও উপস্থিত থাকবে।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১৪৭ টি পূজা মণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে। বরগুনা সদর উপজেলায় ২৬ টি, আমতলী উপজেলায় ১৬ টি, তালতলী উপজেলায় ১১ টি, বেতাগী উপজেলায় ৩৪ টি, বামনা উপজেলায় ১৫ টি এবং পাথরঘাটা উপজেলায় ৪৫ টি মণ্ডপ থাকবে।
বরগুনা সার্বজনীন আখড়াবাড়ী মন্দিরের সভাপতি দিলীপ কর্মকার বাসসকে জানিয়েছেন, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে। তিনি জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখার সদস্য সচিব জয়দেব রায় বাসসকে জানিয়েছেন, এ বছর গত বছরের তুলনায় মন্দিরগুলোতে সরকারের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসন মণ্ডপগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সুষ্ঠ পরিবেশে ও সুশৃঙ্খলভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বাসসকে বলেন, ১৪৭ টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নজরদারি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার বাসসকে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে জেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা ও আইপি ক্যামেরা থাকবে এবং মনিটরিং করা হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আলাদা পোষাক ও পরিচিতি কার্ড থাকবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ অক্টোবর বোধন পূজার মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুরু হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন